দৈনন্দিন জীবন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দৈনন্দিন জীবন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০১৪

নিখোঁজ বিমানের জন্য

কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংগামী বিমানের হারিয়ে যাওয়াটা আমার বাস্তব জীবনে দেখা বড় মাপের ক্লাইমেক্সগুলির মধ্যে একটা হয়ে থাকবে। কেন নয় বলুন ? কিছু ইন্টারেষ্টিং পয়েন্ট এরকম হতে পারে,

১. ওই বিমানটিতে দুই জন ভুয়া পাসপোর্টধারী ব্যাক্তি ছিলেন, যেই পাসপোর্ট দুইটি বছরখানিক আগে হারিয়ে গিয়েছিল থাইল্যান্ড থেকে। এই ভুয়া পাসপোর্টধারী ব্যাক্তি আবার প্রায় একই সময়ে পাশাপাশি দুইটি সিটের টিকেট কেটেছিলেন।
২. বিমানটি যখন থেকে রাডার থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তখন বিমানটি মাটি থেকে প্রায় ৩৫হাজার মিটার উপরে ছিল ... কোন দুর্ঘটনায় পরলে সেটি কোন বিমানবন্দরের সাথে যোগাযোগ করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিল।
৩. বিমানটি হারিয়ে যাওয়ার মুহুর্তে এটি তার যাত্রা পথ থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল।
৪. ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করে উড়োজাহাজকে পুরোপুরি রাডার থেকে গায়েব করে দেয়া যায়। আর হারিয়ে যাওয়া মালয়েশীয় এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটিতে এই প্রযুক্তি নিয়ে সরাসরি কাজ করছেন এমন ২০ জন যাত্রী ছিলেন।

ঘটনার পিছনে যদি আসলেই কোন ঘটনা ঘটে থাকে, আমাদের মত সাধারন মানুষের সেটা হয়ত কখনোই জানা হবে না। হয়ত MI6 বা CIA এর মত বড় বড় এসপিওনাজ এজেন্সীর ঘাগু গোয়েন্দারা এটার সাথে জড়িত। বা কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সম্পৃক্ততা থাকতেই বারে। হয়ত যা ভাবছি তার কিছুই হয়নি ... কোন কারনে বিমানটি হয়ত ক্রাশ করেছে। এমন যায়গায় ধ্বংসাবশেষ পরেছে, যেটা হয়ত উদ্ধারকারী দল খুঁজে পাচ্ছে না। হয়তবা এই রহস্যের কোন কিনারাই হবে না কখনো। ১০/১২ বছর পরে এই ঘটনা নিয়ে হয়ত সুপার ক্রাইম-থ্রিলার টাইপের কোন মুভি বানাবে কেউ ... আমরা হয়ত কোন একটা ছুটির দিনের অলস বিকেলে সেটা দেখে শিহরিত হব।

কিন্তু এই অনেক "হয়ত"র মধ্যে আমি কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না। হারিয়ে যাওয়া এই বিমানের যাত্রীদের পরিবারগুলির কথা ভাবলেই মন খারাপ হচ্ছে। অনিশ্চয়তা একটা খারাপ অবস্থা। একটা মানুষ হারিয়ে যাওয়া আর মরে যাওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। ... হে বিমান, ফিরে এসো। 


সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মেসুত ওজিলের রিয়াল মাদ্রিদ থেকে চলে যাওয়া !

আমি যখন এই লেখাটা লিখছি তখনও পর্যন্ত অফিশিয়াল নিউজ আসে নাই, কিন্তু মুটামুটি নিশ্চিত, মেসুত ওজিল রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনালে জয়েন করছে। ট্রান্সফার ফি খুব সম্ভবত ৪০ মিলিয়ন ইউরো। খবরটা নিঃসন্দেহে আমার জন্য হতাশাজনক ছিল। পার্সোনালী আমি ওজিলের একজন ভক্ত। আর রিয়ালে ওজিল-রোনালদো জুটির কথা কে না জানে। যাইহোক !

রিয়ালের জার্সি গায়ে এভাবে মেসুত ওজিলকে আর দেখা যাবে না !

ওজিলের ট্রান্সফার উপলক্ষ্যে অন্য দলের অনেক সাপোর্টারকেই ডুগডুগি বাজাতে দেখছি। কিছু বলার নাই ! শান্তি পাওয়ার মত উপলব্ধি এইটাই যে, ওজিলকে ওরা এতদিন ভয় করত ... এইটা আজকে প্রকাশ পাইল। CR7 টিম ছাড়লে তো মনে হয় পাড়ায় মহল্লায় মিলাদের হিড়িক পইরা যাবে ! রিয়ালের সাপোর্টার অনেকের মধ্যেও এটা নিয়ে বেল কে জড়িয়ে অনেক মন্তব্য করতে দেখলাম। ব্যাপারটা দুঃখজনক। প্রিয় মেতসু ওজিলের ট্রান্সফার যেমন দুঃখজনক, তেমনি বেলকে এর সাথে জড়ানোও দুঃখজনক।

যাকগা, রিয়ালের এখন যে অবস্থা ... তাতেও অন্য দলগুলির সামনে খবর আছে (অন্তত পানিতে ফালায়ে দিতে পারবে না) বলে রাখা যায়। ফরোয়ার্ডে রোনালদো (প্রধান সেনানী, নতুন করে কিছু বলার নাই। রিয়ালের হয়ে ২০২ ম্যাচে ২০২ গোল করেছে এখন পর্যন্ত), বেনজামো (রিয়ালের স্ট্রাইকার হিসেবে আমার পছন্দ নয়), বেল(দেখা যাক কেমন করে রিয়ালে এসে, তবে পিছনে মড্রিচ আর পাশে রোনালদো থাককে ... খারাপ কইরা পালাইতে পারার কথা না ! :P), মারিয়া(যেইদিন ঠিকঠাক খেলে, সেইদিন কাঁপায়ে দেয় ... যেদিন খারাপ খেলে সেইদিন নিজেই কাঁপতে কাঁপতে পইরা যায়। তবে এই মারিয়াকে আমি দেখতে পারি না একটা কারনে, হুদাই প্যাঁচায়, খালি পইরা যায় মাঠে)। ... এর পিছনেই ইসকো (ইসকো তো দেখি ডিসকো মার্কা খেলা দেয় আজকাল), মড্রিচ (প্রধান হাতিয়ার গতি, সামনে বেলকে পেলে অসাধারন হওয়ার কথা, আর ইসকোও দেখলাম বেশি গতি নিয়ে খেলে ... ভাল জুটির প্রত্যাশায় রইলাম), খেদিরা(ধীর-স্থির, ডিফেন্সিভ মিডের বস), আলনসো(বয়স হয়ে গেছে, তারপরও ভাল সার্ভিসের অপেক্ষায়) ... এর থেকে একটা আক্রমন ভাগে আর কি চাই ? আমি আশাবাদী !


গোল উৎযাপনের এক মুহুর্তে ওজিল আর রোনালদো। এই জুটিকে রিয়ালে আর এভাবে দেখা যাবে না !
আমরা অনেক মিস করবো এই জুটিকে।

অনেকে বলছেন, ওজিলকে রেখে মারিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার কথা। ব্যাপারটা নিয়ে সীদ্ধান্ত দিয়েছেন একমাত্র কোচ। কোচকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে মারিয়া অথবা ওজিল। কোচ মারিয়াকে রাখার কথা বলেছেন, সো আশা করা যায় মাদ্রিদ নিয়ে আজেবাজে কথা বলার আগে একটু ভাববেন। এক বেলকে আনতে অনেক টাকা বেরিয়ে গেছে, সো টাকা দরকার। ওজিলকে কখনো বিক্রি করতে হবে, এটা কল্পনায়ও আমি ভাবিনি সেটা ঠিকাছে, কিন্তু আপনাকে স্ট্রাটেজি বদলাতে হবে। ওজিলের সাথে রোনালদোর জুটিটা ভাল ছিল ঠিকাছে, কিন্তু রোনালদো কিন্তু একা একা খেলেই আজকের রোনালদো হইছে।


ওজিল আর রোনালদো জুটি আমার দেখা সেরা।


সব থেকে বড় দিকটা ভেবে দেখুন, ওজিলের জন্যও একটা ভাল ব্যাপার এটি। কারন,  ফুটবলে টিম ঠিক করেন কোচ। সো, কোচ যদি ওজিলকে বেঞ্চে বসায়ে রাখত ... তার ফর্ম খারাপ হইত। এর থেকে আর্সেনালে গিয়ে অনেক ভাল করছে। সব থেকে বড় কথা, ওখানে আর্সেন ওয়েঙ্গারের মত একজন কোচের সান্নিধ্যে থাকবে সে। সো, সামনে তার জন্য বড় কিছু করে দেখানোর মঞ্চ খালি পরে আছে। কাকাকে দেখুন, সব শেষ হয়ে যাওয়ার পরে সে মিলানে গেছে। অথচ আরো ১/২ বছর আগে যেতে পারলে ওর জন্যই ভাল হইত। তাই না? আমি ভাই ফুটবলে "টিম" সাপোর্টের থেকে, সুন্দর খেলা দেখতেই বেশি পছন্দ করি। কাকা-ওজিলরা হারিয়ে গেলে সেটা ফুটবলের জন্যই লস।


দুই যুগের দুই সেরা মিড-ফিল্ড মার্শাল। যদিও এই জুটিকে আমরা রিয়ালে সেভাবে পাইনি, কিন্তু তারপরও ...


তবে সকল সাপোর্টার সমান নয়, অন্যদলের সাপোর্ট করে এমন অনেকেই দুঃখ বোধ মুলক কথাবার্তা বলছে। সেটা একান্তই ওজিল কেন্দ্রিক। তাদেরকে ধন্যবাদ। তারাই ট্রু ফুটবল সাপোর্টার। ক্লাশ সেভেন এইট থেকে মাদ্রিদ সাপোর্ট করি বলে গালি দিলাম না, নইলে আমার কি যে ইচ্ছা করছে ... বলতে পারছি না ! তারপরও এটাই আমাদের মাদ্রিদ ... যারা কিনা ২০০০ সালের পর থেকে আমাদের একের পর এক ট্রান্সফার চমক দেখিয়ে গেছে ! খালি ট্রফি পাই নাই, সেইটা আলাদা কথা ! :P :(

ওজিলের ট্রান্সফার সংক্রান্ত খবরে অন্য মানুষের করা দুইটা মজার মন্তব্য বলে লেখা শেষ করব। আমি ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম এই নিয়ে। আমার এক বন্ধু সেখানে মন্তব্য করেছিল, "নতুন শার্ট কেনার আনন্দে রিয়াল এতটাই আত্নহারা যে তাদের প্যান্ট যে খুলে গেছে সেই খবর নাই!" এদিকে আমি জিমেইলে লিখছিলাম "I will miss Mesut Özil ! The ultimate master & the maker ! Bye, Mesut ! :(" আমার এক সিনিয়র আপু নক করে বলল, "ডরাইছিলাম! ওজিল কি মারা গেছে কিনা ! এখন দেখি হুদাই ট্রান্সফার করতেছে। পোলাপাইন এত ড্রামা করতে পারস" ! =))


সবার শেষে বলতে চাই, I will miss Mesut Özil ! The ultimate master & the maker ! Bye, Mesut ! :(

বিঃদ্রঃ এই পোষ্টে ব্যাবহৃত সকল ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত।

সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৩

দৈনিক কথন, ১৫ জুলাই ২০১৩

আজকে সকালের ঘুমটা ভেঙ্গেছে অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখে। থিসিস ডিফেন্সে আমি আমার স্পিচ দিচ্ছি। সামনে বসে আছেন আমাদের শ্রদ্ধেয় সুরাইয়া পারভিন ম্যাডাম, রাজ্জাক স্যার আর সামিউল্লাহ স্যার। এদের মধ্যে সুরাইয়া ম্যাডাম আর সামিউল্লাহ ভাইয়ের কোন আগ্রহই নাই আমি কি বলছি সেটাতে। কেবল রাজ্জাক স্যার খুব মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনছে আর মিটিমিটি হাসছে। এদিকে আমি স্যারের রহস্যময় হাসিতে পুরাপুরি বিভ্রান্ত হয়ে আমতা আমতা করছি। আমি যতই এভাবে আমতা আমতা করছি, স্যারের মুখের হাসি ততই প্রসারিত হচ্ছে। একসময় স্যার অনেকটা আগের কালের বাংলা সিনেমার নায়কদের মত "মুহাহাহা" টাইপের হাসি দেওয়া শুরু করল। আর সেই হাসির শব্দে আমার ঘুম  গেল ভেঙ্গে। উঠে দেখি স্যার হাসছে না, আমার মোবাইল বাজতেছে। ধরার আগেই লাইনটা ছেড়ে গেল। দেখি সাদ ফোন দিছে। আজকে আমার থিসিসের ভাইভা হওয়ার কথা, সকালে উঠে হলে যাব ... আসিফের সাথে কাজ করবো বলে। এর মধ্যে সাদ আবার ফোন করে ক্যান? ওকে ফোন ব্যাক করতেই ও দুঃসংবাদটা দিল। আমার মেধাবী হওয়ার সর্বশেষ সুযোগটা আমি হাতছাড়া করলাম।

ব্যাপারটা খোলসা করি। আজকে আমার থিসিস ডিফেন্স ছিল। আজকেই আবার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত গোলাম আজমের রায় হবে। সেই উপলক্ষে জামাত-ই-ইসলামী হরতাল ডেকেছে। এর মধ্যে কি থিসিস ডিফেন্স হবে? এই ব্যাপারে ডিপার্টমেন্টের হাব-ভাব গতকাল পর্যন্ত ছিল অনেকটা এমন যে, "অনেক হইছে বাপু ... আর না ! এইবার পরীক্ষাটা শেষ কর ! আর হরতালের মধ্যে পরে কেউ মারা গেলে তো বেঁচেই গেলা ! পুরাই মেধাবী !" এহেনো কঠিন অবস্থান থেকে সরে এসে ডিপার্টমেন্ট মুটামুটি সহজ একটা পথে হাঁটার চেষ্টা করল। পরে জানানো হবে এই মর্মে একটা নোটিশ ঝুলায়ে দিল আমাদের সামনে। এরমানে সহজ, আজকে অফিসে যেতে হবে।

ঘুমটুমের কথা ঝেড়ে ফেলে দ্রুত যোবায়েরকে ফোন দিয়ে বের হতে বললাম। একটা সিএনজি নিয়ে চলে গেলাম অফিসে। অফিসে আবার এই রোজার মধ্যে একেবারেই সময় কাটে না। খাওয়া দাওয়া নাই, কিছু নাই। সময় কাটবে কিভাবে ? কোমড়টা চেয়ারে দিতেই হঠাৎ অনুভব করলাম, জ্বর তাহার সকল শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসছে। মাথাটা ঘুড়েও উঠলো মনে হইল। মনেহয় থিসিস ডিফেন্স নিয়ে অতিরক্ত চিন্তার কারনে ব্যাপারটা হইছে। চোখে মুটামুটি অন্ধকার দেখা শুরু করলাম, কোন দিকে তাকাতেই পারছি না ! মাথাটা নিচু করে কতক্ষন চুপচাপ বসে থাকলাম। দেখি কাজ হয় না। যাই হোক, অফিসে খুব বেশি প্রেশার না নিয়ে থাকলাম সারাদিন। অবশ্য মনের মধ্যে কুট কুট করতেছিল, কারন আমি এরমধ্যে অনেকটা দিন ছুটি নিয়ে নিয়েছি অফিস থেকে, থিসিসের কাজের জন্য। অসুস্থ হয়ে গেলে আবার পাইন, বুঝলাম দ্বায়িত্ব জ্ঞান বাড়ছে।

দুপুরের দিকে অফিসে অমি আপুর ডেস্কের দিকে তাকাতেই মনে পরলো জামাত-ই-ইসলামী বাংলাদেশের সাবেক নায়েবে আমির গোলাম আজমের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের করা যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় হবে আজকে। কয়েকটি অনলাইন পত্রিকার সাইটে ঢুকলাম। আগে থেকেই আমার মনে হচ্ছিল গোলাম আজমের রায়ে সরকার একটা বিশেষ কিছু করবে। আমার এরকমটা মনে হওয়ার কারনটা বলি আমার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে। এই গোলাম আজমের বিচারের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে মুটামুটি মাসখানেকের বেশি আগে। ব্যাপারটাকে দ্রুত সামনে থেকে সরায়ে ফেলা হয়েছে, কারন সরকার চায় যখন দেশের মানুষকে আরেক দফা মূলা খাওয়াতে হবে, তখনই ব্যাপারটাকে সামনে নিয়ে আসা হবে। আরেকটা ব্যাপার ছিল যে, গোলাম আজমের বয়স এখনই মুটামুটি ৯০ বছরের মত। সো উনাকে যদি বয়স বিবেচনায় ফাঁসি না দেওয়া যায়, জনগন আবার ব্যাপারটা নিয়ে বেশ কিছুদিন লাফালাফি করবে।

ব্যাপারটার সাথে বর্তমান অবস্থাটা মিলিয়ে নিন। বিসিএস এর কোটা নিয়ে দেশের ছাত্রসমাজের মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ কাজ করছে। এরমধ্যে কয়েক দফা আন্দোলনও করেছে সাধারন ছাত্রছাত্রীরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই আন্দোলনে মাথানত করে পিএসসি এর মধ্যে আরেকটি রিভাইজড ফল প্রকাশ করেছে। এইনিয়ে অনেকের মধ্যেই চাপা সন্দেহ ছিল এই যে, এই পুনঃপ্রকাশিত ফলাফল হয়ত আইওয়াশ। বর্তমান আন্দোলনে প্রলেপ দিতে এই ফল প্রকাশ করা হয়েছে, যাদেরকে নতুন করে বিবেচনায় নেওয়া হল ... তাদেরকে হয়ত পরের স্টেজেই বাদ দেওয়া হতে পারে। সো, সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে বিভন্ন "কোটা"র বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল সেটাই হয়ত আবারো শুরু হত। আর সকলেই কম বেশি জানেন, দেশের ছাত্র সমাজের আন্দোলনের ফলাফল কতদূর পর্যন্ত গড়াতে পারে।

এই অবস্থাতেই যেহেতু গোলাম আজমের রায়টা দেওয়া হচ্ছে, সো, কিছু একটা হয়ে থাকতে পারে বলে আমার সন্দেহ হচ্ছিল আগে থেকেই। দুপুর নাগাদ জানতে পারলাম, যেরকমটা ভাবছিলাম সেরকমই একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছে। গোলাম আজমকে ৯০ বছর কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে জনগনের দৃষ্টি ঘুড়ে গেল, সবারই এখন প্রশ্ন, '৭১এ স্বাধীনতার সময় শিশু ও বৃদ্ধদেরকে মারার সময় কি বয়স বিবেচনা করা হয়েছিল?

আমি এইব্যাপারটাতে যখনই  কোন মন্তব্য করতে যাব তখনই নেটে দেখলাম গতকাল আওয়ামী লীগের কিছু নেতার সাথে জামাত-ই-ইসলামী বাংলাদেশ এর কিছু নেতার মিটিং হয়েছে বাংলাদেশের আমেরিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে ছিল দরবেশ সালমান এফ রহমান, আর বিচিত্র গহর রিজভী। বুঝে গেলাম, সমঝোতাটা শুধু শুধু আসে নাই। কিছু মাল-পানির লেনদেনও হতে পারে। যাই হোক, আমি রাজনীতির এত গভীরে নিজেকে প্রবেশ করাতে চাই না। আওয়ামী লীগ যদি মনে করে এই বিচারের রায় নিয়ে আতাঁত করলেই তাদের পিঠ বাঁচাতে পারবে, তাহলে তারা মস্ত বড় ভুলের দুনিয়াতে আছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিঃসন্দেহে অনেক কঠিন একটা ব্যাপার। কারন, এই ব্যাপারের বহু দেশ ও সংস্থার চাপ থাকবে। এটাই স্বাভাবিক। আমেরিকা, ইংল্যান্ড হতে শুরু করে আমাদের মুসলিম ভাইদের দেশ সৌদি আরব কিংবা পাকিস্তান ... ওআইসি, কিংবা আরব লীগ, সবাই এই ব্যাপারটাতে যে চাপ দিবে সেইটা তো আমিই বাসায় বসে জানতাম। আর আমি বাসায় বসে বসে পেপার পত্রিকা পড়ে যেটা বুঝতে পারলাম, সরকার সেই ব্যাপারটাই যে একেবারেই বুঝতে পারে নাই, আর যেই হোক, আমি বিশ্বাস করি না। প্রশ্ন হচ্ছে, চাপে যদি নত স্বীকার করতেই হয়, তাহলে কেন দেশের মানুষের আবেগকে উষ্কে দেওয়া হল ? সরকারটা না একেবারে বোকা !

আমার লেখায় আবার ফিরে আসি। বাসায় এসেই গড়িয়ে পরলাম বিছানাতে। আসরের নামাজটাও গেল সাথে। ঘুম থেকে উঠছি যখন মাগরীবের আযান দিচ্ছে তখন। উঠেই ইফতারী সারলাম। শরীর বেশি খারাপ করছে। জ্বরের সাথে এখন বোনাস আকারে সর্দিও জুটে গেছে। কাল অফিস কিভাবে করবো বুঝতেছি না। অফিস কামাই দিতে আর ইচ্ছা করে না। দ্বায়িত্ব বোধ, সবই দ্বায়িত্ববোধ যে !

শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৩

দৈনিক কথন, ৬ জুলাই ২০১৩

এর মধ্যে একদিন বাসার কিছু মানুষজন এর জন্যে কেনা কাটা করতে গেলাম। কথা শুরুর আগেই বলে রাখি এখনো বেতন পাই নাই, সো ওই রিলেটেড ঘ্যান ঘ্যান-প্যান প্যান বন্ধ। যাই হোক, বড় আপুর একটা শাড়ীর জন্য "ড্রেসী ডল" নামের একটা দোকানে গেলাম। ওদের কালেকশন বেশ ভাল বলতে হবে। কাপড় দেখতে দেখতে একটা কাপড়ের দামের ট্যাগ দেখে আমার চক্ষু পুরা চড়ক গাছ! কারন কাপড়টার দাম মাত্র ২৫,০০০/= টাকা। এরপর পটাপট কয়েকটা কাপড়ের দামে চোখ বুলিয়ে নিলাম, সর্বনিম্ন ২০,০০০/= পর্জন্ত নামতে পারলাম ... এর নিচে কোন দাম খুঁজে পেলাম না। মনে মনে চিন্তা করলাম ... ২৫ হাজার টাকা দিয়ে কাউকে একটা মাত্র কাপড় কিনে দিতে হইলে নিজের মাসিক ইনকাম কত হইতে হবে ? কিছুতেই সেই অংক মিলাতে পারলাম না ...

এরপর গেলাম "অ্যান্ডি সিল্ক" নামের একটা ঘোড়ার ডিম কিনতে। ঘোড়ার ডিমের কথা শুনে কি চোখটা একটু কুচকালেন ? ঘোড়ার ডিম যেমন একটি "অলিক বস্তু", ঠিক তেমনি অ্যান্ডি সিল্ক হইল "অলিক সিল্ক"। ৫/৭ টা দোকানে খুঁজলাম, অ্যানি সিল্কের নামে একেক জন একেক টাইপের কাপড় দেখায়ে দিল। বলি, কাপড় চিনি না দেখে কি এরকম মজা নিল নাকি ? খালি অ্যান্ডি সিল্ক হইলেও কথা ছিল। এর সাথে জুড়ে গেছে "কাতান পাড়" ! মেয়েদের আবদার দেখে আমার মাঝে মাঝে চিৎকার করে কাদঁতে ইচ্ছা করে। হে ঈশ্বর, ছেলেদের জামার সাথে "কাতান পাড়" যুক্ত করলে না ক্যান ?

যাই হোক, ফেসবুকে আজকের আলোচনা দেখে তো মনে হচ্ছে "তেতুল" বোধহয় এইদফা দেশের জাতীয় ফলের মর্যাদা পেয়েছে ! নাকি সবাই মিলে একসাথে প্রেগনেন্ট হয়ে গিয়েছেন ? (মাফ করবেন, প্রেগনেন্ট হইলে খালি যে তেতুলের আচারই খাইতে ইচ্ছা করে এমন মনে হয় না, অন্য ফলের আচারও মনে হয় খাইতে ইচ্ছা করে। কারন লেখাটার ড্রাফট একজন নারীকে পড়তে দিলাম, সেই আমার এই ধারনার ভুলটি ধরিয়ে দিল।) যাই হোক, আমরা জাতিগত ভাবে সমালোচনা প্রিয়। সো তেতুল নিয়ে জল যে অনেক দূর যাবে এখনই বোঝা যাচ্ছে।

গেল কিছু দিন ধরে মানসিক উদ্দিপনাহীনতায় ভুগছি। আশে পাশে অনেক কিছুই ঘটে যাচ্ছে, কিন্তু কিছুতেই আগ্রহ পাচ্ছি না। এই মাসের ১১ তারিখ থিসিস রিপোর্ট জমা দিতে হবে, সেই জন্য অফিস থেকে দুই দিনের ছুটিও নিলাম। সাথে দুইটা সাপ্তাহিক ছুটির দিন পাইলাম, কিন্তু তেমন কোন কাজই করলাম না। এরকম মাঝে মাঝে হয়, যখন আমি খুব করে বিষন্নতায় ভুগী। এইসময়টাতে কোন কিছুই ভাল লাগে না। কাল থেকে আবার অফিস করা লাগবে, কিছুতেই চাচ্ছি না এই অবস্থাটা অফিসেও থাকুক।

অফিসে আমার ডেস্কের জন্য কিছু জিনিস পত্র কিনলাম। দুইটা ফুলের শো পিস টাইপের জিনিস, একটা কলম-দানী, একটা কুশন। কুশনটা কিনছি পিঠের নিচে দেওয়ার জন্য। পিঠে ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে এর মধ্যেই।

সকালে ঘুম থেকে উঠে মিশুকের ফোন পেলাম। ও বলল আজকে নাকি রাজ্জাক স্যারের সাথে কথা বলছে "বই শেয়ার" এর ব্যাপারে। যোবায়ের নাকি ওরে স্যারের রুমে দিয়ে কোথায় যেন গেছে। এরপর যোবায়েরকে ফোন করলাম। সে বলল শুভ-পিঙ্কি নাকি ওরে খাওয়াচ্ছে "লাসানিয়া কাবানা"তে। ও শুভরে ফোন দিল এরপর। শুভ খুব ভুল হয়ে গেছে এমন ভঙ্গীতে আমাকে বলে ৩০ মিনিটের মধ্যে লাসানিয়া কাবানাতে যেতে পারবো কিনা। কি অদ্ভুত! আমি কি ওর কাছে খেতে চাইছি নাকি ? পোলাপাইনগুলিও কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে। ওরা ইউনিতে আসলেও এখন আর আগের মত জানায় না। ভাল !

ফেসবুকে আজকাল কোন কিছু নিয়ে মন্তব্য করতে ভাল লাগে না। ভাল না লাগার প্রধান কারনটা আমি নিজেই। কোন একটি পক্ষের প্রতি সামান্য দুর্বলতা থাকা অবস্থায় কোন মন্তব্য করা আসলে সমীচিন নয়। কথাটা আমরা অনেক সময়ই ভুলে যাই। 

শনিবার, ২৯ জুন, ২০১৩

২৯শে জুন ২০১৩, দিনটি যেমন গেল !


আজকে মিশ্র একটা দিন কাটালাম। আগে থেকেই জানতাম প্রিয় একজন মাস খানিকের জন্য ঢাকা ছেড়ে যাবে আজকে। সকালে উঠেই মনে হল কেউ একজন নেই ব্যাস্ত এই শহরে। তাকে খুব মিস-টিস করতেছি এর মধ্যেই একটা থিসিস পেপার নিয়ে বসা লাগলো সেটার ম্যাকানিজমটা বুঝতে। কিছুতেই সেইটা বুঝতে পারলাম না। এই থিসিস একটা ঝামেলারূপে আমাদের মত নব্য চাকুরীজীবিদের জীবনে এসেছে ! সকালে অফিসে ঢুকি একরাশ টেনশন নিয়ে( যে থিসিসটা শেষ করতে হবে ), বিকেলে অফিস ছাড়ি একরাশ হতাশা নিয়ে( যে এখন খুব টায়ার্ড লাগছে, বাসায় গিয়ে থিসিসের কিছুই করা হবে না)।

দুপুরে IIT তে অফিসের একটা সেমিনার ছিল, সেটাতে অ্যাটেন্ড করলাম। খালেদ ভাই(৬ষ্ঠ ব্যাচ, সিএসই ডিইউ) সেখানে অন্য স্যারদের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল যেখানে আমার সিএসই ডিইউ র ১৫তম ব্যাচের পরিচয় ছাপিয়ে CSEDU Food Lovers (সিএসই ডিইউ খাদক সম্প্রদায়) এর একজন অ্যাডমিনের পরিচয় প্রাধান্য পেল। ভাল লাগলো ব্যাপারটা ! সাথে সাথে নিজের চাকুরীর জীবন শুরুর এক মাসের মাথায় আমি ছেলেপুলেকে বুদ্ধি-পরামর্শ দিলাম কিভাবে একটা চাকুরী বাগাতে হবে ! বাহ, আমার দুঃসাহসে আমি নিজেই মুদ্ধ হয়ে গেলাম।

দুপুরের পরে কিছু বন্ধুবান্ধব যাদের সাথে এখন আর শনিবার ছাড়া এখন আর দেখা হয়না, তাদের সাথে দেখা করলাম। যেমন - প্রিয়াঙ্কা, আশরাফ, লামিয়া, শুভ, পিঙ্কি, সজিব, নায়লা ...  পোলাপাইন গুলিরে দেখলে এখনো আমার মনটা ভাল হয়ে যায়, সেইটা কি ওইগুলি জানে? কি জানি! জানে হয়ত, তাদেরই কেউ কেউ আবার হয়ত জানেও না ! সাদের সাথে এরপর পুরান ঢাকার রয়ালে গিয়ে খাসির তেহারী আর গ্রিল চিকেন খেলাম। যারা আগে কখনো এই কম্বিনেশনে(তেহারী-গ্রিল চিকেন) খান নি, তারা এইটা খেয়ে দেখতে পারেন। অসম্ভব ভাল লাগছে। খাওয়া দাওয়ার পরে আমি আর সাদ একে অপরের সাথে প্রতিজ্ঞা করলাম নেক্সট ১০ দিন আমরা চর্বিযুক্ত সকল ভারী খাবার পরিহার করে চলব। এখনো জানিনা এইটা কিভাবে মেনে চলবো ! ওইখানে খাওয়ার মধ্যে একটা পুরান ঢাকাইয়া মেয়ে ব্যাপক হারে আমার সাথে টাঙ্কি মারার ট্রাই করলো। মেয়েটি পুরান ঢাকার বুঝলাম কারন খাওয়ার মধ্যে তার বাবা ফোন করছিল মনে হয় ... তখনকার তাদের কথোপকথন শুনে ! আরে ভাই(আপু হবে আসলে কথাটা), তোমার না হয় আমার মতই স্বাস্থ-টাস্থ একটু ভাল ... তাই বলে এভাবে টাঙ্কি মারে নাকি ? বোকা মেয়ে কোথাকার !

বিকেলে হলে পোলাপাইনের সাথে আড্ডা। কে বিকেলে নাস্তা খাওয়াবে সেইটা নিয়ে বহু ক্যাচালের পরে ওরা আবার চঙ্খারপুলের সোহাগ হোটেলে গেল কালাভুনা টুনা খেতে, আমি প্রতিজ্ঞার কারনে খেতে পারলাম না ! ফেরার পথে যোবায়ের সাথে কথপোকথন -
....................
আমিঃ দোস্ত, যুবক কাকে বলে? আমরা কি এখন তরুন? নাকি যুবক ?
যোবায়েরঃ মনেহয় যুবতীদের জামাইদের যুবক বলে ! :P
...............................

এরপর বাসায় এসে দেখি বুয়া বিকেলের রান্না করে নাই। আরো কয়েকটা কারনের সাথে এইটা মিলে মেজাজ মুটামুটি ভালই খারাপ হইল। সেইটা নিয়ে আবার জিমেইলে স্ট্যাটাস দেওয়া মাত্র কিছু বন্ধুবান্ধব সাথে সাথে খোঁজ নিল(সাদ, সজিব ...) ক্যান মেজাজ খারাপ। ... শেষ পর্যন্ত আমার অনুভূতি, "বন্ধু ছাড়া জীবন ? ইম্পসিবল !"

এই লেখা যখন লিখছি তার একটু আগে বন্ধু পায়েল একটা মিউজিক শুনতে দিল। মিউজিকটা ভালই ... থিম হচ্ছে "লিভ অ্যা বিউটিফুল লাইফ" টাইপের কিছু। শুনতে শুনতে মনে হচ্ছে কিছুদিনের জন্য দূরে চলে যাওয়া মায়াবতীকে ছাড়া আমার লাইফ তো আসলে বিউটিফুল না ! ভাবতেই মনটা আরেকদফা খারাপ হয়ে গেল। এর মধ্যে পায়েলের সাথে আমার জিমেইলে কথপোকথনঃ
......................
যোবায়েরঃ ফেসবুকে একটা মিউজিক শেয়ার দিয়েছিলাম। শুনছিস ?
আমিঃ নাহ, কাল তো বাইরে ছিলাম। আজকে শুনবোনি। কিসের মিউজিক? মানে দেখছি যে একটা মিউজিক শেয়ার দিয়েছিস।
যোবায়েরঃ ট্রান্স। যাষ্ট মিউজিক।

(~~~কিছুক্ষনের বিরতি~~~~)

আমিঃ মিউজিকটা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল।
যোবায়েরঃ হোয়াই? গানটার থিম তো "to live a beautiful life" নিয়ে।
আমিঃ মায়াবতীর কথা মনে পরছে। :(
যোবায়েরঃ আমি লাইট অফ করে দিয়ে টানা শুনতেছি, মিক্সড ফিলিং হইতেছে। আমার মনে হচ্ছে জীবনের মোষ্ট ইম্পর্টেন্ট পার্টটা শেশ হয়ে গেল ... কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না।
আমিঃ হুম! সেটাও ট্রু হয়ত !
যোবায়েরঃ btw, sorry for making u sad ! এখন মনে হইতেছে মিউজিকটা স্যাড। someone's leaving ! :(
আমিঃ হা হা ! মিউজিকটা সুন্দর। "to live a beautiful life" এর যেই কন্সেপ্টটা বললি, সেটাও পুরাপুরি আছে। আসলে ও আজকে চলে গেছে তো ... সো মিউজিকের মধ্যে যে রোমান্সটা আছে, সেখানে ব্যাপারটা ধরা খাচ্ছে !
............................

... মায়াবতী তুমি ফিরে এসো, ফিরে এসো অনেক ভালবাসা নিয়ে ! তোমারি প্রতিক্ষায় ...