শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০১৪

আমাদের JUGBD

জাভা একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, বলা ভাল হাতির ন্যায় মস্ত বড় বিশাল একটা ল্যাঙ্গুয়েজ। বর্তমান সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে একটা বড়সড় জায়গা জুড়ে বসে আছে এই জাভা (Java) নামের ল্যাঙ্গুয়েজটি।

কথায় আছে মানুষের প্রয়োজনেই একেকটা প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটে, সেরকম একটা সময়ে মানুষ অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রগ্রামিং এর প্রয়োজনীয়তা বোধ করল, এবং জাভার সূচনা ঘটলো। এবং যেটা হল … জন্মের শুরু থেকেই জাভা দুনিয়াজুড়ে প্রগ্রামারদের মন জয় করে নিল। কিছুদিন পরে দেখা গেল কিছু প্রোগ্রামার মিলে ধোঁয়া উড়ানো কফির কাপ হাতে জাভা নিয়ে বকর বকর করতেছে। আস্তে আস্তে দেখা গেল, জাভা নিয়ে এরকম প্রোগ্রামারদের মধ্যকার আলোচনা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলো। ব্যাপারটাকে একটা প্রতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য এই ধরনের আলোচনার একটা কেতাদুরস্ত নামও আবার দেওয়া হল, Java User Group (JUG). যেহেতু জাভার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকলো, তো, প্রোগ্রামাররাও নিজেদের মধ্যে এইটা নিয়ে বেশি বেশি কথা বলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল। এরফলে যেটা হল, জাভার সাথে সাথে “জাভা ইউজার গ্রুপ” (JUG) ব্যাপারটাও দুনিয়াতে খুব অল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে গেল।

আমি যেই কথাগুলি বললাম উপরে, কিছুটা কল্পনা মিশ্রিত হলেও, আসলে কিন্তু এই টাইপের কিছুই ঘটেছিল। বিশ্বাস হচ্ছে না ? গুগলে সার্চ করে দেখে আসুন JUG এর উপর। খুব পাঠ্যপুস্তকের ভাষার মত করে “জাভা ইউজার গ্রুপ” সম্পর্কে বললে যেটা বলা যায়, এটা হল জাভা ইউজ করে এমন সব প্রোগ্রামারদের একটা কমিউনিটি যারা রেগুলার মিটিং অ্যা্রেঞ্জ করে, নিজেদের মধ্যে মেইল চালাচালি করে, অথবা অনলাইনে কোন গ্রুপ করে সক্রিয় থাকে। এই কমিউনিটির মধ্যে মানুষজন জাভার বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আলোচনা করে, জাভা নিয়ে গল্প করে, কাজ করতে গিয়ে কে কি ধরনের সমস্যায় পরেছিল … তা নিয়ে বকবক করে, নিজেরা কিছু ওপেন সোর্স প্রজেক্ট খুলে সবাই মিলে কাজ করে … এইটাইপের আরকি !

মাসুম ভাই, জাভা মিট-আপ ২.০ এর অনুষ্ঠানে।

যেহেতু আমাদের দেশের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিগুলিতে গনহারে জাভা ব্যাবহার করা হয়ে থাকে, সো, আমরাও আমাদের দেশে এরকম একটা সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। সেখান থেকেই Java User Group Bangladesh (JUGBD) নামের একটা সংঠনের উৎপত্তি ! প্রকৃতপক্ষে JUGBD র পুনর্জন্ম হয়েছে কথাটা বলা ভাল, কারন বেশ কয়েক বছর আগে থেকে এটার কিছু কার্যক্রম শুরু হলেও … মাঝের সময়টাতে এর সব ধরনের কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে যায়। আমরা কিছু পিচ্চি-পুচ্চি টাইপের মানুষ বড়দের সমর্থন নিয়ে JUGBD র কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। মজার ব্যাপার হল, সংঠনটির বয়স মাত্র কয়েক মাস হলেও, এরই মধ্যে আমরা দুই দুইটি সফল আলোচনা সভার আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছি। এই দুই দুইটি সফল মিটিং আয়োজনের পিছনে যারা অকুন্ঠন অবদান ও সমর্থন রেখেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই এই লেখার মাধ্যমে।

প্রথম মিট-আপের পরে গ্রুপ ছবি, স্থানঃ ফ্রেপড হল।

আমাদের প্রথম মিটি-আপ ৫ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে পলাশীর মোড়ে “ফ্রেপড হলে” অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মুলত এই মিট-আপের উদ্দেশ্যে ছিল নিজেদের মধ্যের পরিচিতি বাড়ানো। পাশাপাশি JUGBD এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, একটা কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহন, কিভাবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো যায় … এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। Therap Services এর বজলুর রহমান রোকন সুচনা বক্তব্য দিয়ে এদিনের আলোচনা শুরু হয়। এরপর Therap Services এর তাহসিন ভাইয়া এবং Widespace থেকে আবদুল্লাহ ভাই জাভার বিভিন্ন টেকনোলজী নিয়ে আলোচনা করেন।

দ্বিতীয় মিট-আপের পরের গ্রুপ ছবি, স্থানঃ থেরাপ বিডি।

JUGBD এর দ্বিতীয় মিট-আপটি আয়োজন করা হয়েছে Therap Services এর পক্ষ থেকে ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে। Therap একটি সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যারা শুধুমাত্র জাভার টেকনোলজী নিয়ে কাজ করে। এরকম একটি প্রতিষ্ঠান যে “জাভা ইউজার কমিউনিটি” র জন্য কিছু একটা করবে, সেটা সহজেই অনুমেয়। দ্বিতীয় এই মিটিংটা ছিল আগের মিট-আপের থেকে অনেক বেশি গোছানো। এই অনুষ্ঠানে তিনজন বক্তা প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন। Vantage Labs থেকে মোজাম্মেল ভাই “Laravel” এর উপর, Therap Services থেকে মাসুম ভাইয়া “JVM Diagnostics” এর উপর এবং Widespace থেকে আবদুল্লাহ ভাই “Cassandra” এর উপর প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে সবাই মিলে ওপেন সোর্স প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করেন। আশা করে যাচ্ছে JUGBD গ্রুপ থেকে অল্পসময়ের মধ্যেই একটা ওপেন সোর্স প্রজেক্টের কাজ শুরু করা হবে।

JUGBD মিট-আপ ৩.০

JUGBD পরবর্তী মিট-আপের আয়োজন করার ঘোষনা দিয়েছে। এবারের মিট-আপ আয়োজনের দ্বায়িত্ব নিয়েছে Widespace। এখানে উল্লেখ্য Widespace ও কেবলমাত্র জাভা টেকনোলজী নিয়ে কাজ করে। ২২ মার্চ, ২০১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে এই অনুষ্ঠানটি। যারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগ্রহী, তারা এই লিঙ্কে এই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাবেন।

যারা জাভা নিয়ে কাজ করতে এবং আমাদের কমুনিটিতে জয়েন করতে আগ্রহী … তারা আমাদের ফেইসবুকের গ্রুপ JUGBD তে সদস্য হতে পারেন।

মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০১৪

নিখোঁজ বিমানের জন্য

কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংগামী বিমানের হারিয়ে যাওয়াটা আমার বাস্তব জীবনে দেখা বড় মাপের ক্লাইমেক্সগুলির মধ্যে একটা হয়ে থাকবে। কেন নয় বলুন ? কিছু ইন্টারেষ্টিং পয়েন্ট এরকম হতে পারে,

১. ওই বিমানটিতে দুই জন ভুয়া পাসপোর্টধারী ব্যাক্তি ছিলেন, যেই পাসপোর্ট দুইটি বছরখানিক আগে হারিয়ে গিয়েছিল থাইল্যান্ড থেকে। এই ভুয়া পাসপোর্টধারী ব্যাক্তি আবার প্রায় একই সময়ে পাশাপাশি দুইটি সিটের টিকেট কেটেছিলেন।
২. বিমানটি যখন থেকে রাডার থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তখন বিমানটি মাটি থেকে প্রায় ৩৫হাজার মিটার উপরে ছিল ... কোন দুর্ঘটনায় পরলে সেটি কোন বিমানবন্দরের সাথে যোগাযোগ করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিল।
৩. বিমানটি হারিয়ে যাওয়ার মুহুর্তে এটি তার যাত্রা পথ থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল।
৪. ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করে উড়োজাহাজকে পুরোপুরি রাডার থেকে গায়েব করে দেয়া যায়। আর হারিয়ে যাওয়া মালয়েশীয় এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটিতে এই প্রযুক্তি নিয়ে সরাসরি কাজ করছেন এমন ২০ জন যাত্রী ছিলেন।

ঘটনার পিছনে যদি আসলেই কোন ঘটনা ঘটে থাকে, আমাদের মত সাধারন মানুষের সেটা হয়ত কখনোই জানা হবে না। হয়ত MI6 বা CIA এর মত বড় বড় এসপিওনাজ এজেন্সীর ঘাগু গোয়েন্দারা এটার সাথে জড়িত। বা কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সম্পৃক্ততা থাকতেই বারে। হয়ত যা ভাবছি তার কিছুই হয়নি ... কোন কারনে বিমানটি হয়ত ক্রাশ করেছে। এমন যায়গায় ধ্বংসাবশেষ পরেছে, যেটা হয়ত উদ্ধারকারী দল খুঁজে পাচ্ছে না। হয়তবা এই রহস্যের কোন কিনারাই হবে না কখনো। ১০/১২ বছর পরে এই ঘটনা নিয়ে হয়ত সুপার ক্রাইম-থ্রিলার টাইপের কোন মুভি বানাবে কেউ ... আমরা হয়ত কোন একটা ছুটির দিনের অলস বিকেলে সেটা দেখে শিহরিত হব।

কিন্তু এই অনেক "হয়ত"র মধ্যে আমি কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না। হারিয়ে যাওয়া এই বিমানের যাত্রীদের পরিবারগুলির কথা ভাবলেই মন খারাপ হচ্ছে। অনিশ্চয়তা একটা খারাপ অবস্থা। একটা মানুষ হারিয়ে যাওয়া আর মরে যাওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। ... হে বিমান, ফিরে এসো। 


রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৩

কুরবানীর ঈদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা !!

যখন ছোট ছিলাম, স্কুলে পড়তাম ... তখন ঈদ কিংবা কুরবানীগুলি ছিল আমাদের জন্য অনাবিল আনন্দের উৎস। সব মামাতো খালাতো ভাই বোনেরা মিলে হই চই, আত্মীয় স্বজনের বাসায় ঘুড়াঘুড়ি, টিভিতে ঈদের প্রোগ্রাম দেখা ... কত্ত মজা করে যে সেই দিনগুলি পার করতাম। দেখা যেত, কোন খালার কিংবা মামার বাসায় দাওয়াত ... আমরা সব কাজিনরা মিলে দল বেঁধে সেখানে যাচ্ছি, মুটামিটি মিছিলের আকারে ... আর সেই মিছিলের নেতৃত্বে সব সময়েই থাকত আমাদের বাদল মামা। কুরবানী উপলক্ষে অনেক মজার মজার অভিজ্ঞতা ছিল ছোট্ট বেলার। সেখান থেকে কয়েকটি বলছি।

কুরবানীর ঈদ নিয়ে একটা মজার কথা মনে পরে গেল। তখন অনেক ছোট আমি, পটুয়াখালীতে থাকি। আমাদের বাসার কাছের মোড়ের দোকানে কিছু কিনতে গিয়েছিলাম। সন্ধ্যা হয় হয় ... এরকম অবস্থা। এক লোক হাট থেকে গরু কিনে ফিরছিল। তো রাস্তার পাশের চায়ের দোকান থেকে এক লোক গরুর দাম জিজ্ঞেস করতে গিয়ে উচ্চস্বরে বলে ফেলল, "ও ভাই গরু, দাম কত !" এই পর্যন্ত ঠিক ছিল, রাস্তার কাছের সবাইই বুঝতে পারছিল লোকটা ভুল করে বলে ফেলছে। এর মধ্যেই যেই ব্যাটা গরু নিয়ে ফিরছিল তার স্বপ্রতিভ উত্তর, "আরে ভাই ছাগল, পচিঁশ হাজার টাকা"।

আরেকটা মজার অভিজ্ঞতা হইছিল কুরবানীর হাটে গিয়ে। সেবার আমি, আব্বা আর আমাদের এলাকার একজন ভদ্রলোক গিয়েছিলাম কুরবানীর হাটে। ওই ভদ্রলোকের নাম মফিজুর রহমান। তিনি আমাদের পটুয়াখালী সরকারী কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন বিধায়, সবাই উনাকে সম্মান করে "মফিজ স্যার" বলে ডাকতো। তো হাটে গিয়ে সেই মফিজ স্যার প্রথমেই একটা ছাগল কিনে আমার দ্বায়িত্বে সেটা রেখে হাটের ভিতরে আব্বাকে নিয়ে গেল গরু কিনতে। আমি বেশ ছোট ছিলাম তখন, তাই আমাকে আর ভিতরে নিয়ে যায় নাই। তো ভাল কথা ... কিছুক্ষন পরে উনাদের গরু কেনা শেষ হলে, আব্বা আমার খোঁজে হাটের বাইরে এসে দেখে অনেক মানুষের ভিড়। এই ভিড়ের মধ্যে না ঢুকে সে গেল গরুর কাছে। ভাবছিল, গরু নিয়ে বাসায় ফেরার পথে আমাকে একসাথে নিয়ে নিবে। এখানে উল্লেক্ষ্য, গরু ছিল আবার ওই মফিজ স্যারের কাছে রাখা। এখন আব্বা ভিতরে গিয়ে মফিজ স্যার কেও খুঁজে পাচ্ছিল না। শেষে আব্বা হাটের মধ্যে যারা মাইকে ঘোষনা দিচ্ছিল, তাদের কাছে গিয়ে বলল, "ভাই একটা ঘোষনা দেন তো। বলেন, রকিব এবং মফিজ স্যার ... আপনারা মাইকের কাছে চলে আসেন" ... ভীড় আর কোলাহলের মধ্যে ওই মাইকের ব্যাট্যা কি শুনল কে জানে। সে ঘোষনা দিল, "রকিব স্যার আর মফিজ, আপনারা যেখানে থাকুন না ক্যানো ... এখনই মাইকের কাছে চলে আসুন !" এই ঘোষনা যখন মাইকে বাজতেছিল, ততক্ষনে মফিজ স্যার আমাকে খুঁজে পেয়েছিল। ঘোষনাটি শুনার পরে উনার যে চেহারা হয়েছিল না ... দেখার মত !

আরেকবার আমরা একটু আগেই কুরবানীর গরু কিনে ফেলেছিলাম। তখন বোধহয় আমি ক্লাস এইটে পড়ি। রোজ বিকেলে আমিই গরু নিয়ে মাঠে যেতাম, ঘাস খাওয়াতে। খুব কাউবয় কাউবয় মার্কা ভাব নিয়ে গরু আনা নেওয়া করতাম। একদিন সন্ধ্যার সময় বাসায় ফিরছিলাম গরু নিয়ে। পাশ থেকে দুইটা মেয়ে যাচ্ছিল রিক্সায় করে। একজন হুট করে বলে উঠল, "দেখ ! দেখ ! একটা সুন্দর রাখাল বালক !" ... আমরা "ইভ টিজিং" নিয়ে অনেক সামাজিক আন্দোলন করি, অথচ সেদিন বিকেলটাতে আমি নিজেই "অ্যাডাম টিজিং"এর শিকার হয়েছিলাম। কাউকে বলা হয়নি সে কথা। :P

এরবাইরে বলতে গেলে, ফিরোজ মামার কথা বলতে হয়। একেবারে পিচ্চিকালে কেউ যখন সালামী দিত না, তখন মামা আমাদের অফার করত, "আধা ঘন্টা কোন কথা না বলে থাকতে পারলে পঞ্চাশ টাকা" ! কি যে কষ্ট করে পঞ্চাশ টাকা সালামী পাইতে হইত ... উফফ !

ইন্টারমিডিয়েটে ঢাকায় পড়তে আসার পর থেকেই ঈদের দিনগুলির ম্যজিক কমতে থাকে ধীরে ধীরে। ঈদের পরপরই ঢাকায় ফেরার ব্যাস্ততা, অনেক কাজিনের ঈদের ছুটিতে পটুয়াখালীতে না যাওয়া এটার জন্য অনেকাংশে দায়ী। আর এখন চাকুরীর সুবাদে ঈদ হয়ে গেছে "বর্ধিত সপ্তাহান্ত" (এক্সটেন্ডেড উইকেন্ড) ! সব শেষে আম্মা আমেরীকাতে চলে যাওয়ার পরে, আমাদের আসলে ঈদ বলে কিছুই নেই ! আহারে, হারিয়ে ফেললাম স্বপ্নীল সেই ঈদের দিনগুলি ! :(

রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৩

স্বপ্নালু আমি

"ছোট্ট একটা বাড়ি থাকবে তার, শহরে নয়, শহরতলিতে; যেখানে লাল কাঁকরের রাস্তা আছে আর আছে নীল আর সবুজের সমারোহ। মাঝে মাঝে দু-পায়ে কাঁকর মাড়িয়ে বেড়াতে বেরুবে ওরা। সকালে কিম্বা সন্ধ্যায়। রাস্তায় লোকজনের ভীড় থাকবে না। নিরালা পথে মন খুলে গল্প করবে ওরা, কথা বলবে।" - শেষ বিকেলের মেয়ে by জহির রায়হান

এইরকম একটা স্বপ্ন দেখতে পারলে কাজে লাগত। প্রবলেম হইল, এখন আর ওরকম শহরতলি পাওয়া যাবে না । আর নিতান্তই পাওয়া গেলেও, সেখানটায় "দু-পায়ে কাঁকর মাড়িয়ে বেড়াতে পারব" ... এমনটা তো মনে হয় কখনোই হবার নয় ! "বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ" বিভাগের সৌজন্যে কবে সব রাস্তা পাকা হয়ে গিয়েছে ! ওরকম শহরতলি জহির রায়হানের ওই সময়টাতেই (ষাটের দশকের বাংলা) ছিল!

আমি স্বপ্ন দেখি, গুলশান বনানীর দোতালা যেই সুন্দর সুন্দর বাড়ীগুলি আছে, ওইরকম একটা বাড়ী বানাবো। সামনে থাকবে বিশাল লন, তাতে সারি সারি সবুজ ঘাস কিংবা ফুলের বাগান ... ছুটির দিনে মেয়েকে সাথে নিয়ে বাগানে কাজ করবো। পিছনে কিংবা ছাদে একটা সুইমিংপুল, জায়গা একটু বেশি পাওয়া গেলে একটা গলফ কোর্সও রাখা যাইতো। থাকবে বিশাল একটা রুম আর একটা জায়ান্ট স্ক্রিন, সপ্তাহান্তে বন্ধু বান্ধব নিয়া সেটায় কারেন্ট রিলিজের মুভিগুলি দেখবো খুব মজা করে। মাঝে মাঝে গভীর রাতে গাড়ীতে করে সব বন্ধু-বান্ধব মিলে যাব মাওয়া কিংবা আরিচা (এখন গেলে লোকাল বাসে ঝুলে ঝুলে যাওয়া লাগে, আরাম পাই না !) ... অথবা কোন এক চাদঁনী রাতে প্রিয় কাউকে পাশে বসিয়ে লং ড্রাইভে। একটা ভাল মানের এয়ারগান থাকবে, শীতে সেটা নিয়ে যাব বন্ধু সাদের দেশের বাগান-বাড়ীতে ... শিকার করতে। শেষ ইচ্ছা হিসেবে থাকবে নিজের একটা ইয়ট! টেকনাফ থেকে সেটায় করে সেইন্ট মার্টিন যাব। ... সমস্যা হইল এই সব স্বপ্ন কখনো পুরন হবার নয় ! মুভি দেখা বাদ দিতে হবে মনে হচ্ছে !

Zaman Shajib কে ধন্যবাদ, শহরতলির কথা আরেকবার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য !
 — feeling স্বপ্নালু আমি !

সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মেসুত ওজিলের রিয়াল মাদ্রিদ থেকে চলে যাওয়া !

আমি যখন এই লেখাটা লিখছি তখনও পর্যন্ত অফিশিয়াল নিউজ আসে নাই, কিন্তু মুটামুটি নিশ্চিত, মেসুত ওজিল রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনালে জয়েন করছে। ট্রান্সফার ফি খুব সম্ভবত ৪০ মিলিয়ন ইউরো। খবরটা নিঃসন্দেহে আমার জন্য হতাশাজনক ছিল। পার্সোনালী আমি ওজিলের একজন ভক্ত। আর রিয়ালে ওজিল-রোনালদো জুটির কথা কে না জানে। যাইহোক !

রিয়ালের জার্সি গায়ে এভাবে মেসুত ওজিলকে আর দেখা যাবে না !

ওজিলের ট্রান্সফার উপলক্ষ্যে অন্য দলের অনেক সাপোর্টারকেই ডুগডুগি বাজাতে দেখছি। কিছু বলার নাই ! শান্তি পাওয়ার মত উপলব্ধি এইটাই যে, ওজিলকে ওরা এতদিন ভয় করত ... এইটা আজকে প্রকাশ পাইল। CR7 টিম ছাড়লে তো মনে হয় পাড়ায় মহল্লায় মিলাদের হিড়িক পইরা যাবে ! রিয়ালের সাপোর্টার অনেকের মধ্যেও এটা নিয়ে বেল কে জড়িয়ে অনেক মন্তব্য করতে দেখলাম। ব্যাপারটা দুঃখজনক। প্রিয় মেতসু ওজিলের ট্রান্সফার যেমন দুঃখজনক, তেমনি বেলকে এর সাথে জড়ানোও দুঃখজনক।

যাকগা, রিয়ালের এখন যে অবস্থা ... তাতেও অন্য দলগুলির সামনে খবর আছে (অন্তত পানিতে ফালায়ে দিতে পারবে না) বলে রাখা যায়। ফরোয়ার্ডে রোনালদো (প্রধান সেনানী, নতুন করে কিছু বলার নাই। রিয়ালের হয়ে ২০২ ম্যাচে ২০২ গোল করেছে এখন পর্যন্ত), বেনজামো (রিয়ালের স্ট্রাইকার হিসেবে আমার পছন্দ নয়), বেল(দেখা যাক কেমন করে রিয়ালে এসে, তবে পিছনে মড্রিচ আর পাশে রোনালদো থাককে ... খারাপ কইরা পালাইতে পারার কথা না ! :P), মারিয়া(যেইদিন ঠিকঠাক খেলে, সেইদিন কাঁপায়ে দেয় ... যেদিন খারাপ খেলে সেইদিন নিজেই কাঁপতে কাঁপতে পইরা যায়। তবে এই মারিয়াকে আমি দেখতে পারি না একটা কারনে, হুদাই প্যাঁচায়, খালি পইরা যায় মাঠে)। ... এর পিছনেই ইসকো (ইসকো তো দেখি ডিসকো মার্কা খেলা দেয় আজকাল), মড্রিচ (প্রধান হাতিয়ার গতি, সামনে বেলকে পেলে অসাধারন হওয়ার কথা, আর ইসকোও দেখলাম বেশি গতি নিয়ে খেলে ... ভাল জুটির প্রত্যাশায় রইলাম), খেদিরা(ধীর-স্থির, ডিফেন্সিভ মিডের বস), আলনসো(বয়স হয়ে গেছে, তারপরও ভাল সার্ভিসের অপেক্ষায়) ... এর থেকে একটা আক্রমন ভাগে আর কি চাই ? আমি আশাবাদী !


গোল উৎযাপনের এক মুহুর্তে ওজিল আর রোনালদো। এই জুটিকে রিয়ালে আর এভাবে দেখা যাবে না !
আমরা অনেক মিস করবো এই জুটিকে।

অনেকে বলছেন, ওজিলকে রেখে মারিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার কথা। ব্যাপারটা নিয়ে সীদ্ধান্ত দিয়েছেন একমাত্র কোচ। কোচকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে মারিয়া অথবা ওজিল। কোচ মারিয়াকে রাখার কথা বলেছেন, সো আশা করা যায় মাদ্রিদ নিয়ে আজেবাজে কথা বলার আগে একটু ভাববেন। এক বেলকে আনতে অনেক টাকা বেরিয়ে গেছে, সো টাকা দরকার। ওজিলকে কখনো বিক্রি করতে হবে, এটা কল্পনায়ও আমি ভাবিনি সেটা ঠিকাছে, কিন্তু আপনাকে স্ট্রাটেজি বদলাতে হবে। ওজিলের সাথে রোনালদোর জুটিটা ভাল ছিল ঠিকাছে, কিন্তু রোনালদো কিন্তু একা একা খেলেই আজকের রোনালদো হইছে।


ওজিল আর রোনালদো জুটি আমার দেখা সেরা।


সব থেকে বড় দিকটা ভেবে দেখুন, ওজিলের জন্যও একটা ভাল ব্যাপার এটি। কারন,  ফুটবলে টিম ঠিক করেন কোচ। সো, কোচ যদি ওজিলকে বেঞ্চে বসায়ে রাখত ... তার ফর্ম খারাপ হইত। এর থেকে আর্সেনালে গিয়ে অনেক ভাল করছে। সব থেকে বড় কথা, ওখানে আর্সেন ওয়েঙ্গারের মত একজন কোচের সান্নিধ্যে থাকবে সে। সো, সামনে তার জন্য বড় কিছু করে দেখানোর মঞ্চ খালি পরে আছে। কাকাকে দেখুন, সব শেষ হয়ে যাওয়ার পরে সে মিলানে গেছে। অথচ আরো ১/২ বছর আগে যেতে পারলে ওর জন্যই ভাল হইত। তাই না? আমি ভাই ফুটবলে "টিম" সাপোর্টের থেকে, সুন্দর খেলা দেখতেই বেশি পছন্দ করি। কাকা-ওজিলরা হারিয়ে গেলে সেটা ফুটবলের জন্যই লস।


দুই যুগের দুই সেরা মিড-ফিল্ড মার্শাল। যদিও এই জুটিকে আমরা রিয়ালে সেভাবে পাইনি, কিন্তু তারপরও ...


তবে সকল সাপোর্টার সমান নয়, অন্যদলের সাপোর্ট করে এমন অনেকেই দুঃখ বোধ মুলক কথাবার্তা বলছে। সেটা একান্তই ওজিল কেন্দ্রিক। তাদেরকে ধন্যবাদ। তারাই ট্রু ফুটবল সাপোর্টার। ক্লাশ সেভেন এইট থেকে মাদ্রিদ সাপোর্ট করি বলে গালি দিলাম না, নইলে আমার কি যে ইচ্ছা করছে ... বলতে পারছি না ! তারপরও এটাই আমাদের মাদ্রিদ ... যারা কিনা ২০০০ সালের পর থেকে আমাদের একের পর এক ট্রান্সফার চমক দেখিয়ে গেছে ! খালি ট্রফি পাই নাই, সেইটা আলাদা কথা ! :P :(

ওজিলের ট্রান্সফার সংক্রান্ত খবরে অন্য মানুষের করা দুইটা মজার মন্তব্য বলে লেখা শেষ করব। আমি ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম এই নিয়ে। আমার এক বন্ধু সেখানে মন্তব্য করেছিল, "নতুন শার্ট কেনার আনন্দে রিয়াল এতটাই আত্নহারা যে তাদের প্যান্ট যে খুলে গেছে সেই খবর নাই!" এদিকে আমি জিমেইলে লিখছিলাম "I will miss Mesut Özil ! The ultimate master & the maker ! Bye, Mesut ! :(" আমার এক সিনিয়র আপু নক করে বলল, "ডরাইছিলাম! ওজিল কি মারা গেছে কিনা ! এখন দেখি হুদাই ট্রান্সফার করতেছে। পোলাপাইন এত ড্রামা করতে পারস" ! =))


সবার শেষে বলতে চাই, I will miss Mesut Özil ! The ultimate master & the maker ! Bye, Mesut ! :(

বিঃদ্রঃ এই পোষ্টে ব্যাবহৃত সকল ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত।

বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৩

অসমাপ্ত পড়ালেখা

... অনেক অনেক কাল আগে যখন স্কুলে পড়তাম, আব্বা নিয়মিত ভাবে আমার পড়া ধরত। ধরত মানে, হাতে ছাঁই মেখে ধরত। ফলাফল, জীবনে বহুত অপমান (পড়ুন মাইর) নিশ্চুপ ভাবে হজম করতে হইছে। তখন আব্বা বলত, "ওরে গাধা, এখন ভাল কইরা পড়, কলেজে উঠলে কি আর এরকম পড়া আছে নাকি ?" ... পড়া বিষয়ক ব্যপারে মাইর খাইতাম বইলা আবার কেউ মনে কইরেন না আমি ছাত্র খারাপ ছিলাম। স্কুলে রোল মুটামুটি "এক" ই থাকত অধিকাংশ সময়ে ... কোন কারনে না থাকলে, সেটা কোন ভাবেই "তিন" এর বাইরে যাইতো না।

সে যাকগা, এরপরের কথায় আসি। স্কুলের পরে কলেজ লাইফে ঢুকলাম। নটরডেম কলেজে ভর্তি হইছি তখন। খুব আনন্দ আনন্দ ভাব নিয়ে কলেজ শুরু করে আমি বুঝলাম, আমি "ছোট্ট জাহান্নাম" পারি দিয়ে "বড় জাহান্নামে" পরছি। এই ক্লাশ, এই কুইজ, এই ল্যাব ... হায় হুতাশ করতে করতেই কলেজ লাইফ পার করে দিলাম। সে যাই হোক ... মানুষ কিন্তু আমাকে এইদফাও বুঝালো। "ওই যে দেখ, তোর বড় ভাইয়েরা(কাজিন বিশেষ) ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, কি করে তারা ? এই টিউশনী করে, টাকা ইনকাম করে, ঘুড়েফিরে, খায় দায় ... এইটাই হইল ইউনিভার্সিটির লাইফ", সবার মুখে মুখে আমি এটাই শুনে আসছিলাম।

ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হইলাম। এইদফা কি দেখলাম ? "চাইলে পড়ালেখা না করেও থাকা যায়, কিন্তু তাইলে পরে চাকুরী পাইতে কষ্ট হইবে, কিন্তু এখন সামান্য (উহা কোনভাবেই সামান্য ছিল না !!) পড়াশুনা এনে দিতে পারে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ" ... সেই ভবিষ্যৎ এর পিছনে দৌড়ানোর জন্য আমি কি করেছিলাম, এখন ভুলে গেছি। কিন্তু আমি জানি, আমি এই চারটা বছরে কোন দিকে তাকাই নাই। মানুষ যখন নানা ভাবে লাইফকে কম্পেক্স করে গিয়েছে (পড়ুন নানা ভাবে প্রেমে পড়েছে), নানা যায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছে, বাবা মায়ের টাকায় (কারো কারো ক্ষেত্রে নিজের টাকায়) নানা যায়গার খাবার খেয়ে রসিয়ে রসিয়ে গল্প করেছে ... তখন আমি চোখ মুখ বন্ধ করে, কোড করে গিয়েছি। আমি আমার সীমাবদ্ধতা খুব ভালমত জানতাম ... সেই সকল সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছি এই সময়টাতে। তবুও যদি ভবিষ্যৎটা মনের মত করা যায়, এই আশাতে।

পড়ালেখা শেষ। অনার্স ফাইনাল পরীক্ষাও শেষ, চাকুরীতে জয়েনও করে ফেলছি। এখন আমি কি দেখছি ? পড়ার এখনো অনেক কিছু আছে, জানার এখনো অনেক কিছু আছে (আমি অবশ্য কখনোই মনে করি নাই যে আমি সব জেনে ফেলছি) ... সেটাও না হয় মানলাম। সামান্য একটুখানি কোড করতে হলেও এখন মোটা মোটা সব বই পড়তে হয়। থেরাপে জয়েন করার পর থেকে আমি মুটামুটি ৪/৫ টা বই পড়ে ফেলছি (এরমধ্যে পড়া শেষ না হলেও, সামনের কয়েক দিনের মধ্যেই করে ফেলতে হবে) এর মধ্যেই। শুধু কি তাই ? আমি নিজেই বুঝতেছি, সফটওয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে চাইলে ... আমাকে অনবরত পড়তেই হবে। এই পড়ালেখা হয়ত আসলে সেই অর্থে গতানুগতিক পড়ালেখা নয়, তবে ব্যাপারটা ডাক্তারদের ডাক্তারী পাশ করার পরের পড়াশুনার মতই অনেকটা। আপনাকে প্রতিযোগীতার বাজারে টিকে থাকতে হলে নিত্য নতুন টেকনোলজীর সাথে নিজেকে ইন্টিগ্রেট করে নিতে হবেই। অনেকটা মেটা-পড়ালেখা, মানে পড়ালেখার পড়ালেখা ! (একটুখানি চান্স পাইলাম, নিজেকে জাহির করে দিলাম যে আমি অনেক কিছু জানি :P কোন শব্দের শুরুতে Meta শব্দটি প্রিফিক্স আকারে থাকার মানে হচ্ছে, ওই প্রধান শব্দটি যেটাকে রিপ্রেজেন্ট করে সেটার একটা অ্যাবস্ট্রাকশন অন্য একটি পার্সপেক্টিভ থেকে। একটা উদাহরন দিলে পরিষ্কার হবে আশা করি। ধরুন, Data শব্দটির অর্থ হল তথ্য। Metadata এর মানে হল, তথ্যের সংক্রান্ত তথ্য। এই ব্যাপারে আরো ডিটেইলস জানতে উইকির পেজটাতে ঢু মারতে পারেন।)

যাই হোক, আগের প্রসঙ্গে আসি। আমি জানতে চাই, এই পড়ালেখার শেষ কোথায়? এর মধ্যে কোনভাবে বাইরে পড়াশুনা করতে যাওয়া লাগলে ... কবে নাগাদ মুক্তি পাব, সেই প্রশ্ন নিজেকে করতেই ভয় হচ্ছে। :( যদি এইই ছিল আমার জীবনে, তাহলে কেন আমাকে মিছামিছি আশা দেখিয়েছিল সেই ছোট্টো বেলায় সবাই ? জাতির বিবেকের কাছে এই প্রশ্ন থাকলো ! :P

জয় হোক পড়াশুনার। :(

সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৩

নত-মস্তকে নৃত্যাগত !



অনেক অনেক আগের কথা। আমদের মাত্র ফার্ষ্ট ইয়ারের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হইছে। এমন সময় ডিপার্টমেন্টের পিকনিকে গেছিলাম বুড়িগঙ্গার বুকে। ছোট-খাট একটা লঞ্চ ভ্রমন টাইপের ব্যাপার, আরকি। পটুয়াখালীতে দেশের বাড়ি আমার। "লঞ্চ ভ্রমন" আমার কাছে পাত্তা পাওয়ার মত কোন ব্যাপার ছিল না। বন্ধু-বান্ধবের প্রবল আগ্রহে গেলাম সেই "রিভার ক্রুজে"।

তো সেই "আনন্দময় নৌ ভ্রমনে" চিত্তবিনোদনের অনেকগুলি অনুষ্ঠান ছিল যার একটা পর্ব ছিল অনেকটা এরকম ... একটা বক্সের অনেক গুলি লেয়ার থাকে, বক্সের মধ্যে বক্স আরকি। একজন এসে তার লেয়ারে যা বলা আছে সেটা পারফর্ম করে দেখাবে। এরপরে বক্সটি কার কাছে যাবে সেটির একটা হিন্ট দেওয়া থাকবে, সেই অনুসারে সে বক্সটা কোন একজনকে পাস করে দিবে। এই সেগমেন্টের একটা পর্যায়ে শ্রদ্ধেয় আহসান রাজা চৌধুরী স্যার আসেন। স্যারের পরে কার কাছে বক্সটি যাবে সেটির হিন্ট ছিল এরকম, "স্যার এমন কাউকে যেন বক্সটি দেয়, যার সাথে স্যারের অনেক মিল আছে।" স্বাস্থ্যগত আকার আকৃতিতে স্যারের সাথে আমার অনেক মিল থাকার কারনে আমাদের ক্লাশের পোলাপাইনরা আমার নাম ধরে কতক্ষন চিল্লালো। তখনও স্যার আমাদেরকে অতটা ভালভাবে চিনতেন না, কারন আমাদের ফার্ষ্ট ইয়ারে স্যার কোন ক্লাশ পাননি, আর সেকেন্ড ইয়ারের পরীক্ষা তখনো শুরু হয়নি। তো স্যার সবাইকে বলল, "রকিব কে আমি তো তা চিনি না, তবে আমি মনে করি আমার সাথে আশিসের (স্যার) অনেক মিল আছে।" এই বলে ফারহান স্যার বক্সটি আশিস স্যারকে দিলেন। আশিস স্যার আসলেন, এবং তাকেও কি যেন একটা পারফর্ম করতে হয়েছিল। এরপর বক্সটি কার কাছে যাবে সেটার জন্য সূত্র ছিল অনেকটা এরকম, "আপনি কাকে CSEDU-র সিক্স প্যাক মনে করেন?" ... এই দফা কি পোলাপাইন আর ছাড়ে? তারা আগেরবারের ব্যার্থতা (ফারহান স্যারের সময় প্রথমবারে যে উদ্যোগ নিয়েছিল) ভুলে নতুন উদ্যোমে "রকিব ! রকিব !" বলে চিল্লাচিল্লি শুরু করে। তো "আশিস স্যারের সাথে ফারহান স্যারের অনেক মিল", ফারহান স্যারের সেই দাবিকে সত্য প্রমানিত করার জন্যই হোক, আর ছেলেমেয়েদের চিল্লাচিল্লির জন্যই হোক, আশিস স্যার অনেকটাই ফারহান স্যারের মত করে বললেন, "দেখো, রকিবকে তো আমি চিনি না। তাও তোমরা যখন বলছ, রকিবই আসো তাইলে !"

পরলাম এক বিরাট ফাঁপরে ! আমি যতই পালাতে চাই পোলাপাইন আরো জোড় কইরা আমাকে সামনে আগাইয়া দেয় ! আমি জীবনে অনেক ধরনের মুসিবতে পরছি, এই ধরনের মুসিবতে আগে পরছি বলে মনে পরে না। একদল ছেলে-মেয়ে আর শ্রদ্ধেয় স্যার ম্যাডামের সামনে দুরু-দুরু বুকে সামনে গেলাম। কি করতে হবে আমাকে ? "দারদ দে ডিস্কো" নামের একখানা হিন্দি গানের সাথে আমাকে নাচতে হবে ! "OMG!" মানে "ও মা গো" ! ইহা কিভাবে সম্ভব ? আমি ইনফ্যাক্ট এই গানটি আগে শুনিও নাই, দেখা তো পরের কথা। কিন্তু তাও ... সবার অত্যাধিক আগ্রহকে অগ্রাহ্য করিতে না পারিয়া শেষ পর্যন্ত আমি শুরু করিলাম, যা শুরু করিয়াছিলাম সেটাই আছে এই ভিডিওটিতে। শ্রদ্ধেয় সকল স্যার ম্যাডামের সামনে ইহা আমি কি করিয়াছিলাম, সেটা ভাবতেই আজকেও আমার লজ্জা লাগছে ! কি আজব না ... সময় গুলি সব চলে গেল। কি মজার না ছিল সেই দিনগুলি ! :(

বিঃদ্রঃ ভিডিওটিতে অনেকে আমার মাথা নিচু করে থাকাটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারনে। কারো মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, আমি কি তবে নাচতে নেমে ঘোমটা দিয়েছিলাম কিনা ... তাদের ভুলটা ভেঙ্গে দেই। আসলে আমার মাথা লঞ্চের ছাদে বাড়ি খেতে পারত। তাই মাথা নিচু করে নেচেছিলাম ! :P