ইউনিভার্সিটি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইউনিভার্সিটি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৪

৪৮ তম সমাবর্তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (২য় পর্ব)

সকাল ১১.৩০
- দোস্ত তুই কোথায় ? সমাবর্তনে আসবি কখন ?
- আমি একটু দোকানে যাই। চলে আসবো ২টার আগেই।
দুপুর ১.৩০
- দোস্ত তুই কোথায় ?
- আমি বাসার নিচে নামছি একটু। রেডি হয়ে আসতে যতক্ষন লাগে।
- তুমি যেহেতু মেয়ে মানুষ না ... আশা করি বেশি সময় লাগবে না রেডি হইতে।
দুপুর ৩.০০
- দোস্ত তুই কোথায় ?
- এইতো, বাসা থেকে বের হচ্ছি
বিকাল ৪.০০
- দোস্ত, তুই আসবি না ?
- আমি তো চলে আসছি ... এই আর তিন চার মিনিট লাগবে।


- আচ্ছা, কাল এসে কি করবো ? আজকেই তো ছবি টবি তুলে ফেললাম !
- তাই তো। কাল এসে কি করবো ?

- আমরা আজকে কোথায় খাইতে যাব ?
- চল গুলশান যাই !
- প্রত্যেকদিন অফিস করতে ওইখানে যাস ... তাই বলে আজকেও ?
- না না ... গুলশান অনেক দূর হইয়া যাবে !
- চল বার্ড'স আই ভিউতে যাই।
- ওইখানের খাওয়া ভাল না !
- চল ফ্ল্যম্বিতে যাই ... বুফেই খাই !
- ফ্ল্যম্বি তো আর গুলশানে না ... তাই না ?
- দোস্ত, এখন গুলশানে যাবি ? ম্যালা জ্যাম !
- চল বেইলী রোডে যাই।
- চল এখানে যাই ...
- চল সেখানে যাই ...
- চল হারিয়ে যাই ...
...
...
...
...
১৫/২০ মিনিট এভাবে তাহাদের আলোচনা চললো। এরপর ...
- চল গুলশান যাই !
- চল বার্ড'স আই ভিউতে যাই।
- চল ফ্ল্যম্বিতে যাই ... বুফেই খাই !
- চল এখানে যাই ...
- চল সেখানে যাই ...
- চল হারিয়ে যাই ...
...
...
...
শেষ পর্যন্ত ৩০/৪০ মিনিটের আলোচনা শেষে আমরা বার্ড'স আই ভিউ রেষ্টুরেন্টে গেলাম।

- দোস্ত তোর ব্যাগটা সুন্দর হইছে। কোরিয়া থেইক্কা আনছিস ?
- হু।
- তয় দোস্ত ব্যাগটা মেয়েদের মনে হচ্ছে ! :P
- (তাহার গার্ল ফ্রেইন্ড) দেখছো, ও বলছে ব্যাগটা মেয়েদের! আমাকে দিয়া দেও !

- এই, আজকে আমাকে কেমন লাগছে ?
- খুব সুন্দর। এরকম ফরমাল থাকলেই তো পার।
- ধুর। প্রত্যেক দিন কি এরকম থাকা যায় নাকি ? আচ্ছা, সত্যি করে বল তো, কেমন ভাল লাগছে ?
- ইসসস ... খালি ভাল লাগছে শুনতে মনে চায়, না ? :P

- ওই জানিস, আজকে অমুকে না তার হবু শ্বাশুড়ির মাথায় সমাবর্তনের টুপির ফিতা ঠিক কইরা দিছে !
- কস কি ! সত্যি নাকি ?
- হ ... ছবি আছে ! দ্যাখ দ্যাখ !

- দোস্ত তোর ফার্ষ্ট ইয়ারের স্ট্যাটিসটিক্স পরীক্ষার কথা মনে আছে ?
- কোন কথাটা যেনো দোস্ত ?
- ওই যে ... তুই পরীক্ষা দিয়া বের হইয়াই চিল্লায় বলতেছিলি, "আজকে দিছি সব বানায়ে লেইখ্যা !" তখন তোর পাশ দিয়া একজন ম্যাডাম যাচ্ছিলেন। সে তোর কথা শুনে বলতেছিলেন, "বানায়ে লিখলে লাভ হবে না !"
(এখানে একটা কথা বলে রাখি, আমাদের স্ট্যাট স্যার যেই নোট সরবারোহ করেছিলেন সেটার প্রথম প্রশ্নটা ছিল "What is statistics ?" আর সেটার উত্তরের প্রথম লাইন ছিল অনেকটা এরকম যে, "It is very hart to define statistics in a few words"। এরপর থেকে কোন পরীক্ষায় কোন আনকমন ডেফিনেশন মার্কা প্রশ্ন আসলেই আমি লিখা শুরু করতাম, "It is very hart to define অমুক in a few words")

- ওই, তুই ড্রেস রিহার্সালে যাস নাই ক্যান ?
- ধুর! গরমের মধ্যে ভিতরে যাইতে ইচ্ছা করে না !
- তুই না ফার্ষ্ট হইছিস ? তোর নাম ধরে ডাকলে এইখান থেকে বলবি, "ইয়েস স্যার" ?
- হা হা হা ! হু !

- এই যে ... তুই যে তোর গার্ল ফ্রেইন্ডকে (যে DU তে পড়ে না) এইখানে নিয়া আসছিস, এইটা কি ঠিক হইলো ?
- ক্যান ? সমস্যা কি ?
- তোর পোলাপাইন এই ছবি দেইখা কি কইবো ?
~ (পাশ থেকে আরেকজন) ক্যান ? ওর ছেলে মেয়ে তো ভাববে ওদের বাবা-মা সব সময়ই এক সাথে ছিল !
- হ ! হইছে কাম ! তখন যদি আমার পোলা কয়, "আব্বা, আমার বউ কই তাইলে ?" :P

অনেক অনেক ছবি তোলার মধ্য দিয়ে আজকে সমাবর্তনের ড্রেস রিহার্সালের দিনটি শেষ হল। অনেক অনেক ছবি তোলার মধ্যে আমাদের বেষ্ট পার্ট ছিল মনে হয় যোবায়ের মোবাইলের ক্যামেরায় তোলা সেলফি গুলা। কত অদ্ভুট টাইপের যে সেলফি আমরা তুললাম আজকে ! সব শেষে বন্ধুরা মিলে ডিনারে গেলাম বার্ড'স আই ভিউতে। খাবার মুটামুটি, কিন্তু যায়গাটা খুবই ভাল। শুধু বসে থাকার জন্য হলেও এক-আধবার যাওয়া যায় এরকম যায়গায়। যাই হোক, কাল সমাবর্তনের শেষ দিন। ভালয় ভালয় শেষ হোক সমাবর্তন, এই প্রত্যাশায়। :)


শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৪

৪৮ তম সমাবর্তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১ম পর্ব)

... টাই কিভাবে বাধঁতে হয় জানেন ? এই মুহুর্তে এটা জানাটা আমার জন্য খুব জরুরী একটা ব্যাপার হয়ে গিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপ্পা মারা এই টাই কেবল সমাবর্তনের দিনেই পরা সাজেঁ ... এখন টাইটা না বাধঁতে পারলে হবে ?

ওই, আমরা ডিনার কবে করবো ? আসবি তো ? আসবি না ক্যান ? লেট হবে ক্যান ? ওই দিন ক্যান ? ওই দিন না ক্যান ? তুই খারাপ ... তোর বাসায় ৯টার মধ্যেই ঢুকতে হবে ক্যান ?

দোস্ত আজকে আমার পায়ের মাপের জুতা পাইছি ! হুহাহাহাহা ... একটু বেশিই পরে যাবে, কি করবো বল ! পাচ্ছিলাম না তো ! যখন ওকে মন খারাপ করে বললাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপ মারা এই টাই তো সমাবর্তনের দিনে না পরলে আর পরা হবে না ... ও না কেমন কেমন করে ম্যানেজ করে ফেললো জুতাটা ... বুঝলি ! আমি আর না করলাম না !

আব্বা, তোমাকে না বললাম ৬ তারিখ ফ্রি থাকবা ? আমরা সমাবর্তনের ছবি তুলবো ! তুমি অফিসে বললে কি হইত ? একটা দিন ম্যানেজ করতে পারলা না ? আচ্ছা থাক ... সমস্যা নাই, ৭ তারিখ ফ্রি থাইকো, আমি ফোন করলে ইউনিভার্সিটিতে চলে আইসো।

- আমি আর তোর ছবি তুইলা দিমু না !
- ক্যান ? দিবি না ক্যান ?
- এত কষ্ট কইরা মানুষজনের ছবি তুলি, কেউ ফটো কার্টেসি দেয় না ! কার ভাল লাগে বল ?
- আচ্ছা যা, দিয়ে দিচ্ছি। আর আমার ছবি না তুলে তোর উপায় আছে বল ? আমি না তোর বেষ্ট মডেল ? :P

- ওই দোস্ত, আমি তো গাউনের সাথে গলায় পরার ওইটা পাই নাই !
- দোস্ত আমি পাইছি, কিন্তু ও পায় নাই ! এখন আমারটা ওরে দিয়া দিছি। বেচারী মন খারাপ করবে !
- আচ্ছা, তাইলে ভিকটিম খালি আমি একাই না ! :D
- হ ... যখন কমপ্লেইন করলাম লোকটা যা পার্ট নিল না ! হুদাই ! আজাইরা !

- দোস্ত অনেক ছবি তোলাতুলি হইছে। চল এখন খাইতে যাই।
- কই যাবি ? পুরান ঢাকায় ?
- চল, নিরবে গিয়া ভাত খাই ! অনেক দিন কোরিয়া ছিলাম, শান্তি মত ভাত খাওয়া হয় না !
- দোস্ত অনেক দিন স্টারে যাই না ... চল ধানমন্ডি স্টারে যাই। ওইখানে ভাতও পাবি।
- চল চল ! ওইখানে অনেক দিন সবাই মিলে যাওয়া হয় না।

- দোস্ত, তোরা আজকে সবাই মাথার এই টুপির সাথে ম্যাচিং ড্রেস পরে আসছিস ক্যামনে ?
- ক্যামনে বলমু ... আমি তো জানতাম না মাথার টুপির সাথে এইটা মিলে যাবে।
- সমস্যা নাই, এইটার সাথে ম্যাচিং করে জামা কিনবনি।

- ওইখান থেকে নরমাল হইয়া হেঁটে আসো। আমি ছবি তুলতে থাকব।
- না না ... এভাবে হচ্ছে না। তুমি নরমালি হাটঁছো না ! রকিব ... তুই একটু হাইটা আয় তো। তোকে ছাড়া হবে না।
- এইতো সাব্বাস, বাঘের বাচ্চা। হইছে !

- আমরা পরে আইসা ভাল করছি না ? কোন লাইনে দাড়াইতে হয় নাই।
- সকালে আইসা মানুষজন আজকে ধরা খাইছে। ভাল হইছে।
- আচ্ছা, দ্যাখতো ... রবিবার মিশুক ভাইকে পাওয়া যাবে ছবি তোলার জন্য ?
~~ হ্যালো মিশুক ? তুই রবিবার ছবি তুলে দিতে পারবি আমাদের ?
~~ আমার তো ওইদিন অফিস আছে। আর আমার তো ক্যামেরাও নাই।
~~ ক্যামেরা প্রবলেম না। ক্যামেরা আছে ... তোর সময় থাকলে বল।
~~ নারে, অফিসে যাইতে হইবে ওইদিন।
- মিশুকের ওইদিন অফিস আছে। অয় আইতে পারবে না।
- আর কেউ আছে এমন ? নইলে আমার ছবি আর তোলা হবে না।
- ব্যাপার না ... দ্যাখ, তামিম-সজিব নিয়া আসবে না ?

ছবি-মালাঃ (গাউন পাওয়ার দিনে)

সবার সমাবর্তনেই মনে হয় এই টাইপের একটা ছবি থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের খুব প্রিয় দুই বন্ধুর সাথে।
এই ছবি কখনোই হয়ত আমাদের গল্পগুলিকে প্রকাশ করতে পারবে না।

প্রিয় বলিগ (বন্ধু + কলিগ) সাদের সাথে।

আমিঃ শুভ, ওই তোর দাতেঁর মধ্যে ফাঁক দেখা যায়। :P

সাদ ছবি তুলবে আগে বলে নাই। বললে দাঁড়ি কেটে যাইতাম।


বিঃ দ্রঃ সকল ছবির জন্য বন্ধু সাদের প্রতি বরাবরের মত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।


সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৩

নত-মস্তকে নৃত্যাগত !



অনেক অনেক আগের কথা। আমদের মাত্র ফার্ষ্ট ইয়ারের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হইছে। এমন সময় ডিপার্টমেন্টের পিকনিকে গেছিলাম বুড়িগঙ্গার বুকে। ছোট-খাট একটা লঞ্চ ভ্রমন টাইপের ব্যাপার, আরকি। পটুয়াখালীতে দেশের বাড়ি আমার। "লঞ্চ ভ্রমন" আমার কাছে পাত্তা পাওয়ার মত কোন ব্যাপার ছিল না। বন্ধু-বান্ধবের প্রবল আগ্রহে গেলাম সেই "রিভার ক্রুজে"।

তো সেই "আনন্দময় নৌ ভ্রমনে" চিত্তবিনোদনের অনেকগুলি অনুষ্ঠান ছিল যার একটা পর্ব ছিল অনেকটা এরকম ... একটা বক্সের অনেক গুলি লেয়ার থাকে, বক্সের মধ্যে বক্স আরকি। একজন এসে তার লেয়ারে যা বলা আছে সেটা পারফর্ম করে দেখাবে। এরপরে বক্সটি কার কাছে যাবে সেটির একটা হিন্ট দেওয়া থাকবে, সেই অনুসারে সে বক্সটা কোন একজনকে পাস করে দিবে। এই সেগমেন্টের একটা পর্যায়ে শ্রদ্ধেয় আহসান রাজা চৌধুরী স্যার আসেন। স্যারের পরে কার কাছে বক্সটি যাবে সেটির হিন্ট ছিল এরকম, "স্যার এমন কাউকে যেন বক্সটি দেয়, যার সাথে স্যারের অনেক মিল আছে।" স্বাস্থ্যগত আকার আকৃতিতে স্যারের সাথে আমার অনেক মিল থাকার কারনে আমাদের ক্লাশের পোলাপাইনরা আমার নাম ধরে কতক্ষন চিল্লালো। তখনও স্যার আমাদেরকে অতটা ভালভাবে চিনতেন না, কারন আমাদের ফার্ষ্ট ইয়ারে স্যার কোন ক্লাশ পাননি, আর সেকেন্ড ইয়ারের পরীক্ষা তখনো শুরু হয়নি। তো স্যার সবাইকে বলল, "রকিব কে আমি তো তা চিনি না, তবে আমি মনে করি আমার সাথে আশিসের (স্যার) অনেক মিল আছে।" এই বলে ফারহান স্যার বক্সটি আশিস স্যারকে দিলেন। আশিস স্যার আসলেন, এবং তাকেও কি যেন একটা পারফর্ম করতে হয়েছিল। এরপর বক্সটি কার কাছে যাবে সেটার জন্য সূত্র ছিল অনেকটা এরকম, "আপনি কাকে CSEDU-র সিক্স প্যাক মনে করেন?" ... এই দফা কি পোলাপাইন আর ছাড়ে? তারা আগেরবারের ব্যার্থতা (ফারহান স্যারের সময় প্রথমবারে যে উদ্যোগ নিয়েছিল) ভুলে নতুন উদ্যোমে "রকিব ! রকিব !" বলে চিল্লাচিল্লি শুরু করে। তো "আশিস স্যারের সাথে ফারহান স্যারের অনেক মিল", ফারহান স্যারের সেই দাবিকে সত্য প্রমানিত করার জন্যই হোক, আর ছেলেমেয়েদের চিল্লাচিল্লির জন্যই হোক, আশিস স্যার অনেকটাই ফারহান স্যারের মত করে বললেন, "দেখো, রকিবকে তো আমি চিনি না। তাও তোমরা যখন বলছ, রকিবই আসো তাইলে !"

পরলাম এক বিরাট ফাঁপরে ! আমি যতই পালাতে চাই পোলাপাইন আরো জোড় কইরা আমাকে সামনে আগাইয়া দেয় ! আমি জীবনে অনেক ধরনের মুসিবতে পরছি, এই ধরনের মুসিবতে আগে পরছি বলে মনে পরে না। একদল ছেলে-মেয়ে আর শ্রদ্ধেয় স্যার ম্যাডামের সামনে দুরু-দুরু বুকে সামনে গেলাম। কি করতে হবে আমাকে ? "দারদ দে ডিস্কো" নামের একখানা হিন্দি গানের সাথে আমাকে নাচতে হবে ! "OMG!" মানে "ও মা গো" ! ইহা কিভাবে সম্ভব ? আমি ইনফ্যাক্ট এই গানটি আগে শুনিও নাই, দেখা তো পরের কথা। কিন্তু তাও ... সবার অত্যাধিক আগ্রহকে অগ্রাহ্য করিতে না পারিয়া শেষ পর্যন্ত আমি শুরু করিলাম, যা শুরু করিয়াছিলাম সেটাই আছে এই ভিডিওটিতে। শ্রদ্ধেয় সকল স্যার ম্যাডামের সামনে ইহা আমি কি করিয়াছিলাম, সেটা ভাবতেই আজকেও আমার লজ্জা লাগছে ! কি আজব না ... সময় গুলি সব চলে গেল। কি মজার না ছিল সেই দিনগুলি ! :(

বিঃদ্রঃ ভিডিওটিতে অনেকে আমার মাথা নিচু করে থাকাটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারনে। কারো মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, আমি কি তবে নাচতে নেমে ঘোমটা দিয়েছিলাম কিনা ... তাদের ভুলটা ভেঙ্গে দেই। আসলে আমার মাথা লঞ্চের ছাদে বাড়ি খেতে পারত। তাই মাথা নিচু করে নেচেছিলাম ! :P

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৩

অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষাগুলি

অনার্স লাইফের শেষ লিখিত পরীক্ষার পরে আমরা সবাই। দিন চলে যায় দিনের মত করে না ? এইতো সেদিন "কম্পিটার ফান্ডামেল্টাল" কোর্দের পরীক্ষাটা দিয়ে শুরু করেছিলাম যেই পরীক্ষা জীবন, সেটাই শেষ হয়ে গেল এখানে ! :(
অনার্স লাইফের ফাইনাল পরীক্ষার দিনগুলির কথা মনে পরলো আজকে। কত কত স্মৃতি রেখে আসলাম সেই কার্জন হলটাতে। ইংরেজরা কি পাপ করেছিল জানি না, কিন্তু তাদের পাপের বোঝা যে আমাদেরকে এভাবে বয়ে বেড়াতে হবে জানা ছিল না ... মানে ওরাই (ইংরেজরা) কার্জনহলটা বানিয়েছিল কিনা ! কার্জন হল তৈরি না হলে, আমাদের পরীক্ষাও দিতে হত না ... তাই না ?

ফার্ষ্ট ইয়ারে একটু নার্ড (বাংলায় আতেঁল শব্দটা শুনতে ক্যামন ক্যামন জানি লাগে) টাইপের ছিলাম। মনে আছে ফার্ষ্ট ইয়ারের প্রথম পরীক্ষাটা দিয়ে মন এতই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে বাসায় গিয়ে দুপুরের খাবারটাও খাই নাই, যদিও সেটাতে ৩.৭৫ পেয়ে গেছিলাম কিভাবে কিভাবে যেনো। সেই পরীক্ষায় একটা প্রশ্ন এসেছিল এরকম, "একটি প্রিন্টারের কার্যপ্রনালী বর্ননা কর" ... কইত্তে কি দিছে, কমন পড়ে নাই। প্রিন্টারের কার্য-প্রনালীর কোন টেকনিকাল টার্মও জানতাম না। কি জানি হাভিজাভি জিনিস লিখে একটা ছবি এঁকেছিলাম অনেকটা এরকম, তিনটা বক্স আর তা ক্যাপশন ১) প্রিন্টারে কাগজ যাচ্ছে প্রিন্ট হওয়ার জন্য, ২) কাগজ প্রিন্টারের ভিতরে, প্রিন্ট হচ্ছে, ৩) প্রিন্ট শেষে কাগজ বের হয়ে চলে আসছে। :P

সেই শুরু চাপা-বাজীর। সব কি আর মনে থাকে, নাকি পড়ে পারা যায় ? থার্ড ইয়ারের পরীক্ষাতে একটু কম করছিলাম চাপাবাজী, ফলাফল বিপর্যয়ের মাধ্যমে আমাকে সেটার প্রায়াশ্চিত্ত করতে হয়েছিল। অনার্সের পরীক্ষার কথা বললেই আরেকটা ব্যাপার মনে আসে। এইটা কাকে বলে ওইটা ডিফাইন করো ... এই টাইপের প্রশ্ন ভার্সিটি লাইফে অনেক আসে। আমার একটা স্টার্টিং ছিল এই টাইপের প্রশ্নের জন্য, "ইট ইজ ভেরি হার্ড টু ডিফাইন 'ওইটা' ইন এ্যা ফিউ ওয়ার্ডস" :P

ফার্ষ্ট ইয়ারের কথা যখন উঠলোই, শুভর একটা কথা বলতেই হয় এখানে। আমাদের ডিজিটাল সিস্টেমসে একটা প্রশ্ন আসছে অনেকটা এরকম, তিন তলা একটা বিল্ডিং এর বিভিন্ন ফ্লোরের মধ্যে বিট প্যার্টার্ন রিলেশন বলে বলছে কিছু একটা করতে হবে। মানে, তিনটা ফ্লোরের প্রতিটাকে একটা করে বিট দিয়ে রিপ্রেজেন্ট করলে যেই আটটা প্যাটার্ন পাওয়া যায় সেটা আরকি। খুবই সহজ প্রশ্ন ছিল সেটা, যদিও শুভ ভুল করছিল। কারন, শুভ গ্রাউন্ড ফ্লোর ধরে কাজ করছিল ... ফলে তিনতলার বিল্ডিং চারতলা হয়ে গিয়েছিল। :P

এই পরীক্ষা নিয়ে মজার কথা বলে শেষ করতে পারবো না আসলে। মনে আছে আরাফাত স্যার প্রথম যেদিন হলে গার্ড দিতে এসেছিল, পিছনের জনের সাথে কথা বলার সময় ঘুরতে গিয়ে স্যারের পেটে কনুইয়ের গুঁতা মেরে দিয়েছিলাম। আমাদের আরেকজন শ্রদ্ধেয় স্যারের নাম আমরা দিয়েছিলাম, "পরীক্ষার হলের ম্যারাডোনা", কারন, কথা বললেই স্যার পোলাপাইনকে খালি এইজায়গা থেকে ওই যায়গায় পাঠাত। এখানে আমার একটা অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করি। জাভা পরীক্ষার দিন উত্তর পত্রে কিছু লিখবার আগেই সেই স্যার আমাকে উঠিয়ে দিছিলেন (জীবনে এই একবারই আমাকে পরীক্ষার হলে তোলা হয়েছিল) ... কারন আমি প্রশ্ন পেয়েই সামনের জনকে বলেছিলাম, "আরে, প্রশ্ন দেখি বেশি সোজা হইছে !" :P

ফোর্থ ইয়ারের একটা পরীক্ষার কথা স্মরণ করি। পরীক্ষার হলে প্রশ্ন পাওয়ার পর-পরই কথার একটা মৃদু হাওয়া বয়ে যায় সাধারনত। কে কোনটা দিয়ে শুরু করবে, কার কত সেট কমন পরছে ... এরকম আলোচনা হয়ে থাকে এই সময়টাতে। ডিস্ট্রিবিউটেড সিস্টেমস পরীক্ষার দিন প্রশ্ন পাওয়ার ২০ মিনিট পরেও দেখি হলের মধ্যে কোন সারা শব্দ নেই। সবাই দেখি মাথা নিচু করে প্রশ্ন পড়ছে। কথা বলবে কি, কেউ তো ঠিকই করতে পারছিল না কোনটা থেকে অ্যান্সার করা শুরু করবে। :P

পরীক্ষার হলে বিনোদনের প্রয়োজনের হলেই আমি সাধারনত যেটা করি, ক্লাশের কোন একটি মেয়ের দিকে তাকাই ... বিশেষ করে প্রিয়াঙ্কা অথবা পিঙ্কির দিকে। পরীক্ষার হলে এদের দেখলে নিজেকে অনেক তুচ্ছ মনে হয়, একই সাথে হাসিও পায়। এভাবে কোন মানুষ লিখতে পারে নাকি ? আরেকটা বিনোদন হইল, পিঙ্কি একবার লুজ বইলা চিল্লালেই একটা করে ফিচকা শয়তানী মার্কা হাসি দেওয়া।

অনেক মজার ঘটনা যেমন আছে, তেমনি অনেক মন খারাপের স্মৃতিও আছে এই পরীক্ষা নিয়ে। আজকের দিনে না হয় আমি শুধু সুখী সুখী কথাগুলোই মনে আনলাম, দুঃখগুলি জমায়ে রাখলাম আরেক দিনের জন্যি ! :)

মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০১৩

আমাদের গল্প

খুব অদ্ভুত লাগে তাই না? দেখতে দেখতে চারটি বছর পার করে ফেললাম! মাঝে মাঝে চলে যাওয়া সময় গুলো নিয়ে ভাবি। কত শত বন্ধুদের কে নিয়ে কাটিয়ে দিলাম জীবনের অর্থপূর্ন এই সময়গুলি। আজ আমার সেইসব বন্ধুদের গল্প বলব।

আমি আর মতিনের সেই কলেজ লাইফ থেকে দোস্তি। তখন থাকিও কাছাকাছি জায়গাতে। আমাদের ভর্তি পরীক্ষাতে যেই সিরিয়াল আসছিল তাতে সিএসই পাওয়ার কথা না। তো কোন এক পড়ন্ত বিকেলে সিরিয়ালের আপডেট জানতে ইউনিভার্সিটিতে এসে তো আমাদের চোখ ছানাবড়া। একি! আমরা দেখি সিএসই পাইছি! এরপরের ইতিহাস খুব সহজ। ধাই করে ঢুকে গেলাম আমাদের প্রিয় এই ডিপার্টমেন্টে।

প্রথম দিনের কথা এখনো মনে আছে। আমি, শুভ আর মতিন এক সাথে বসেছিলাম। শুরুর দিন বলে সকল স্যার ম্যাডামদের সাথে পরিচিতিপর্বতেই যথেষ্ট পরিমানের ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন উপমা ম্যাডাম। সেদিন না বুঝলেও পরবর্তিতে বুঝতে পেরেছিলাম মনোয়ার স্যারের মিটিমিটি হাসির পিছনে কি লুকিয়ে আছে, কিংবা ল্যাবে আবু স্যার কি করতে পারেন! আমাদের ফার্ষ্টইয়ারের প্রথম দিনের প্রথম ক্লাশটি নিয়েছিলেন মনোয়ার স্যার। আমার মনে আছে স্যার শুরুর দিনে জানতে চেয়েছিলেন প্রগ্রামিং এর ব্যাপারে আমাদের কার কি নলেজ আছে। আমরা সবাই ই কম বেশি আমাদের পান্ডিত্য দেখানোর চেষ্টা করলাম। আমার অ্যান্সার ছিল অনেকটা এরকম, “স্যার, আমি থিওরিটিক্যালি সি এর ব্যাপারে জানি। কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি কিছুই জানি না”! রিদোয়ান ছিল মস্তবড় একজন হ্যাকার যে কিনা সারাজীবনে কখনোই কিছু হ্যাক করতে পারেনি, ব্যাপারটা সেদিনই জানতে পেরেছিলাম। তবে খুব সম্ভবত আমাদের সবাইকে সেদিন চমকে দিয়েছিল আবির। ওর ব্যাপারটা ছিল এরকম, “স্যার, আমি সি, সি++, জাভা সহ প্রগ্রামিং কন্টেষ্টের জন্য যা যা লাগে সবই জানি”! ফলাফল, সবার চোখ মূহুর্তের মধ্যে গেল আবিরের দিকে। আমাদের এই আবিরই পরে আইওআই তে বাংলাদেশী হিসেবে প্রথম রূপা জয় করে।

ডিপার্টমেন্টে আমার একেবারে শুরুর দিকের লাইফ ছিল অনেকটা শুভ, যোবায়ের আর আশরাফ কেন্দ্রিক। কলেজের আগে আমি থাকতাম পটুয়াখালী নামক এক ছোট্ট শহরে। নটরডেমে পড়ার কারনে কলেজ লাইফেও খুব একটা ঘুরাঘুরি করতে পারিনি। সব ঝাল আমি মিটিয়েছিলাম তখন। আজকে শুভর বাসায় কিংবা পরের দিন আশরাফের আস্তানায়, এভাবেই চলছিল দিনগুলি।

ক্লাশ শুরু হতে না হতেই স্যার ম্যাডামরা আমাদের বলল আমাদের দুইজন সি-আর(ক্লাশ রিপ্রেজেন্টিটিভ) থাকতে হবে, একজন ছেলে আরেকজন মেয়ে। প্রিয়াঙ্কা আর সাদ আমাদের সি-আর নির্বাচিত হয়েছিল। প্রিয়াঙ্কাকে আমি শুরুর দিকে কেন জানি দেখতে পারতাম না। ওরে দেখলেই কেন জানি মনে হত বদমেজাজী স্বভাবের। আমার ওই ধারনাটা খুবই বড় মাত্রার একটা ভুল ছিল। আচ্ছা কোন একটি মেয়ে কতটা ভাল হতে পারে, আপনার কি কোন ধারনা আছে? সব ভুলে যান। আমাদের প্রিয়াঙ্কা আপনার ওই মেয়ের থেকেও ভাল। প্রিয়াঙ্কা ঠিক কিভাবে কিভাবে আমাদের “খালা” হয়েগেছিল সেটা এখন মনে নেই। কিন্তু সে ক্লাসে আমাদের সবার খালা। আমাদের আরেক সি-আর সাদ মারাত্মক টাইপের ভদ্র এবং সামাজিক ছেলে। ক্রিয়েটিভও। আমাদের নবীন বরন অনুষ্ঠানের জন্য ওর বানানো মিউজিক ভিডিওটি অসাধারন ছিল।

আমার ফার্ষ্ট ল্যাব পার্টনার ছিল অনিক আর সাকিব। সাকিব ছেলেটা ছিল একেবারে গোবেচারা ধরনের, আর অনিক ছিল বেশ স্মার্ট। ডিজিটাল সিসটেমসে আমরা একই গ্রুপে ল্যাব করতাম। যতদুর মনে পরে ওরা আমাকে সার্কিট ডিজাইন করে দিত, আর আমি বসে বসে কানেকশান দিতাম। এই ল্যাব গ্রুপেই আমরা বেসিক ইলেক্ট্রনিক্সের ল্যাবও করেছিলাম। এখানে অবশ্য অনিক কানেকশান দিত। কারন, এই ল্যাব আমি কিছুতেই মিলাতে পারতাম না। ওরা দুইজনে কেমনে কেমনে সব কিছু মিলায়ে ফেলত।

ফার্ষ্টইয়ারের জুন মাসে আমাদের একটা প্রগ্রামিং ক্যাম্পের মত হয়। যারা প্রগ্রামিং এ একটু দুর্বল তাদের জন্য একটা টাইপের ক্লাশ। যারা একটু অ্যাডভান্স তাদেরকে আরেক টাইপের ট্রেইং এর ব্যাবস্থা ছিল। মনোয়ার স্যার ব্যাবস্থা করেছিলেন সব কিছুর। সারা জুন মাস আমরা এভাবে অনেকটা মজার মধ্যে প্রগ্রামিং করে কাটিয়ে দিয়েছিলাম। সবার মধ্যে সে কি উত্তেজনা থাকত সেদিনগুলিতে। একজন একটা প্রব্লেম সলভ করতে পারলে বাকিরা সেটার উপর রীতিমত হামলে পরত।

মুটামুটি একটা সময়ে আমাদের মধ্যে এরকম একটা ট্রেডিশান হয়ে গেল যে, কারো জন্মদিন হলে সে সবাইকে খাওয়াবে। প্রথম প্রথম আমরা হয়ত সবাই মিলে হাকিমের খিচুরী টিএসসিতে নিয়ে খেতাম। সাদিয়া, তৃষা আর মেরী মনে হয় এরকম কিছু পার্টি দিয়েছিল। এরপর পাঠ্যবইয়ের উপরের ক্লাশে উঠার সাথে সাথে আমাদের এই ট্রিট পার্টির অবস্থানও উপরে উঠে। মানে টিএসসি থেকে যায় ষ্টার কাবাবে। কত কত যে লেগরোষ্ট খেলাম এই ষ্টারে!

সকল শ্রেনীকক্ষ সেটা কিন্ডার গার্ডেন হোক কিংবা স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোক একটা কমন প্রবনতা থেকেই যায়, আর সেটা হল ছেলে মেয়েদের নতুন নতুন নামে ডাকা। এই ব্যাপারটাতে প্রথম ধরা খেল প্রিয়াঙ্কা। প্রিয়াঙ্কা হল “খালা”। মাদিহা থেকে আসল “ম্যাড”। তাবাসসুম তৃষা থেকে “ট্যাব”। অবশ্য তৃষা আমার “শ্যালিকা” নামেও পরিচিত। রোল ৮৩ শুভ-র নাম আগে থেকেই ছিল “লিনাক্স শুভ”। রোল ১৮ আসিফ কার ঘন্টা বাজাতে বাজাতে কিভাবে যেন হয়ে গেল “ঘন্টা আসিফ”। রবিউল হয়ে গেল “কাকা”। টিটি খেলে খেলে মাসুদ হয়ে গেল “টিটি মাসুদ”। প্রগ্রামিং আর পড়াশুনার প্রতি প্রবল আসক্তির জন্য মুন্নার নাম দেওয়া হল “পগা”। আর নায়লা কথা বার্তা কম কম বুঝত বলে এক সময় আমাদের “মামনি” হয়ে গেল। এই নাম করনের প্রভাবের একটা উদাহরন দেই। একদিন মাদিহা যোবায়েরকে ফোন করে বলতেছে, “কে যোবায়ের? আমি ম্যাড বলছি!”(:P)

প্রথম দিকে আমাদের একটা অনেক বড় দল ছিল। শুভ, যোবায়ের, আশরাফ, ফাহিম, মতিন, প্রিয়াঙ্কা, মাদিহা, পিঙ্কি, নায়লা, মেরী, দিবা, সাদিয়া … সময়ের বিবর্তনে যেটা এখন বিলুপ্ত প্রায়। অন্যদের কথা জানি না, আমি অন্তত এই দলটাকে অনেক মিস করি। সবাই মিলে হয়ত সপ্তাহে একটা দিন আড্ডা দিতাম, কিন্তু সেটা হত অনেক বেশি জীবনোল্লাসে পরিপূর্ন।

সংস্কৃতির মাঠে আমাদের ক্লাশের ছেলে মেয়েরা কোন অংশে পিছিয়ে ছিল না কখনোই। আসমা, মেরী আর নিপা আমাদের ক্লাশের সেরা নাচিয়ে। প্রিয়াঙ্কা, সীমা, তামিম, ইরফান তাদের গানের যাদুতে বরাবরই আমাদের মুগ্ধ করেছে। ফাত্তাহ বেশ ভাল গিটার বাজায় আর মুন্না ড্রাম বাজাতে পারে।

পছন্দ অপছন্দের ব্যাপারে আমরা সকলেই একটু ডিফারেন্ট হলেও, ল্যাব/ইঙ্কোর্স/ফাইনাল পরীক্ষা পিছানোর ব্যাপারে আমাদের না-বোধক কিছু নেই। সকলের সব অমিল এই একটা যায়গাতে এসে কিভাবে কিভাবে যেন মিল এ পরিনত হয়! এই যায়গাটাতে মনে হয় আমাদের কাছাকাছি অন্য কোন ব্যাচও আসতে পারেনি। হয়ত কোথাও সমাবেশ হচ্ছে, স্যার এই ইঙ্কোর্স তো দেওয়া যাবে না! আমাদের নিয়মিত আবদারই ছিল যেন এগুলো।

এবার আসি অন্য বন্ধুদের নিয়ে। আমার প্রিয় বন্ধুদের মধ্যে পিঙ্কি অনেক অনেক উপরে থাকে সব সময়ই। আমাদের এই “মিস ফার্ষ্ট” কে আমি সবথেকে বেশি মিস করি যদি সামনে কোন পরীক্ষা থাকে। পিঙ্কির ব্যাপারে একটা সিক্রেট শেয়ার করি। পিঙ্কি খুবই চাঁপা স্বভাবের একটি মেয়ে। হয়ত খুব মন খারাপ নিয়ে সবার সাথে আড্ডা টাড্ডা দিবে, কথা বলবে … কেউ কিছুই টের পাবে না টাইপের আরকি। ক্লাশের নির্মল আনন্দদায়ী ব্যাক্তি মিশু কাজী। চরম সেন্স অফ হিউমার যুক্ত আমাদের এই বন্ধুটিকে আমি অন্তত খুব মিস করব ফিউচার লাইফে। যে মেয়েটি এখন পর্যন্ত আমাকে বেশী বার কনফিউসড করে দিছে সে হল চাঁদনী ইসলাম। এক্সাম হলে আমার “ওয়ান টু ওয়ান” পার্টনার আরাফাত। তামিম হচ্ছে “মিষ্টার তাহসান”। মুশফিক ছেলেটি “Decent”। মারাত্মক টাইপের ভাল এই ছেলেটি কিন্তু রোমান্সের দিক থেকেও পিছিয়ে ছিল না কখনো! ক্লাশের সব থেকে ভাল ছেলে যেগুলো, আসিফ(রোল ২) তাদের উপরের দিকে থাকবে সব সময়। চমৎকার মেধাবী এই ছেলেটি কখনোই তার মেধার সঠিক ব্যাবহার করেনি এইটাই শুধু আমার আফসোস। ঘুমকাতুরে হিসেবেও আমাদের এই বন্ধুর বেশ সুনাম আছে। আমি একটা উধারন দেই। একদিন থিসিস এর কাজে হলে গেলাম। তখন ১১/১২টার মত বাজে। আসিফ ঘুমিয়ে ছিল। আমি ওকে তুলে বাথরুমে পাঠিয়ে দিলাম। এর ফাঁকে সাফির সাথে গল্প করছিলাম। অনেকক্ষন পরে আবিষ্কার করলাম এর মধ্যে প্রায় এক ঘন্টা পার হয়ে গেছে। আসিফের কোন খবর নাই। অবশেষে অনেক খোঁজা-খুঁজি করে আসিফকে পেলাম আরেকটা রুমে, ঘুমাচ্ছিল! আমাদের মুন্না কাজ পাগল। একটা কাজ এর হাতে কেউ ধরিয়ে দিতে পারলেই কাজ শেষ। ক্লাশের একেবারে নির্জীব ভদ্র ছেলে উপল। “ব্রেইন ড্রেইন” মানে মেধাকে ড্রেইনের মধ্যে ফেলার চমৎকার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আমার বন্ধু সজীব। পরিশ্রমকে দৃষ্টান্তের পর্যায়ে নিয়ে গেছে তমাল অধিকারী। সাইকেলে করে ডিওএইচএসে টিউশনিতে যাওয়া কিংবা রাত ১০/১১ পর্যন্ত টিউশনি করে আবার পরের দিনের ইঙ্কোর্সের পড়া সব কিছুই তমাল করছে হাসিমুখে। আমাদের ক্লাশের প্রথম থিসিস পেপার পাবলিশ করা এই ছেলেটি কার্ড খেলাতেও দুর্দান্ত। ক্লাশের “স্মার্টেষ্ট মেয়ে” আসমা। ভাল ছাত্রী, আধুনিক, স্মার্ট, ড্রেসের দিক থেকে খুব সেন্সিবল … ব্লা ব্লা এরকম ভুরি ভুরি লেখা লিখা যায় আমাদের আসমাকে নিয়ে। আমাদের “ভার্চুয়াল ম্যান” ইরফান। মাসুদ পারভেজ ছেলেটা একটু চুপচাপ ধরনের। ল্যাবের কাজ নিজে নিজে করে ঠিক ঠিক টাইমে সাবমিট করতে মাসুদের কখনো ভুল হত না। ক্লাশে “মুড়ির ঠোঙ্গা” নামে পরিচিত নায়লা। কোন কথা কিভাবে না বুঝে থাকা যায়, নায়লাকে না দেখলে সেটা ভাল ভাবে বুঝা যাবে না। আমরা হয়ত কোন একটা কথা শুনে হাসতে হাসতে মরে যাচ্ছি, নায়লার কোন ভাবান্তর নেই। আমাদের হাসি শেষ হওয়ার পরে ওর কমন প্রশ্ন, “তোরা এভাবে হাসতেছিস কেন? আমি তো কিছুই বুঝতেছি না!”। নায়লার আরেকটা দিক হল, রেজাল্টের দিনের কান্না। ওর কান্নায় এদিন ডিপার্টমেন্টের সামনের রাস্তায় পানি জমে যায়! অমিত হচ্ছে “ওডেস্ক বয়”। মিজান খুব সিনসিয়ার স্টুডেন্ট। আমার “ডিপার্টমেন্টাল শ্যালিকা” হল তৃষা। একটা টাইপের চিংড়ি মাছ আছে না খুব ছটফট করে, নাম ভুলে গেছি এই মুহূর্তে … ওইটা হল সীমা। সীমার মাঝেও অসীম টাইপের অবস্থা। আমাদের “সুন্দরী তমা” হচ্ছে নিপা। মনির হচ্ছে “মিষ্টার সিরিয়াস”! রুমার কথা লিখতে গেলেই হাবিবার কথাটা চলে আসবে। সারাক্ষন দুইটা মেয়ে কিভাবে এক সাথে থাকতে পারে এদের না দেখলে বোঝা যাবেনা কিছুতেই। ইকবাল হল “মিষ্টার পারফেক্টশনিষ্ট”। কালই হয়ত কোন একটা পরীক্ষা, আমরা এরকম সময় যেটা করি শুধু হালকা একটা ধারনা নিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে এক্সাম হলে যাই। ইকবালের ব্যাপারটা ভিন্ন। পরীক্ষা থাকুক পরীক্ষার মত, সে ব্যাপারটা ভালমত বুঝেই ছাড়বে। রিদোয়ানের জীবনে একটা ব্যাপারই আছে, আর সেটা হল প্রগ্রামিং কন্টেষ্ট। কর্মঠ ছেলে ফাহিম। কোন কাজে জোঁকের মত লেগে থাকার অসীম ধৈর্য আছে হেলালের। “মিষ্টার রিজার্ভ” হচ্ছে শাহীন। “সিরিয়াল গার্ল” হল দিবা। কোন হিন্দি সিরিয়ালের কোন নায়ক অসুস্থ হলেই দিবার মনটা কষ্টে নীল হয়ে যায়। কিছু মেয়ে আছে না যারা অন্যদেরকে সব সময় ছোট ভাই বোনের মত দেখে? আমাদের নোরা আমার ধারনা অনেকটা সেরকম। দ্বায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারে এই মেয়েটি। অনিমা তো সেরকম লেখিকা। “লম্বুরানী” হল মেরী। সাদিয়া হল “মায়াবতী” টাইপের মেয়ে। লামিয়া হচ্ছে বুদ্ধিমতি মেয়ে। এলিনা হচ্ছে চুপচাপ ঘরনার মেয়ে। সাফির রুমে কত রাত থাকলাম এই ইউনিভার্সিটি লাইফে। সাকিন হচ্ছে আরেকজন “ল্যাব বয়”। সাকিনের ল্যাব করা মানে ৬০/৭০ ভাগ ছেলে মেয়ের ল্যাব শেষ। শুভ(রোল ৮৩) হল আমার ল্যাব গ্রুপ চেঞ্জের পার্টনার। মানে আমি “ইভেন গ্রুপ” থেকে “অড গ্রুপে” আসি আর ও অড থেকে ইভেনে যায়। অভিষেকের সাথে অভিষেক বচ্চনের মিলটা কেবল লম্বাতেই না। ফাত্তাহ খুব পাগলাটে স্বভাবের। গুঞ্জন হচ্ছে “মিষ্টার ডাউনলোড”। আমাদের “মিষ্টার শেয়ার বাজার” হল নাহিদ। ফয়সাল বারী র সাথে আমাদের বিচ্ছেদ ফার্ষ্ট ইয়ারের পরই। ছেলেটা অসাধারন টিটি খেলত। রাকিব হল “মিষ্টার গেমার”। শাকুর হল “পিকে”, আর ফরহাদ হল “পিডি”(পুরান ঢাকাইয়া)।

যোবায়ের আর শুভ না থাকলে আমার জীবনটাই হয়ত এরকম রঙ্গীন হত না। ওরা আমার জীবনে কি সেটা আমার মত বোকা বোকা লেখক কখনো লিখে বুঝাতে পারবে না। ওরা ঠিক আমার কাছে বন্ধু না, “ব্যান্ড অফ ব্রাদার্স”। শুভ ছেলেটা খুব ইমোশনাল, কিন্তু এই শুভর থেকে ভাল ছেলে আমি লাইফে কখনো দেখিনি। যোবায়ের ছেলেটা বিনয়ী। কাউকে কিছু বুঝায়ে দিতে হবে, এরকম সময়টাই মনে হয় ও সব থেকে বেশি উপভোগ করে। আমরা তিনজন কতশত সময় কাটিয়ে দিলাম এক সাথে … কোথায় হারিয়ে গেল সেই সময়গুলি?
আমার ব্যাপারে আমার লেখাটা ঠিক মানানসই না, তাই না? আবার না লিখলে যে ঠিক সেটি আমাদের গল্পটি হচ্ছে না! খুব ভেবেও তেমন কিছুই পেলাম না আমার ব্যাপারে বলার মত। হুট হাট মেজাজ খারাপ করে ফেলা ফালতু স্বভাবের ছেলে একটা আমি। ক্লাশের মেয়েদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করে বেড়িয়েছি সারা ইউনিভার্সিটি লাইফ। আমার ভাল স্বভাব বলতে বললে আমি বলব, আমি খুব সহজেই মানুষকে বন্ধু বানিয়ে ফেলতে পারি। অবশ্য সমালোচকরা বলে থাকেন, আমি নাকি বন্ধুদের সাথে যে রকম মিশুক স্বভাবের, অন্যদের সাথে ঠিক সেরকম অ্যা্রোগেন্ট! ঠিক জানি না আমি কিরকম। তবে মানুষকে একি সাথে অনেক আনন্দ এবং কষ্ট দিতে আমার জুড়ি নেই বলেই আমার ধারনা।

এতগুলা মানুষ, সবার সাথে আলাদা গল্প, আলাদা ঘটনা … সব তো আসলে বিস্তারিত লেখা সম্ভব না। তারপরও চেষ্টা করেছি সবাইকে নিয়ে কিছু না কিছু বলতে, কিছু না কিছু লিখতে। মনের গহীনে এখন কান পাতলে কি শুনতে পাই জানো বন্ধুরা? বিরহের ডাক, বিচ্ছেদের বেদনা। পরক্ষনেই ভাবি, এই তো জীবন। সব কিছুই মানুষের জীবনে কত কিছু আসে-যায়। বন্ধুরা কেবল আমাদের জীবনে আসেই, কখনো হারিয়ে যায় না। যাবে না তো তোমরা?

লেখকদের নাকি কিছু স্বীমাবদ্ধতা থাকে। চাইলেই সব কিছু নিজের মনের মত কিছু করে লিখতে পারে না। আমি হয়ত সেই রকমই কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমাদের গল্প গুলি লিখেছি। কি আসে যায়? এটা তো আমাদেরই গল্প। তাই না ?

মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০১১

আমার ডিপার্টমেন্টাল-ননডিপার্টমেন্টাল রিলেশনগুলি

জানা কথা ভাই, আপনি লেখাটা পড়ার আগেই চমকে গেছেন। মনে মনে ভাবছেন, অনেক রিলেশনের কথাই তো শুনছি মাগার এইরকম "ডিপার্টমেন্টাল-ননডিপার্টমেন্টাল" নামক উদ্ভট কিছু তো আগে শুনি নাই। তো আপনাকেই বলছি স্যার, লেখাটা মনো+ আই মিন মনযোগ দিয়ে পড়েন। তাহলে দেখবেন কতগুলো বানানো সহজ এমন রিলেশন আপনি মিস করছেন। তার আগে বলি, আমার সাপেক্ষে যারা ননডিপার্টমেন্টাল আই মিন যারা সি.এস.ই ডি.ইউ তে পড়েন না তাদের সব রিলেশন বুঝতে হয়ত একটু কষ্ট হবে। কিন্তু কষ্ট হইলেও পড়েন, আশা করছি মজা পাবেন।

প্রথমে সহজ সাভাবিক কিছু রিলেশন দিয়ে যে শুরু করব তার কোন উপায় নাই ভাই। উদাহরন দেখবেন ? ওকে শুরু করি, খালা আমাদের সবার খালা হয় শুধু একজন বাদে। কি চমকে গেলেন না ? হা হা হা ... জানা কথা। আচ্ছা খুলেই বলি তাহলে ব্যাপারটা, আমাদের তখন মাত্র ক্লাশ শুরু হইছে ডিপার্টমেন্টে আই মিন আমাদের ফার্স্ট ইয়ারের কথা আরকি। হুমায়ারা তাসনিম প্রিয়াঙ্কা কে ধরে মেয়ে CR(ছি আর - Class Representative) বানায়ে দেওয়া হইছে। আর সাদ তো ছেলেদের CR আগে থেকেই। তো সাদই মনে হয় প্রিয়াঙ্কাকে প্রথম খালা খালা বলা শুরু করছিল। সেই থেকে শুরু। উঠতে বসতে খালা খালা করতে আমাদের এই ভাল মেয়ে প্রিয়াঙ্কার সুন্দর নামটি আজকে বিলীনের পথে। তার থেকেও প্রকট সমস্যা হয় আসলে আমাদের। ধরেন কেউ একজন তার নিজের খালার কোন কথা আমাদের সামনে বলছে। আমরা একটু পরে বুঝি যে এই খালা আমাদের খালা নয়। যাই হোক, খালাকে নিয়ে প্যাঁচাল শেষ করার আগে উপরের একটা কথা এক্সপ্লেইন করি। খালা আমাদের সবার খালা একজন বাদে ... কথা ঠিকই তো আছে, খালা তো খালুর খালা হয় না তাই না ? খালুর হয় "এই"। :P

খালার পরেই যে রিলেশনে নিজেকে জড়িয়েছিলাম সেটা হল "জানু"/"ডিপার্টমেন্টাল জানু", আর পিঙ্কি হল সেই ভাগ্যবতী মেয়ে(!!!)। পিঙ্কিকে কেন এই "জানু" "জানু" করতাম ঠিক মনে নেই। কিন্তু এই ব্যাপারে একটা স্মৃতি মনে আছে। একদিন ক্লাশে আমি শুভর সামনে পিঙ্কিকে জানু জানু বলে খেপানোর ট্রাই করছি। আর পিঙ্কিও জানু জানু বলে আমার দেয়া "সিগনাল গুলো" ব্যাক করছিল। তো তখন আবির ছিল আমাদের সাথে(যা ভাবছেন তাই ... এই আবির সেই তুখড় মেধাবী ছেলে আবির)। আবিরের ক্লাশে প্রধান কাজ ছিল চোখ বন্ধ করে থাকা। ঘুমোত না ... জাষ্ট চোখ বন্ধ করে থাকত। তো ওই দিনও সে ওইরকম অবস্থায় আছে, চোখ বন্ধ। আর ওই দিকে আমি জানু জানু বলে পিঙ্কির সাথে ফাজলামী করছি। আবির চোখটা খুলে বলল, বাহ একজন জানু জানু করছে আর আরেকজন সেটার রিপলাই করছে। কি অদ্ভুত!! সাম্প্রতিক তথ্য, আমি পিঙ্কিকে জানু বলা ছেড়ে দিয়েছি। কেন জানি এখন আর বলা হয় না ... আর ও নিজেও বলে না। তবে যাই হোক, পিঙ্কি জেনে রাখিস যে জানুর আসনে তোকে বসিয়েছিলাম, সেখানে তুই সব সময় থাকবি( =)) =)) =)) )।

তৃষাকে ডাকি "শ্যালিকা"। এই শ্যালিকা ডাকার কারনটা অনেকেই জানে না আমাদের ক্লাশের। আসল ঘটনাটার শুরু হয়েছিল ফার্ষ্ট ইয়ারের হার্ডওয়ার ল্যাবে। একদিন ল্যাবে আমি আর শুভ বসে আছি। সাথে খালা, ম্যাড, মামনি, পিঙ্কি এরা(ম্যাড, মামনি আসলে ওদের নাম না ... কিন্তু এইগুলি ডাকতে ডাকতে অভ্যাস হয়ে গেছে)। তো শুভ পিঙ্কির কাছে পানি চাইল, কিন্তু পিঙ্কির ব্যাগে পানি ছিল না। ছিল তৃষার কাছে। আমিও একই সময় পানি চাইলাম। কিন্তু তৃষা পানি দিল শুভকে। তখনি প্রথম বলছিলাম, হু বুঝছিতো ... দুলাভাই(শুভ)রেই তো দিবা। এখানে এইটা বলার কারন, তৃষা আর পিঙ্কি একি কলেজ় থেকে আসছিল। সেই থেকে শুরু। তৃষা হয়ে গেল আমার "ডিপার্টমেন্টাল শ্যালিকা" !!

ডিপার্টমেন্টে আমার একটা মামাও আছে। সাদ হল সেই মামা। সাদই আমাদেরকে ক্লাশে একজন খালা দিয়েছিল। অনেকটা সেই কারনেই তাকে মামা বানায়ে খালা-মামা কোঠা পুরন করলাম।

এর পরেই আসে, "ডিপার্টমেন্টাল প্রেমিকা"। এতক্ষন পড়ে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন আমার জন্য রিলেশন ক্রিয়েট করাটা কতটা ডাল-ভাতের মত ব্যাপার। আসলে ডাল-ভাত হলেও আমি এই রিলেশনে বেশ সিরিয়াস ছিলাম (=)) =)) =)) )। কি রকম জানেন ? আমি ডিপার্টমেন্টের সবাইকে বলে বেড়াতাম এই হচ্ছে আমার "ডিপার্টমেন্টাল জিএফ"। ছোট বড় সবাই জানত ব্যাপারটা(=)) =)) =)) )। ওহহ, আসলে বলাই তো হয় নাই যে কোন ভাগ্যবতী নারী ছিল আমার এই জিএফ। মাদিহা তাবাসসুম ওরফে ম্যাড ছিলেন সেই বিখ্যাত নারী। এখানে একটা ব্যাপার, আমি "ছিল" কথাটা বলছি এই কারনে যে ... সম্প্রতি এক বৃষ্টি ভেজা দুপুরে সে অন্যের হয়ে গেছে[ :( :( :( ]। মনে আছে, একদিন ম্যাড আমাকে জিজ্ঞাস করছে - "আচ্ছা তুই কি থার্টিনের সবাইকে বলে বেড়াচ্ছিস যে আমি তোর জিএফ ?" আমার উত্তর, "অবশ্যই ... কেন নয় ? আমি তোকে পাব না, অন্য কাউকেও তোকে পেতে দিব না !!" সর্বশেষ ব্যাপার, যেহেতু আমার "ডিপার্টমেন্টাল প্রেমিকা" অপশনটি খালি ... আগ্রহী কেউ থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন।

আপনারা বলতে পারেন খালা আছে ... খালু নাই ? জী জী খালুও আছেন। আশরাফ হচ্ছেন আমাদের সেই খালু। আমার মনে হয় এই রিলেশনের ইতিহাস আপনাদের কে বুঝিয়ে বলতে হবে না। আসলে ইনার খালু হওয়ার ইতিহাস যদি বলতেই হয়, তাহলে অন্য পোষ্টে বলতে হবে। অনেক বিরাট ইতিহাস এটি। সর্বশেষ তথ্য, খালুকে সব জায়গায় এখন আর খালু বলা যাচ্ছে না। কিছু সমস্যা হচ্ছে। ফলাফল সরূপ সে কাল সাদের বাসায় বসে অন্য একটি খেতাব পেয়েছেন। "আঙ্কেল অ্যাশ" ... আশা করি খালুকে মাঝে মাঝে এই নামেও ডাকা হবে এখন থেকে।

ডিপার্টমেন্টে আমার একটি মেয়েও আছে !! মা ছাড়া মেয়ে আমার। নাজিয়া আলম নায়লা(ওরফে মুড়ির ঠোঙ্গা) হল সে। এই মেয়ে সব কিছু কম কম বুঝে। ধরেন আপনি একটা মজার কথা বললেন, সবাই হেসে গড়াগড়ি খেয়ে মাত্র উঠল। এরপর নায়লা জিজ্ঞেস করবে, এই তোরা হাসতেছিস কেন ? আরো ব্যাপার আছে। ধরেন সবাই মিলে গেলেন "শর্মা হাউজে" খেতে। নায়লাও গেল সবার সাথে। সে ওখানের কিছু খাবেন না! সে যাবে "হট কেক"এ। ওখান থেকে একখানা চকলেট কেন এনে সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাবেন। চকলেটও পছন্দ করে বাচ্চদের মত এই ময়েটি। সব মিলিয়ে সে হয়ে গেল সবার আদরের "মামনি"!! সাম্প্রতিক তথ্য, আমি আমার মেয়ের জন্য একখানা জামাই খুজঁছি। আর কি কিছু বলা লাগবে ? সেরকম কারো সন্ধান থাকলে জানাবেন !!

অনেক রিলেশন বললাম। এতক্ষনে বিরক্ত না হলেও এখন আরো বলতে গেলে নিশ্চিত ভাবে বিরক্ত হবেন। তাই ওই দিকে আর না আগাই। তারপরও কিছু ছোট ছোট রিলেশন(দূর্বল রিলেশন) আছে। যেমন রবিউল হল "কাকা", মেরী "বড় বউ", দিবা "ছোট বউ", সাদিয়া জানি কি হয়(কিছু একটা হয় আরকি), "পিক সামওয়ান অফ ইওর ওউন সাইজ" টাইপের জানি কে একজন আছে(!!) ... এই ধরনের আরো কিছু ছোট ছোট রিলেশন নিয়েই আমার ডিপার্টমেন্টাল জীবন।

একেবারে শেষে বলতে চাই, উপরের সবাইকে হয়ত মজা করে অনেক কিছু ডাকি। কিন্তু আমরা সবাই খুব ভাল বন্ধু। আই লাভ ইউ আলল ...

ভাল থাকবেন।