শনিবার, ১১ মে, ২০১৩

বাংলা-বিহার-উরিষ্যার সর্বশেষ নবাব সিরাজুদ্দৌলার পরাজয়ের আসল কাহিনী


আমাদের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল বাংলা-বিহার-উরিষ্যার সর্বশেষ সম্রাট সিরাজুদ্দৌলা যখন ২৩শে জুন, ১৭৫৭ সনে ইংরেজদের কাছে মর্মান্তিকভাবে পরাজিত হয়েছিল পলাশীর অম্রকাননে ... ঠিক সেদিন। মীর জাফর নামটি আমাদের কাছে একটি নাম এর চেয়ে অনেক বেশী তাৎপর্যপূর্ন হয়ে গিয়েছিল এই যুদ্ধের বিশ্বাস ঘাতকতার মাধ্যমেই। যাই হোক, এরকম বই পুস্তকের ইতিহাস অনেকেই কম বেশি জানেন। কিন্তু ঢাকা শহরের বংশাল রোড এলাকাতে এক ক্যানভাসারের কাছ থেকে জানা গেল সম্পূর্ন ভিন্ন আরেকটি গল্প! কি হয়েছিল ওইদিন পলাশীর অম্রকাননে? কেন পরাজিত হয়েছিল আমাদের নবাব সিরাজুদ্দৌলা? আর কোন ভনিতা না করে সরাসরি চলে যাই মূল প্রসঙ্গে।

মীর জাফর ছিল আমাদের নবাবের একজন সেনাপতি। যুদ্ধের ময়দানে ঘসেটী বেগমের চালে মীর জাফর বেইমানী করে আমাদের নবাবের সাথে। তারপরও নবাব বিচলিত হননি। কারন উনার ছিল তুখড় বুদ্ধি আর যুদ্ধের ময়দানের ব্যাপারে অগাধ জ্ঞান! উনি একটা কাজ করলেন ... যেসকল সৈনিক তখনো উনার অনুগত ছিল তিনি তাদের সকলের মাথার চুল ফেলে দিতে নির্দেশ দিলেন। মানে মাথা ন্যাঁড়া করার নির্দেশ দিলেন। এরপর ন্যাঁড়া হওয়া প্রতিটা সৈনিকের মাথায় আলকাতরা মাখালেন। এরপর সবাইকে সারিবদ্ধ ভাবে বসে পরার নির্দেশনা দিলেন। ইংরেজরা অনেক বুদ্ধিমান জাতি হলেও তাদের তাৎক্ষনিক বুদ্ধি ছিল কম। তারা অনেক দূর থেকে ন্যাঁড়া মাথায় আলকাতরা মাখানো সৈনিকদের কে কামান মনে করলো এবং চিন্তায় পরে গেল। এতগুলা কামানকে মুকাবেলা করা তো মুখের কথা নয়। তারা পিছু হঁটার সীদ্ধান্ত নিল।

ইতিহাসের নানা বই পত্রে উল্লেক্ষ আছে, ওই সময়ে বাংলায় চর্মরোগ বেশ মারাত্মক ভাবে বিস্তার লাভ করেছিল। আমাদের নবাবের কিছু সৈনিক যারা কামান এর ভূমিকাতে অভিনয় করছিল ... তাদের মধ্যেও কারো কারো চর্মরোগ ছিল বলে জানা যায়। সমস্যা যেটা হয়েছে, ওই কামানের ভূমিকায় অভিনয়ের সময় কিছু সৈকিকের চুলকানী উঠে গেল। ফলে চুলকানীর সুবিধার্থে তারা নড়াচড়া শুরু করল। ইংরেজরা ব্যাপারটা দেখে ফেলল এবং বুঝে ফেলল যে ওগুলো আসলে কামান নয় ... মানব কামান টাইপের কিছু মাত্র। ফলে তারা পুনুরায় আক্রমন করে আমাদের প্রানপ্রিয় নবাব কে পরাজিত করল।

সংক্ষেপে এই হল আমাদের নবাব সিরাজুদ্দৌলার পরাজয়ের আসল ঘটনা। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে এই ঘটনা(সৈনিকদের মধ্যে চুলকানী রোগ এবং সেটা থেকে সৃষ্ট পরাজয়) কি কোন ভাবে এড়ানো যেত না? অনেক ইতিহাসবিদ অনেক ভাবে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে শোনা যায়। তবে আমি আমার লেখার শুরুতে যেই ক্যানভাসারের কথা বলেছিলাম মানে যার থেকে এই যুগান্তকারী ইতিহাস জানতে পারলাম ... তার ভাষ্য মতে সবই হয়েছিল একটি মাত্র মলমের অভাবে! আর মলমটির নাম "পাগলা মলম"! এই পাগলা মলম ব্যাবহারে শরীরের সকল চুলকানী/******/*******/*****(সবগুলি আর লিখতে পারলাম না, বুঝে নিতে হবে কিছু ব্যাপার খিয়াল কইরা! ) সব নাকি নিমিষে সাফ হয়ে যায়। সুতরাং যেটা দাড়ালো, সিরাজুদ্দৌলার সময়ে যদি "পাগলা মলম" থাকতো তাহলে আমাদেরকে পলাশীর অম্রকাননে পরাজয় মেনে নিতে হত না। আমাদের স্বাধীনতার সূর্যটিও ডুবত না। ভাবা যায়? এখান থেকে আমাদের শিক্ষনীয় ব্যাপার যেটা সামনে চলে আসে, "সঠিক সময়ে সঠিক মলম লাগান! নইলে ভুগতে হবে!"

বিঃদ্রঃ এই গল্পটি একজন ক্যানভাসারের থেকে শোনা মাত্র। এখানে লেখকের কোন ভূমিকার লেশমাত্র নেই!

রবিবার, ৫ মে, ২০১৩

হাউজ নাম্বার ১০ এর ১ – বি, আরামবাগ(পর্ব - ১)


আমি যেই বাসায় থাকি, সেই বাসার গল্প লিখবো ভাবছিলাম অনেক দিন ধরে। লেখা আর হচ্ছিল না। কয়েকদিন আগে আমার এক হাউজমেট বাদল ভাই অন্যত্র চলে গেলেন। তখনই মূলত মাথায় আসে এই গল্পটি। আমি ঢাকার এসেছি সেই ২০০৫ সালে। তখন থেকে এই ২০১৩ পর্যন্ত এই একই বাসায় আছি। এর মধ্যে কত কত মানুষ আসল(হাউজমেট), আবার চলেও গেল। সেই সব মানুষদের সাথের স্মৃতিকথার গল্পই এটি। সব গল্পের শুরু থাকে একটা, যেখান থেকে শুরু হয় একটি পথচলার। তেমনি শুরু থেকেই শুরু হোক তবে …


কোন এক রৌদ্রজ্জল সকালে আমি আর আমার বন্ধু সালাউদ্দিন শুভ নিজ নিজ বাবার সহিত ঢাকা এসেছিলাম। উদ্দেশ্য উচ্চ মাধ্যমিকে ঢাকার কোন কলেজে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করা।আর এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য বিধেয় ছিল একটা ঠিকানা - ১০/১/বি আরামবাগ, মতিঝিল। সে দিনটি ছিল ৫ মে, ২০০৫। এখানে আমাদের স্কুলের একবছরের এক সিনিয়র ভাইয়া থাকতেন যিনি তখন নটরডেম কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়তেন। উনার নাম সাইমুম কাওসার। অনেক খুঁজে টুজে বাসা বের করলাম। এখানে তখন ৫ জন মেস করে থাকতেন, যার মধ্যে চার জন পড়তেন নটরডেম কলেজে আর একজন ছিলেন চাকুরীজীবি। সাইমুম ভাই ছাড়া আর ছিলেন নয়ন ভাই, আদনান ভাই, সোহেল ভাই আর ওই চাকুরীজীবি ভাইয়া(নাম মনে নাই)। তখন উনাদের থেকে মন্ত্রমুদ্ধের মত শুনলাম নটরডেম কলেজের গল্প আর মনে মনে চিন্তা করছিলাম, পড়তে হলে এই কলেজেই পড়বো! আসলে আমাদের তখন মাত্র মেট্রিক পরীক্ষা শেষ হয়েছিল। আমাদের ঢাকায় আসার একমাত্র কারন ছিল শুধু খোঁজ খবর নেওয়া যেমন কিভাবে ভর্তি হতে হবে, কি কি রিকোয়ারমেন্ট আছে কোন কোন কলেজের, কোন কোন কলেজ ভাল হবে … এসব আরকি।

রেজাল্টের পর আমার মাথায় হাত, গোল্ডেন এ+ পাই নাই। ঢাকায় যেরকম কম্পিটিশন শুনছিলাম, তাতে কোনই চান্স দেখছিলাম না ভাল কোন কলেজে ভর্তি হওয়ার। এর মধ্যে সরকার আবার ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছে। এর যায়গায় রেজাল্টের বেসিস এ মৌখিক পরীক্ষার অনুমতি ছিল। আবার ঢাকায় আসলাম রেজাল্টের পর। মাদারটেকে মামার বাসায় উঠলাম। নটরডেম কলেজ, ঢাকা কলেজ, রাইফেলস কলেজের ভর্তি ফরম কিনলাম। ঢাকায় ভর্তির চাপ অনুভব করে বরিশালের অমৃত লাল দে কলেজেরও ফরম কিনলাম। এর মধ্যে নটরডেম কলেজে মৌখিক পরীক্ষা দিলাম। মুটামুটি ১০টার মত প্রশ্ন করেছিল পরীক্ষায় … আমি মনে হয় ৭/৮ টার অ্যান্সার দিতে পেরেছিলাম। একটু টেনশনে ছিলাম আমি তখন, মনে হয় চান্সটা হাত ফসকে গেল। টেনশনে টেনশনে কাটছিল সেই সব দিনগুলি। এক সকালে নয়া দিগন্ত পেপারে বের হল রেজাল্ট এবং সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আমি নটরডেম কলেজে চান্স পেলাম। আমার মনে আছে আমাদের ক্লাশ শুরু হয়েছিল ২১শে আগষ্ট, ২০০৫ সালে। তখনও আমি মামার বাসা থেকে কলেজ করতাম। এরমধ্যেই খবর পেলাম সাইমুম ভাইয়াদের বাসার ওই চাকুরীজীবি ভাইয়া চলে গেছেন। একজনের জন্য জায়গা খালি আছে, আমি চাইলে উঠতে পারি। তখন ঢাকাতে আমার বাইরে বের হতে ইচ্ছাই করতো না। কেমন যেনো, বাইরে বের হলেই খুব ক্লান্ত লাগত। অনেক চিন্তা ভাবনার পরে স্বীদ্ধান্ত নিলাম, ওই বাসাতেই উঠে যাই … কি আছে জীবনে। শুরু হল আমার মেস জীবন এবং আমার ঠিকানা হল ১০ এর ১ – বি, আরামবাগ। দিনটি ছিল ১ সেপ্টেম্বর, ২০০৫।


মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০১৩

আমাদের গল্প

খুব অদ্ভুত লাগে তাই না? দেখতে দেখতে চারটি বছর পার করে ফেললাম! মাঝে মাঝে চলে যাওয়া সময় গুলো নিয়ে ভাবি। কত শত বন্ধুদের কে নিয়ে কাটিয়ে দিলাম জীবনের অর্থপূর্ন এই সময়গুলি। আজ আমার সেইসব বন্ধুদের গল্প বলব।

আমি আর মতিনের সেই কলেজ লাইফ থেকে দোস্তি। তখন থাকিও কাছাকাছি জায়গাতে। আমাদের ভর্তি পরীক্ষাতে যেই সিরিয়াল আসছিল তাতে সিএসই পাওয়ার কথা না। তো কোন এক পড়ন্ত বিকেলে সিরিয়ালের আপডেট জানতে ইউনিভার্সিটিতে এসে তো আমাদের চোখ ছানাবড়া। একি! আমরা দেখি সিএসই পাইছি! এরপরের ইতিহাস খুব সহজ। ধাই করে ঢুকে গেলাম আমাদের প্রিয় এই ডিপার্টমেন্টে।

প্রথম দিনের কথা এখনো মনে আছে। আমি, শুভ আর মতিন এক সাথে বসেছিলাম। শুরুর দিন বলে সকল স্যার ম্যাডামদের সাথে পরিচিতিপর্বতেই যথেষ্ট পরিমানের ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন উপমা ম্যাডাম। সেদিন না বুঝলেও পরবর্তিতে বুঝতে পেরেছিলাম মনোয়ার স্যারের মিটিমিটি হাসির পিছনে কি লুকিয়ে আছে, কিংবা ল্যাবে আবু স্যার কি করতে পারেন! আমাদের ফার্ষ্টইয়ারের প্রথম দিনের প্রথম ক্লাশটি নিয়েছিলেন মনোয়ার স্যার। আমার মনে আছে স্যার শুরুর দিনে জানতে চেয়েছিলেন প্রগ্রামিং এর ব্যাপারে আমাদের কার কি নলেজ আছে। আমরা সবাই ই কম বেশি আমাদের পান্ডিত্য দেখানোর চেষ্টা করলাম। আমার অ্যান্সার ছিল অনেকটা এরকম, “স্যার, আমি থিওরিটিক্যালি সি এর ব্যাপারে জানি। কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি কিছুই জানি না”! রিদোয়ান ছিল মস্তবড় একজন হ্যাকার যে কিনা সারাজীবনে কখনোই কিছু হ্যাক করতে পারেনি, ব্যাপারটা সেদিনই জানতে পেরেছিলাম। তবে খুব সম্ভবত আমাদের সবাইকে সেদিন চমকে দিয়েছিল আবির। ওর ব্যাপারটা ছিল এরকম, “স্যার, আমি সি, সি++, জাভা সহ প্রগ্রামিং কন্টেষ্টের জন্য যা যা লাগে সবই জানি”! ফলাফল, সবার চোখ মূহুর্তের মধ্যে গেল আবিরের দিকে। আমাদের এই আবিরই পরে আইওআই তে বাংলাদেশী হিসেবে প্রথম রূপা জয় করে।

ডিপার্টমেন্টে আমার একেবারে শুরুর দিকের লাইফ ছিল অনেকটা শুভ, যোবায়ের আর আশরাফ কেন্দ্রিক। কলেজের আগে আমি থাকতাম পটুয়াখালী নামক এক ছোট্ট শহরে। নটরডেমে পড়ার কারনে কলেজ লাইফেও খুব একটা ঘুরাঘুরি করতে পারিনি। সব ঝাল আমি মিটিয়েছিলাম তখন। আজকে শুভর বাসায় কিংবা পরের দিন আশরাফের আস্তানায়, এভাবেই চলছিল দিনগুলি।

ক্লাশ শুরু হতে না হতেই স্যার ম্যাডামরা আমাদের বলল আমাদের দুইজন সি-আর(ক্লাশ রিপ্রেজেন্টিটিভ) থাকতে হবে, একজন ছেলে আরেকজন মেয়ে। প্রিয়াঙ্কা আর সাদ আমাদের সি-আর নির্বাচিত হয়েছিল। প্রিয়াঙ্কাকে আমি শুরুর দিকে কেন জানি দেখতে পারতাম না। ওরে দেখলেই কেন জানি মনে হত বদমেজাজী স্বভাবের। আমার ওই ধারনাটা খুবই বড় মাত্রার একটা ভুল ছিল। আচ্ছা কোন একটি মেয়ে কতটা ভাল হতে পারে, আপনার কি কোন ধারনা আছে? সব ভুলে যান। আমাদের প্রিয়াঙ্কা আপনার ওই মেয়ের থেকেও ভাল। প্রিয়াঙ্কা ঠিক কিভাবে কিভাবে আমাদের “খালা” হয়েগেছিল সেটা এখন মনে নেই। কিন্তু সে ক্লাসে আমাদের সবার খালা। আমাদের আরেক সি-আর সাদ মারাত্মক টাইপের ভদ্র এবং সামাজিক ছেলে। ক্রিয়েটিভও। আমাদের নবীন বরন অনুষ্ঠানের জন্য ওর বানানো মিউজিক ভিডিওটি অসাধারন ছিল।

আমার ফার্ষ্ট ল্যাব পার্টনার ছিল অনিক আর সাকিব। সাকিব ছেলেটা ছিল একেবারে গোবেচারা ধরনের, আর অনিক ছিল বেশ স্মার্ট। ডিজিটাল সিসটেমসে আমরা একই গ্রুপে ল্যাব করতাম। যতদুর মনে পরে ওরা আমাকে সার্কিট ডিজাইন করে দিত, আর আমি বসে বসে কানেকশান দিতাম। এই ল্যাব গ্রুপেই আমরা বেসিক ইলেক্ট্রনিক্সের ল্যাবও করেছিলাম। এখানে অবশ্য অনিক কানেকশান দিত। কারন, এই ল্যাব আমি কিছুতেই মিলাতে পারতাম না। ওরা দুইজনে কেমনে কেমনে সব কিছু মিলায়ে ফেলত।

ফার্ষ্টইয়ারের জুন মাসে আমাদের একটা প্রগ্রামিং ক্যাম্পের মত হয়। যারা প্রগ্রামিং এ একটু দুর্বল তাদের জন্য একটা টাইপের ক্লাশ। যারা একটু অ্যাডভান্স তাদেরকে আরেক টাইপের ট্রেইং এর ব্যাবস্থা ছিল। মনোয়ার স্যার ব্যাবস্থা করেছিলেন সব কিছুর। সারা জুন মাস আমরা এভাবে অনেকটা মজার মধ্যে প্রগ্রামিং করে কাটিয়ে দিয়েছিলাম। সবার মধ্যে সে কি উত্তেজনা থাকত সেদিনগুলিতে। একজন একটা প্রব্লেম সলভ করতে পারলে বাকিরা সেটার উপর রীতিমত হামলে পরত।

মুটামুটি একটা সময়ে আমাদের মধ্যে এরকম একটা ট্রেডিশান হয়ে গেল যে, কারো জন্মদিন হলে সে সবাইকে খাওয়াবে। প্রথম প্রথম আমরা হয়ত সবাই মিলে হাকিমের খিচুরী টিএসসিতে নিয়ে খেতাম। সাদিয়া, তৃষা আর মেরী মনে হয় এরকম কিছু পার্টি দিয়েছিল। এরপর পাঠ্যবইয়ের উপরের ক্লাশে উঠার সাথে সাথে আমাদের এই ট্রিট পার্টির অবস্থানও উপরে উঠে। মানে টিএসসি থেকে যায় ষ্টার কাবাবে। কত কত যে লেগরোষ্ট খেলাম এই ষ্টারে!

সকল শ্রেনীকক্ষ সেটা কিন্ডার গার্ডেন হোক কিংবা স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোক একটা কমন প্রবনতা থেকেই যায়, আর সেটা হল ছেলে মেয়েদের নতুন নতুন নামে ডাকা। এই ব্যাপারটাতে প্রথম ধরা খেল প্রিয়াঙ্কা। প্রিয়াঙ্কা হল “খালা”। মাদিহা থেকে আসল “ম্যাড”। তাবাসসুম তৃষা থেকে “ট্যাব”। অবশ্য তৃষা আমার “শ্যালিকা” নামেও পরিচিত। রোল ৮৩ শুভ-র নাম আগে থেকেই ছিল “লিনাক্স শুভ”। রোল ১৮ আসিফ কার ঘন্টা বাজাতে বাজাতে কিভাবে যেন হয়ে গেল “ঘন্টা আসিফ”। রবিউল হয়ে গেল “কাকা”। টিটি খেলে খেলে মাসুদ হয়ে গেল “টিটি মাসুদ”। প্রগ্রামিং আর পড়াশুনার প্রতি প্রবল আসক্তির জন্য মুন্নার নাম দেওয়া হল “পগা”। আর নায়লা কথা বার্তা কম কম বুঝত বলে এক সময় আমাদের “মামনি” হয়ে গেল। এই নাম করনের প্রভাবের একটা উদাহরন দেই। একদিন মাদিহা যোবায়েরকে ফোন করে বলতেছে, “কে যোবায়ের? আমি ম্যাড বলছি!”(:P)

প্রথম দিকে আমাদের একটা অনেক বড় দল ছিল। শুভ, যোবায়ের, আশরাফ, ফাহিম, মতিন, প্রিয়াঙ্কা, মাদিহা, পিঙ্কি, নায়লা, মেরী, দিবা, সাদিয়া … সময়ের বিবর্তনে যেটা এখন বিলুপ্ত প্রায়। অন্যদের কথা জানি না, আমি অন্তত এই দলটাকে অনেক মিস করি। সবাই মিলে হয়ত সপ্তাহে একটা দিন আড্ডা দিতাম, কিন্তু সেটা হত অনেক বেশি জীবনোল্লাসে পরিপূর্ন।

সংস্কৃতির মাঠে আমাদের ক্লাশের ছেলে মেয়েরা কোন অংশে পিছিয়ে ছিল না কখনোই। আসমা, মেরী আর নিপা আমাদের ক্লাশের সেরা নাচিয়ে। প্রিয়াঙ্কা, সীমা, তামিম, ইরফান তাদের গানের যাদুতে বরাবরই আমাদের মুগ্ধ করেছে। ফাত্তাহ বেশ ভাল গিটার বাজায় আর মুন্না ড্রাম বাজাতে পারে।

পছন্দ অপছন্দের ব্যাপারে আমরা সকলেই একটু ডিফারেন্ট হলেও, ল্যাব/ইঙ্কোর্স/ফাইনাল পরীক্ষা পিছানোর ব্যাপারে আমাদের না-বোধক কিছু নেই। সকলের সব অমিল এই একটা যায়গাতে এসে কিভাবে কিভাবে যেন মিল এ পরিনত হয়! এই যায়গাটাতে মনে হয় আমাদের কাছাকাছি অন্য কোন ব্যাচও আসতে পারেনি। হয়ত কোথাও সমাবেশ হচ্ছে, স্যার এই ইঙ্কোর্স তো দেওয়া যাবে না! আমাদের নিয়মিত আবদারই ছিল যেন এগুলো।

এবার আসি অন্য বন্ধুদের নিয়ে। আমার প্রিয় বন্ধুদের মধ্যে পিঙ্কি অনেক অনেক উপরে থাকে সব সময়ই। আমাদের এই “মিস ফার্ষ্ট” কে আমি সবথেকে বেশি মিস করি যদি সামনে কোন পরীক্ষা থাকে। পিঙ্কির ব্যাপারে একটা সিক্রেট শেয়ার করি। পিঙ্কি খুবই চাঁপা স্বভাবের একটি মেয়ে। হয়ত খুব মন খারাপ নিয়ে সবার সাথে আড্ডা টাড্ডা দিবে, কথা বলবে … কেউ কিছুই টের পাবে না টাইপের আরকি। ক্লাশের নির্মল আনন্দদায়ী ব্যাক্তি মিশু কাজী। চরম সেন্স অফ হিউমার যুক্ত আমাদের এই বন্ধুটিকে আমি অন্তত খুব মিস করব ফিউচার লাইফে। যে মেয়েটি এখন পর্যন্ত আমাকে বেশী বার কনফিউসড করে দিছে সে হল চাঁদনী ইসলাম। এক্সাম হলে আমার “ওয়ান টু ওয়ান” পার্টনার আরাফাত। তামিম হচ্ছে “মিষ্টার তাহসান”। মুশফিক ছেলেটি “Decent”। মারাত্মক টাইপের ভাল এই ছেলেটি কিন্তু রোমান্সের দিক থেকেও পিছিয়ে ছিল না কখনো! ক্লাশের সব থেকে ভাল ছেলে যেগুলো, আসিফ(রোল ২) তাদের উপরের দিকে থাকবে সব সময়। চমৎকার মেধাবী এই ছেলেটি কখনোই তার মেধার সঠিক ব্যাবহার করেনি এইটাই শুধু আমার আফসোস। ঘুমকাতুরে হিসেবেও আমাদের এই বন্ধুর বেশ সুনাম আছে। আমি একটা উধারন দেই। একদিন থিসিস এর কাজে হলে গেলাম। তখন ১১/১২টার মত বাজে। আসিফ ঘুমিয়ে ছিল। আমি ওকে তুলে বাথরুমে পাঠিয়ে দিলাম। এর ফাঁকে সাফির সাথে গল্প করছিলাম। অনেকক্ষন পরে আবিষ্কার করলাম এর মধ্যে প্রায় এক ঘন্টা পার হয়ে গেছে। আসিফের কোন খবর নাই। অবশেষে অনেক খোঁজা-খুঁজি করে আসিফকে পেলাম আরেকটা রুমে, ঘুমাচ্ছিল! আমাদের মুন্না কাজ পাগল। একটা কাজ এর হাতে কেউ ধরিয়ে দিতে পারলেই কাজ শেষ। ক্লাশের একেবারে নির্জীব ভদ্র ছেলে উপল। “ব্রেইন ড্রেইন” মানে মেধাকে ড্রেইনের মধ্যে ফেলার চমৎকার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আমার বন্ধু সজীব। পরিশ্রমকে দৃষ্টান্তের পর্যায়ে নিয়ে গেছে তমাল অধিকারী। সাইকেলে করে ডিওএইচএসে টিউশনিতে যাওয়া কিংবা রাত ১০/১১ পর্যন্ত টিউশনি করে আবার পরের দিনের ইঙ্কোর্সের পড়া সব কিছুই তমাল করছে হাসিমুখে। আমাদের ক্লাশের প্রথম থিসিস পেপার পাবলিশ করা এই ছেলেটি কার্ড খেলাতেও দুর্দান্ত। ক্লাশের “স্মার্টেষ্ট মেয়ে” আসমা। ভাল ছাত্রী, আধুনিক, স্মার্ট, ড্রেসের দিক থেকে খুব সেন্সিবল … ব্লা ব্লা এরকম ভুরি ভুরি লেখা লিখা যায় আমাদের আসমাকে নিয়ে। আমাদের “ভার্চুয়াল ম্যান” ইরফান। মাসুদ পারভেজ ছেলেটা একটু চুপচাপ ধরনের। ল্যাবের কাজ নিজে নিজে করে ঠিক ঠিক টাইমে সাবমিট করতে মাসুদের কখনো ভুল হত না। ক্লাশে “মুড়ির ঠোঙ্গা” নামে পরিচিত নায়লা। কোন কথা কিভাবে না বুঝে থাকা যায়, নায়লাকে না দেখলে সেটা ভাল ভাবে বুঝা যাবে না। আমরা হয়ত কোন একটা কথা শুনে হাসতে হাসতে মরে যাচ্ছি, নায়লার কোন ভাবান্তর নেই। আমাদের হাসি শেষ হওয়ার পরে ওর কমন প্রশ্ন, “তোরা এভাবে হাসতেছিস কেন? আমি তো কিছুই বুঝতেছি না!”। নায়লার আরেকটা দিক হল, রেজাল্টের দিনের কান্না। ওর কান্নায় এদিন ডিপার্টমেন্টের সামনের রাস্তায় পানি জমে যায়! অমিত হচ্ছে “ওডেস্ক বয়”। মিজান খুব সিনসিয়ার স্টুডেন্ট। আমার “ডিপার্টমেন্টাল শ্যালিকা” হল তৃষা। একটা টাইপের চিংড়ি মাছ আছে না খুব ছটফট করে, নাম ভুলে গেছি এই মুহূর্তে … ওইটা হল সীমা। সীমার মাঝেও অসীম টাইপের অবস্থা। আমাদের “সুন্দরী তমা” হচ্ছে নিপা। মনির হচ্ছে “মিষ্টার সিরিয়াস”! রুমার কথা লিখতে গেলেই হাবিবার কথাটা চলে আসবে। সারাক্ষন দুইটা মেয়ে কিভাবে এক সাথে থাকতে পারে এদের না দেখলে বোঝা যাবেনা কিছুতেই। ইকবাল হল “মিষ্টার পারফেক্টশনিষ্ট”। কালই হয়ত কোন একটা পরীক্ষা, আমরা এরকম সময় যেটা করি শুধু হালকা একটা ধারনা নিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে এক্সাম হলে যাই। ইকবালের ব্যাপারটা ভিন্ন। পরীক্ষা থাকুক পরীক্ষার মত, সে ব্যাপারটা ভালমত বুঝেই ছাড়বে। রিদোয়ানের জীবনে একটা ব্যাপারই আছে, আর সেটা হল প্রগ্রামিং কন্টেষ্ট। কর্মঠ ছেলে ফাহিম। কোন কাজে জোঁকের মত লেগে থাকার অসীম ধৈর্য আছে হেলালের। “মিষ্টার রিজার্ভ” হচ্ছে শাহীন। “সিরিয়াল গার্ল” হল দিবা। কোন হিন্দি সিরিয়ালের কোন নায়ক অসুস্থ হলেই দিবার মনটা কষ্টে নীল হয়ে যায়। কিছু মেয়ে আছে না যারা অন্যদেরকে সব সময় ছোট ভাই বোনের মত দেখে? আমাদের নোরা আমার ধারনা অনেকটা সেরকম। দ্বায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারে এই মেয়েটি। অনিমা তো সেরকম লেখিকা। “লম্বুরানী” হল মেরী। সাদিয়া হল “মায়াবতী” টাইপের মেয়ে। লামিয়া হচ্ছে বুদ্ধিমতি মেয়ে। এলিনা হচ্ছে চুপচাপ ঘরনার মেয়ে। সাফির রুমে কত রাত থাকলাম এই ইউনিভার্সিটি লাইফে। সাকিন হচ্ছে আরেকজন “ল্যাব বয়”। সাকিনের ল্যাব করা মানে ৬০/৭০ ভাগ ছেলে মেয়ের ল্যাব শেষ। শুভ(রোল ৮৩) হল আমার ল্যাব গ্রুপ চেঞ্জের পার্টনার। মানে আমি “ইভেন গ্রুপ” থেকে “অড গ্রুপে” আসি আর ও অড থেকে ইভেনে যায়। অভিষেকের সাথে অভিষেক বচ্চনের মিলটা কেবল লম্বাতেই না। ফাত্তাহ খুব পাগলাটে স্বভাবের। গুঞ্জন হচ্ছে “মিষ্টার ডাউনলোড”। আমাদের “মিষ্টার শেয়ার বাজার” হল নাহিদ। ফয়সাল বারী র সাথে আমাদের বিচ্ছেদ ফার্ষ্ট ইয়ারের পরই। ছেলেটা অসাধারন টিটি খেলত। রাকিব হল “মিষ্টার গেমার”। শাকুর হল “পিকে”, আর ফরহাদ হল “পিডি”(পুরান ঢাকাইয়া)।

যোবায়ের আর শুভ না থাকলে আমার জীবনটাই হয়ত এরকম রঙ্গীন হত না। ওরা আমার জীবনে কি সেটা আমার মত বোকা বোকা লেখক কখনো লিখে বুঝাতে পারবে না। ওরা ঠিক আমার কাছে বন্ধু না, “ব্যান্ড অফ ব্রাদার্স”। শুভ ছেলেটা খুব ইমোশনাল, কিন্তু এই শুভর থেকে ভাল ছেলে আমি লাইফে কখনো দেখিনি। যোবায়ের ছেলেটা বিনয়ী। কাউকে কিছু বুঝায়ে দিতে হবে, এরকম সময়টাই মনে হয় ও সব থেকে বেশি উপভোগ করে। আমরা তিনজন কতশত সময় কাটিয়ে দিলাম এক সাথে … কোথায় হারিয়ে গেল সেই সময়গুলি?
আমার ব্যাপারে আমার লেখাটা ঠিক মানানসই না, তাই না? আবার না লিখলে যে ঠিক সেটি আমাদের গল্পটি হচ্ছে না! খুব ভেবেও তেমন কিছুই পেলাম না আমার ব্যাপারে বলার মত। হুট হাট মেজাজ খারাপ করে ফেলা ফালতু স্বভাবের ছেলে একটা আমি। ক্লাশের মেয়েদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করে বেড়িয়েছি সারা ইউনিভার্সিটি লাইফ। আমার ভাল স্বভাব বলতে বললে আমি বলব, আমি খুব সহজেই মানুষকে বন্ধু বানিয়ে ফেলতে পারি। অবশ্য সমালোচকরা বলে থাকেন, আমি নাকি বন্ধুদের সাথে যে রকম মিশুক স্বভাবের, অন্যদের সাথে ঠিক সেরকম অ্যা্রোগেন্ট! ঠিক জানি না আমি কিরকম। তবে মানুষকে একি সাথে অনেক আনন্দ এবং কষ্ট দিতে আমার জুড়ি নেই বলেই আমার ধারনা।

এতগুলা মানুষ, সবার সাথে আলাদা গল্প, আলাদা ঘটনা … সব তো আসলে বিস্তারিত লেখা সম্ভব না। তারপরও চেষ্টা করেছি সবাইকে নিয়ে কিছু না কিছু বলতে, কিছু না কিছু লিখতে। মনের গহীনে এখন কান পাতলে কি শুনতে পাই জানো বন্ধুরা? বিরহের ডাক, বিচ্ছেদের বেদনা। পরক্ষনেই ভাবি, এই তো জীবন। সব কিছুই মানুষের জীবনে কত কিছু আসে-যায়। বন্ধুরা কেবল আমাদের জীবনে আসেই, কখনো হারিয়ে যায় না। যাবে না তো তোমরা?

লেখকদের নাকি কিছু স্বীমাবদ্ধতা থাকে। চাইলেই সব কিছু নিজের মনের মত কিছু করে লিখতে পারে না। আমি হয়ত সেই রকমই কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমাদের গল্প গুলি লিখেছি। কি আসে যায়? এটা তো আমাদেরই গল্প। তাই না ?

শনিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

সাম্প্রতিক রাজনীতি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যু (কাদের মোল্লার রায় এবং এর পূর্ব-পর)


যুদ্ধপরাধী কাদের মোল্লার বিচারের রায়ের পরে দেশে অনেক কিছু ঘটেছে। এর মধ্যে প্রধান প্রধান ব্যাপার গুলোয় সবাই এর মনোযোগী যে কয়েকটা ব্যাপারে কোথাও কোন কথা দেখলাম না। এর মধ্যের কিছু ব্যাপারে আমি আমার অভিমত এখানে দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

প্রথমটা আমাদের মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রীর "যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়" এর ব্যাপারে অবস্থান।সাম্প্রতিক সময়ে উনি দেশের অবস্থা বর্হিবিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য একটা বিদেশী পত্রিকায় আর্টিকেল লিখেছেন। তার মানে দাঁড়াচ্ছে দেশের ব্যাপারে উনি সচেতন আছেন এবং দেশের যেকোন পরিস্থিতি সম্পর্কে উনি জ্ঞাত আছেন। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে উনি "যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়" এবং এর পরের গন-আন্দোলন এর ব্যাপারেও জ্ঞাত আছেন বলে আমরা ধরে নিতে পারি। এখন পর্যন্ত এই ব্যাপারে কোথাও তিনি অভিমত দিয়েছেন এরকমটা আমার জানা নাই। আমাদের এই মহান নেত্রী এখন শুধু বিরোধী দলীয় নেত্রীই নন, উনি দেশের দুইবারের নির্বাচিত(আর একবারে জোড় করে দখলকৃত) প্রধান মন্ত্রীও ছিলেন। অথচ উনার কাছ থেকে আমরা এখন পর্যন্ত উনার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারলাম না। দেশের একজন নির্দলীয় সাধারন মানুষ হিসেবে আমি এই ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করছি। সাথে সাথে এটাও বলা প্রয়োজন, উনি উনার দলের সমর্থকদের সাথে কি বেইমানি করছেন না? দেশের একটা অংশ(যারা মন প্রান দিয়ে বিএনপি করে)কে কি আপনি অস্বস্থির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন না? মনে রাখবেন, এর দায় আপনাকেই নিতে হবে।

আরেকটা ব্যাপার আমাকে অবাক করেছে। সেটা হল, সরকারের নাকি "যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়" এর ব্যাপারে আপিলের সুযোগ নেই। আইনে নাকি সেটা রাখা হয়নি। এই ব্যাপারটা কিন্তু দুইটা ব্যাপার ইঙ্গিত করছে। এক, হয় যেসকল আইনজ্ঞ ব্যাক্তি এই আইন প্রনয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন অথবা যেসকল ব্যাক্তি এই বিচারের আইনগত ব্যাপার দেখেছেন তারা যথেষ্ট যোগ্যতা সম্পন্ন ছিলেন না। অথবা, এই বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইবুন্যালের উপর সরকারের পূর্ন আস্থা ও নিয়ন্ত্রন ছিল। যদি ব্যাপারটা এটা হয়, সেক্ষেত্রে সরকার নিজেই এই বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যদি উপরের দুইটা অবস্থানের বাইরে অন্য কিছু হওয়া সম্ভব না হয়ে থাকে, তাহলে আমার প্রশ্ন - এর দায় কার উপর বর্তাবে? নিশ্চয়ই আমাদের আইন মন্ত্রনালয়ের উপর। এবং মন্ত্রনালয়ের প্রধান হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীর অবশ্যই এর দায় নেওয়া উচিত এবং এরকম একটা স্পর্শকাতর ইস্যুতে দ্বায়িত্ব পালনে ব্যার্থতাহেতু উনাদের পদত্যাগ করা উচিত।

এখন দেখা যাক, আমাদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং আইন মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী এর আগে এই "যুদ্ধাপরাধীদের বিচার" ইস্যুতে আমাদেরকে কি বলেছিলেনঃ
মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী ঃ আমরা চাই এই বিচার হোক। কিন্তু সেটা আন্তর্জাতিক আইনে হতে হবে।
আইন মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী ঃ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে!

আমার প্রশ্ন, আমাদের বিরোধী দলীয় নেত্রী যদি আসলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান তাহলে দেশের স্বার্থে কি উনি পারতেন না এই বিচার কিভাবে আইন সন্মত ভাবে করা যায় সেটার এটা ফর্মুলা দেশের জনগনের সামনে অথবা সংসদে তুলে ধরতে? পারতেন না কেন এই বিচারের আইন আন্তর্জাতিক আইনে হচ্ছে না সেটার জন্য আন্দোলন করতে?

আমার আরেকটি প্রশ্ন আইন মন্ত্রী আর প্রতিমন্ত্রীর জন্য। আপনাদের কি সরকারের আইন বিভাগের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মাইকের সামনে গলাবাজী করার জন্য? গলাবাজী আপনারা তারপরও করতেই পারেন। সেটা আপনাদের রাজনৈতিক অধিকার। কিন্তু আপনাদের উপর যেই দ্বায়িত্ব জনগন বিশ্বাস করে তুলে দিয়েছিল, আপনাদের কি উচিত ছিল না সেটা সঠিক ভাবে পালন করা? আপনারা কোন মুখে এখনো মন্ত্রীর চেয়ারে থেকে এটা দেশের জনগনকে বুঝাতে চান যে সরকার আপিল করবে? কেন/কাদের জন্য/কি উদ্দেশ্যে আইনে ফাঁক রেখে এই "যুদ্ধাপরাধীদের বিচার" কে আপনারা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন?

সর্বশেষ আরেকটি ব্যাপারে আমার দৃষ্টি এসেছে, জামায়েত-ই-ইসলামী দলকে রাজনীতি থেকে বহিস্কারের ব্যাপারে। এই ব্যাপারে আমি আমার পরের লেখাতে কিছু শেয়ার করার চেষ্টা করব।

সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২

বঙ্গমাতার সন্তান যারা ...


আপনি কি বিশ্বজিত ভাই কে নিয়ে চিন্তিত? কিংবা দুঃখিত? কিংবা হতাশ? অথবা আপনি কি এই মুহুর্তে নিজেকে নিয়ে চিন্তিত? ... এই তো ঠিক লাইনে আসছেন! আপনি আমি কেন বিশ্বজিতকে নিয়ে চিন্তিত হব? সে একজন সাধারন, অতি তুচ্ছ মানুষ। মৃত্যুর পরে সে নিউজের লিড জায়গা পেয়েছে, বিএনপি কর্মী খেতাব পেয়েছে, ছাত্রলীগ কর্তৃক কোপ খাওয়া বিশেষন পেয়েছে ... আর কি চাই একটা মানুষের জীবনে? মরুক সে, আমার কি?

আমি বরং কিছুটা চিন্তিত আমাকে নিজেকে নিয়ে, কবে যেন আমাকে শিকে ঝুলায়ে আগুনে পোড়ায়। আচ্ছা, আপনি কি ওই বাসের নিচে পিষ্ঠ হওয়া পিকেটার কথা ভাবছিলেন কখনো? মানে, জীবনের একেবারে শেষ মিনিটে ওর মাথায় কি ছিল? ঠিক যখন ওর মাথাটা থেতলে যাচ্ছিল, তখন কি ও একটিবারের জন্য ভাবছিল ও কেন মারা যাচ্ছে? ও কি ওর বাসায় বৃদ্ধ বাবা কিংবা মায়ের কথা ভাবছিল? ছোট আদরের বোন কিংবা সদ্য বিবাহিত লাল টুকটুকে বউটার কথা একটি বারের জন্যও ভাবছিল? নাকি ভাবছিল সেই নেতাটির কথা যে ওকে বাসে আগুন দিতে বলেছিল?

মজার কথাটা কি জানেন? আজকে যদি ওই বাসটি ওকে না পিষে থামাত, তাহলে আমার আরো অনেক গুলো মানুষকে নিয়ে(যারা ওই বাসে ছিল)লিখতে হত হয়ত। পেপারওয়ালাদের আরো কিছু কাগজ বেশী খরচ করতে হত বাসের ভিতরে পুড়ে যাওয়ার মানুষগুলোর জন্য রিপোর্ট বাবদ। সে যাকগে, আসল কথায় আসি! আপনি কি আজকে মারা যাওয়া চার জন এর কাউকে নিয়ে মনের ভিতরে দুঃখ পেয়েছেন? আপনি নিশ্চিত থাকুন, আপনি কেন, আমি নিজেও দুঃখ পাইনি। এইযে যা লিখছি সব সস্তা পাবলিসিটি। মানুষ পড়বে, লাইক দিবে, বেশি ভাল লাগলে শেয়ার দিবে, কমেন্ট করবে। খুব করে বলবে, "বাহ! ছেলেটা লেখে জব্বর!"

এগুলো যখন ঘটছিল আমি কিন্তু তখন চিন্তা করছিলাম অ্যাসাইনমেন্টটি নিয়ে যেটা সাবমিট করলে আমার রেজাল্ট ভাল হবে, আমি ভবিষ্যতে বেশী বেশী ইনকাম করব। কিংবা আমি ভাবছিলাম কিভাবে ঘুমায়ে ঘুমায়ে দিনটাকে ইনজয় করা যায়, অথবা মিস করছিলাম ইউনির আড্ডা গুলোকে। মাঝে মাঝে অবশ্য আমার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে ইচ্ছা করছিল যে, "ধুর কাজের সময়ে হরতাল দিতে পারে না! আকাইম্মা টাইমে ঠিকই হরতাল দিছে।" মানে কিন্তু খুব সোজা, আমার মাথায় বিশ্বজিতরা নেই। থাকবে কেন? ও তো আমার দাদা না। ও তো দেশের সেরা ক্রিকেটার না যে ওর কবে বিয়ে হবে সেটা নিয়ে খুব এক্সাইটেড হয়ে আমি নিউজের পাতা উল্টাবো। সব থেকে বড় কথা, ওকে নিয়ে ভাবতে হবেই বা কেন? আমার দেশে কি মানুষ কম আছে? এরকম দুই একটা আমজনতা চলে গেলে আমার কি? এরকম ঘটনা কি একেবারেই নতুন?

ঘটনা কিন্তু আজকে একদিনে হয়নি। এরকম আরো অনেক বিশ্বজিতরা রাস্তায় মার খেয়েছে। হয় এদলের, নয় ওদলের। গনতন্ত্রের দোষ কোথায় জানেন? অন্য সকল তন্ত্রের দোষগুলি ধরতে গিয়ে কখন যে নিজের তন্ত্রটিই হারিয়ে ফেলে, নিজেও জানে না সেটি। এই আমরাই কিন্তু নেতাদের নির্বাচিত করি, এইদফা এই নেতা, পরেরবার ওই নেতা। আমাদের চয়েজ কিন্তু খুব সোজা, এ নয়ত সে! 

আমরা আসলে মনে হয় আশ্চর্য হওয়ার ক্ষমতাটাই হারিয়ে ফেলেছি। আসলেই হারিয়ে ফেলেছি। এই যে দিনের আলোতে টিভি ক্যামেরার সামনে বিশ্বজিত ভাই কোপ খেলো, কেন জানেন? নেতারা অ্যাকশান চায়, মৃত বডি চায়! আমরা নেতার পোষা কুকুর হয়ে গিয়েছি। আমরা আমাদের নিয়তি মেনে নিয়েছি। আমরা কুকুরের থেকেও অধম হয়ে গিয়েছি। আমরা হায়না পশু হয়ে গিয়েছি। এ তো গেল নেতাদের গল্প, আমাদের গল্প কি জানেন? আমরা যেইটা করব, চ্যানেল ঘুরায়ে ঘুরায়ে এই একি ঘটনা দেখব। নানা অ্যাঙ্গেলে কোপ গুলা অ্যানালাইসিস করব। খুব আফসোস করব, এর পরেই রাতের ডিনারটা সেরে ফেলব পরিবারের সাথে। এরপর ফেসবুকে বসব স্ট্যাটাস দেওয়ার জন্য। আমাদেরই বা কি দোষ বলুন, আমাদের এর থেকে করারই তো নাই কিছু। যদি কিছু করার থাকে তো আমাদের বাপ কিংবা মামাদের আছে। মানে, আমাদের যাদের বাপের পয়সা আছে তারা বিদেশে চলে যাব, আর যাদের বাপের পয়সা নাই কিন্তু হালকার উপর "মামা" আছে তারা সরকারী চাকুরি নিয়ে দেশটাকে চুষে খাব। এরপরে যারা বাকি থাকবে, তারাই না হবে বিশ্বজিত? আমরা নাকি বঙ্গ'মাতার সন্তান! জয় বঙ্গমাতা!

মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০১১

আমার ডিপার্টমেন্টাল-ননডিপার্টমেন্টাল রিলেশনগুলি

জানা কথা ভাই, আপনি লেখাটা পড়ার আগেই চমকে গেছেন। মনে মনে ভাবছেন, অনেক রিলেশনের কথাই তো শুনছি মাগার এইরকম "ডিপার্টমেন্টাল-ননডিপার্টমেন্টাল" নামক উদ্ভট কিছু তো আগে শুনি নাই। তো আপনাকেই বলছি স্যার, লেখাটা মনো+ আই মিন মনযোগ দিয়ে পড়েন। তাহলে দেখবেন কতগুলো বানানো সহজ এমন রিলেশন আপনি মিস করছেন। তার আগে বলি, আমার সাপেক্ষে যারা ননডিপার্টমেন্টাল আই মিন যারা সি.এস.ই ডি.ইউ তে পড়েন না তাদের সব রিলেশন বুঝতে হয়ত একটু কষ্ট হবে। কিন্তু কষ্ট হইলেও পড়েন, আশা করছি মজা পাবেন।

প্রথমে সহজ সাভাবিক কিছু রিলেশন দিয়ে যে শুরু করব তার কোন উপায় নাই ভাই। উদাহরন দেখবেন ? ওকে শুরু করি, খালা আমাদের সবার খালা হয় শুধু একজন বাদে। কি চমকে গেলেন না ? হা হা হা ... জানা কথা। আচ্ছা খুলেই বলি তাহলে ব্যাপারটা, আমাদের তখন মাত্র ক্লাশ শুরু হইছে ডিপার্টমেন্টে আই মিন আমাদের ফার্স্ট ইয়ারের কথা আরকি। হুমায়ারা তাসনিম প্রিয়াঙ্কা কে ধরে মেয়ে CR(ছি আর - Class Representative) বানায়ে দেওয়া হইছে। আর সাদ তো ছেলেদের CR আগে থেকেই। তো সাদই মনে হয় প্রিয়াঙ্কাকে প্রথম খালা খালা বলা শুরু করছিল। সেই থেকে শুরু। উঠতে বসতে খালা খালা করতে আমাদের এই ভাল মেয়ে প্রিয়াঙ্কার সুন্দর নামটি আজকে বিলীনের পথে। তার থেকেও প্রকট সমস্যা হয় আসলে আমাদের। ধরেন কেউ একজন তার নিজের খালার কোন কথা আমাদের সামনে বলছে। আমরা একটু পরে বুঝি যে এই খালা আমাদের খালা নয়। যাই হোক, খালাকে নিয়ে প্যাঁচাল শেষ করার আগে উপরের একটা কথা এক্সপ্লেইন করি। খালা আমাদের সবার খালা একজন বাদে ... কথা ঠিকই তো আছে, খালা তো খালুর খালা হয় না তাই না ? খালুর হয় "এই"। :P

খালার পরেই যে রিলেশনে নিজেকে জড়িয়েছিলাম সেটা হল "জানু"/"ডিপার্টমেন্টাল জানু", আর পিঙ্কি হল সেই ভাগ্যবতী মেয়ে(!!!)। পিঙ্কিকে কেন এই "জানু" "জানু" করতাম ঠিক মনে নেই। কিন্তু এই ব্যাপারে একটা স্মৃতি মনে আছে। একদিন ক্লাশে আমি শুভর সামনে পিঙ্কিকে জানু জানু বলে খেপানোর ট্রাই করছি। আর পিঙ্কিও জানু জানু বলে আমার দেয়া "সিগনাল গুলো" ব্যাক করছিল। তো তখন আবির ছিল আমাদের সাথে(যা ভাবছেন তাই ... এই আবির সেই তুখড় মেধাবী ছেলে আবির)। আবিরের ক্লাশে প্রধান কাজ ছিল চোখ বন্ধ করে থাকা। ঘুমোত না ... জাষ্ট চোখ বন্ধ করে থাকত। তো ওই দিনও সে ওইরকম অবস্থায় আছে, চোখ বন্ধ। আর ওই দিকে আমি জানু জানু বলে পিঙ্কির সাথে ফাজলামী করছি। আবির চোখটা খুলে বলল, বাহ একজন জানু জানু করছে আর আরেকজন সেটার রিপলাই করছে। কি অদ্ভুত!! সাম্প্রতিক তথ্য, আমি পিঙ্কিকে জানু বলা ছেড়ে দিয়েছি। কেন জানি এখন আর বলা হয় না ... আর ও নিজেও বলে না। তবে যাই হোক, পিঙ্কি জেনে রাখিস যে জানুর আসনে তোকে বসিয়েছিলাম, সেখানে তুই সব সময় থাকবি( =)) =)) =)) )।

তৃষাকে ডাকি "শ্যালিকা"। এই শ্যালিকা ডাকার কারনটা অনেকেই জানে না আমাদের ক্লাশের। আসল ঘটনাটার শুরু হয়েছিল ফার্ষ্ট ইয়ারের হার্ডওয়ার ল্যাবে। একদিন ল্যাবে আমি আর শুভ বসে আছি। সাথে খালা, ম্যাড, মামনি, পিঙ্কি এরা(ম্যাড, মামনি আসলে ওদের নাম না ... কিন্তু এইগুলি ডাকতে ডাকতে অভ্যাস হয়ে গেছে)। তো শুভ পিঙ্কির কাছে পানি চাইল, কিন্তু পিঙ্কির ব্যাগে পানি ছিল না। ছিল তৃষার কাছে। আমিও একই সময় পানি চাইলাম। কিন্তু তৃষা পানি দিল শুভকে। তখনি প্রথম বলছিলাম, হু বুঝছিতো ... দুলাভাই(শুভ)রেই তো দিবা। এখানে এইটা বলার কারন, তৃষা আর পিঙ্কি একি কলেজ় থেকে আসছিল। সেই থেকে শুরু। তৃষা হয়ে গেল আমার "ডিপার্টমেন্টাল শ্যালিকা" !!

ডিপার্টমেন্টে আমার একটা মামাও আছে। সাদ হল সেই মামা। সাদই আমাদেরকে ক্লাশে একজন খালা দিয়েছিল। অনেকটা সেই কারনেই তাকে মামা বানায়ে খালা-মামা কোঠা পুরন করলাম।

এর পরেই আসে, "ডিপার্টমেন্টাল প্রেমিকা"। এতক্ষন পড়ে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন আমার জন্য রিলেশন ক্রিয়েট করাটা কতটা ডাল-ভাতের মত ব্যাপার। আসলে ডাল-ভাত হলেও আমি এই রিলেশনে বেশ সিরিয়াস ছিলাম (=)) =)) =)) )। কি রকম জানেন ? আমি ডিপার্টমেন্টের সবাইকে বলে বেড়াতাম এই হচ্ছে আমার "ডিপার্টমেন্টাল জিএফ"। ছোট বড় সবাই জানত ব্যাপারটা(=)) =)) =)) )। ওহহ, আসলে বলাই তো হয় নাই যে কোন ভাগ্যবতী নারী ছিল আমার এই জিএফ। মাদিহা তাবাসসুম ওরফে ম্যাড ছিলেন সেই বিখ্যাত নারী। এখানে একটা ব্যাপার, আমি "ছিল" কথাটা বলছি এই কারনে যে ... সম্প্রতি এক বৃষ্টি ভেজা দুপুরে সে অন্যের হয়ে গেছে[ :( :( :( ]। মনে আছে, একদিন ম্যাড আমাকে জিজ্ঞাস করছে - "আচ্ছা তুই কি থার্টিনের সবাইকে বলে বেড়াচ্ছিস যে আমি তোর জিএফ ?" আমার উত্তর, "অবশ্যই ... কেন নয় ? আমি তোকে পাব না, অন্য কাউকেও তোকে পেতে দিব না !!" সর্বশেষ ব্যাপার, যেহেতু আমার "ডিপার্টমেন্টাল প্রেমিকা" অপশনটি খালি ... আগ্রহী কেউ থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন।

আপনারা বলতে পারেন খালা আছে ... খালু নাই ? জী জী খালুও আছেন। আশরাফ হচ্ছেন আমাদের সেই খালু। আমার মনে হয় এই রিলেশনের ইতিহাস আপনাদের কে বুঝিয়ে বলতে হবে না। আসলে ইনার খালু হওয়ার ইতিহাস যদি বলতেই হয়, তাহলে অন্য পোষ্টে বলতে হবে। অনেক বিরাট ইতিহাস এটি। সর্বশেষ তথ্য, খালুকে সব জায়গায় এখন আর খালু বলা যাচ্ছে না। কিছু সমস্যা হচ্ছে। ফলাফল সরূপ সে কাল সাদের বাসায় বসে অন্য একটি খেতাব পেয়েছেন। "আঙ্কেল অ্যাশ" ... আশা করি খালুকে মাঝে মাঝে এই নামেও ডাকা হবে এখন থেকে।

ডিপার্টমেন্টে আমার একটি মেয়েও আছে !! মা ছাড়া মেয়ে আমার। নাজিয়া আলম নায়লা(ওরফে মুড়ির ঠোঙ্গা) হল সে। এই মেয়ে সব কিছু কম কম বুঝে। ধরেন আপনি একটা মজার কথা বললেন, সবাই হেসে গড়াগড়ি খেয়ে মাত্র উঠল। এরপর নায়লা জিজ্ঞেস করবে, এই তোরা হাসতেছিস কেন ? আরো ব্যাপার আছে। ধরেন সবাই মিলে গেলেন "শর্মা হাউজে" খেতে। নায়লাও গেল সবার সাথে। সে ওখানের কিছু খাবেন না! সে যাবে "হট কেক"এ। ওখান থেকে একখানা চকলেট কেন এনে সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাবেন। চকলেটও পছন্দ করে বাচ্চদের মত এই ময়েটি। সব মিলিয়ে সে হয়ে গেল সবার আদরের "মামনি"!! সাম্প্রতিক তথ্য, আমি আমার মেয়ের জন্য একখানা জামাই খুজঁছি। আর কি কিছু বলা লাগবে ? সেরকম কারো সন্ধান থাকলে জানাবেন !!

অনেক রিলেশন বললাম। এতক্ষনে বিরক্ত না হলেও এখন আরো বলতে গেলে নিশ্চিত ভাবে বিরক্ত হবেন। তাই ওই দিকে আর না আগাই। তারপরও কিছু ছোট ছোট রিলেশন(দূর্বল রিলেশন) আছে। যেমন রবিউল হল "কাকা", মেরী "বড় বউ", দিবা "ছোট বউ", সাদিয়া জানি কি হয়(কিছু একটা হয় আরকি), "পিক সামওয়ান অফ ইওর ওউন সাইজ" টাইপের জানি কে একজন আছে(!!) ... এই ধরনের আরো কিছু ছোট ছোট রিলেশন নিয়েই আমার ডিপার্টমেন্টাল জীবন।

একেবারে শেষে বলতে চাই, উপরের সবাইকে হয়ত মজা করে অনেক কিছু ডাকি। কিন্তু আমরা সবাই খুব ভাল বন্ধু। আই লাভ ইউ আলল ...

ভাল থাকবেন।

রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১১

আমার কন্টেষ্টময় জীবনের শুরুর কথা ...

ভাবছিলাম আতলামী করব না। এই ব্লগে প্রোগ্রামিং কন্টেষ্ট নিয়ে কিছু লিখব না। কিন্তু সেটা কোই আর পারলাম ? =))

আমি একটা কথা আগে বলে নেই, অনেকে অনেক কিছু হইতে চায় জীবনে। আমিও চাইছি। কিন্তু আর যাই চাইনা কেন ... আমি কখনো কম্পিউটার সায়েন্সে পড়তে চাইছি, এইটা কেউ বলতে পারবে না কখনোই। আমি খালি চাইছি ইঞ্জিনিয়ার হব। কিসের ইঞ্জিনিয়ার হব, অতকিছু চিন্তা করে রাখি নাই। উমমম ... দেশের সাধারন পাবলিকের সাথে এক মত প্রকাশ সরূপ এক কালে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চাইছিলাম। কিন্তু চাইলেই কি হইব নাকি ? কপালে ছিল সি এস ই ... কি আর করা ?

তো এই পোষ্ট আমার "কি হতে চেয়েছিলাম ছোটবেলায় ?" টাইপের কোন পোষ্ট না। সো, ওই ব্যাপারে প্যাচাল বন্ধ করি। আসল ব্যাপারে আসি। সি এস ই তে ভর্তি হয়ে দেখি একটা বড় ভ্যাজালের পরলাম। সাবাই খালি দুইটা জিনিশ নিয়া কথা কয় খালি। একটা হল C( প্রগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ছি :P) আরেকটা হল প্রগ্রামিং কন্টেষ্ট। আমার অবস্থা হল, যেহেতু কোন ব্যাপারে কোন নলেজ নাই ... তো ট্রাই টু সাক(চেখে দেখা আরকি) এভরিথিং। প্রথম প্রথম আমি অবশ্য খালি পড়তাম !!! কেন পড়তাম সেটা পরে বলতেছি। আমাদের জুন মাসে ইউনিভার্সিটি পুরা একমাস বন্ধ থাকে। তো ওই জুনের আগে আমাদের ফার্স্ট ইয়ারের "প্রগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ইন C" কোর্সের একটা ইনকোর্স পরীক্ষা হয়। তো অই পরীক্ষায় খাইলাম লাড্ডু। কারন আমি একেবারে শুরুতে প্রগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজকে একটা ফানি ব্যাপার ধরে ফালায়ে দিছিলাম। ভাবছিলাম, যাহ ... এইটা কুনো সাবজেক্ট হইলো ? আইবো আর ফু মাইরা জাষ্ট উড়ায়ে দিব। তো এই পরীক্ষায় সব কিছু উড়ায়ে দিতে গিয়া দেখি ... বাকি সব কিছু ঠিক মতই আছে, খালি আমি নিজে এত বড় একটা শরীর নিয়া উড়ে গেছি। কি আজব ব্যাপার। পরে নিজের বোধোদয় হল, নাহ এভাবে উড়ানো যাবে না। তো কি করা যায় ? পায়েল পোলাটা প্রগ্রানিংএ ভাল। ওকে আগেই মাঝে সাজে ধরতাম, কি করা যায় এই ব্যাপারে বুদ্ধি সুদ্ধি নেওয়ার জন্য। তো, ও অনেক আগে আমাকে দিয়া ইউভা নামের একটা সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে দিছিল। তো এইবার যখন ওকে ধরলাম জুনের আগে ... ও বলল, সামনে যেহেতু অনেক বড় বন্ধ। কন্টেষ্ট করে দেখতে পারিস। তো আমি একবার ভাবি শালা নিজে ওইডি করে ... এহন আমারেও ঢুকাতে চায়। তো আমি এখানে এক গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেলাম এখানে। নিজে অনেক ভেবেটেবে ডিসাইড করলাম ... না হয় দেখি গিয়ে কি আছে এতে ... ভাল না লাগলে না করলাম। তো ওই ভাবাই ছিল আমার জীবনের খুব সম্ভবত একি সাথে খুব ভাল এবং খুব খারাপ ডিসিশান। কারন, আমি একদিকে যেমন মজার চ্যালেঞ্জিং একটা জিনিস পাইলাম অপরদিকে নিজেকে একটা খুব কড়া একটা নেশার ফাঁদে ফেললাম। যেই ফাঁদ থেকে এখনো বের হতে পারি নাই। তাই পায়েলকে একি সাথে ধন্যবাদ/বকাঝকা দিলাম।

তো জুন মাসে আমার মনে আছে আমি ওই ইউভা সাইটে প্রায় ৮০টার মত প্রব্লেম সলভ করছিলাম। কন্টেষ্টে খুব ভাল একটা কিছু হইতাম না কখনোই। কিন্তু মনোয়ার স্যার(এই ব্যাক্তি হলেন আমার খুব খুব খুব ইনফিনিট সংখ্যক খুব পছন্দের মানুষ ... আশা করা যায়, উনাকে নিয়ে একটা পোষ্ট দিব পরে, তাই এখানে কিছু না বলি) যোবায়ের(পায়েল), সামাউন(যাকে অনেক আগেই আমি আমার পছন্দের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিছি ... জাষ্ট তখনকার কথা ভেবে লিখলাম), আশরাফ(পরে আমার টিমমেট) ... এদের উৎসাহে কন্টেষ্ট চালায়ে গেলাম। তখনকার মত কন্টেষ্ট করতাম ইন্ডিভিজুয়াল। মানে একা একা। আমার মনে আছে, ফার্ষ্ট কন্টেষ্টে আমি ৬টা প্রোব্লেমের মধ্যে মাত্র একটা অ্যাকসেপ্ট পাইছিলাম। কিন্তু আমি আর ৩টার সলুশানের খুব কাছে ছিলাম। আরো মনে আছে, ওইদিন সন্ধ্যায় পায়লের সাথে দেখা করতে ওর বাসায় গেছিলাম। তখন ও আমাকে দেখা মাত্র বলছিল, আরে তুই তো আজকে ফাটায়ে দিলি(!!!) ... আমি তো গেলাম ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে। মনে মনে অনেক হিসাব কষছি এই ভেবে যে, তবে কি কন্টেষ্টের পরে আমার আর ২/১টা অ্যাকসেপ্ট পেলো ?( =)) =)) =)) ব্যাপার হল আমি তখনো তেমন কিছু বুঝতাম না এই ব্যাপারে ...)। তো পরে ও বলল, আরে প্রথম কন্টেষ্ট হিসেবে তো তুই ব্যাপক করছিস(পুরাই চাপা, এই ছেলেটা এইরকম অসংখ্য চাপা মেরে তখন আমার উৎসাহে জোয়ার দিত)।তো আমিও মদনের মত ভাবলাম, আসলেই মনে হয় এইটা কুপানো পার্ফরমেন্স। তো যেহেতু একবার কুপায়ে দিছিই ... সামনে না জানি আর কত কুপানি বাকি আছে রে ... !!! এখন বুঝতে পারছেন আমি কতটা না বুঝে অন্ধের মত কন্টেষ্টে ঝাপ দিছিলাম !!!

আরেকটা ব্যাপার ছিল তখন, যেটা আমাকে কন্টেষ্টে উৎসাহ দিত। যারা কন্টেষ্ট করত, তারাই গলা উচায়ে ডিপার্টমেন্টে হাঁটত। অন্যরা এভাবে গলা উচায়ে হাটত না। তো আমারও গলা উচাইতে ইচ্ছা হইল। সো, ফলাফল সরূপ আমি হয়ে গেলাম কন্টেষ্টাইন।

এ তো গেল একদম শুরুর কথা। কিছু দিন পর মানে যখন আই.ছি.পি.ছি.(icpc) র জন্য সবাই প্রিপারেশান নিচ্ছিল। তখন দেখলাম কন্টেষ্টের আরেক রূপ। যেটাকে আবার সবাই কিনা বলে "টিম কন্টেষ্ট"। এখন পরলাম মহা মুছিবতে। কার সাথে টিম করবো ? কি ভাবে করবো ? আমি তখন নিজেই তেমন কিছু(বলা ভাল মোটেই কিছু) পারি না। আমাকে দলে নিবে কে ? উপরে একটু ভুল বললাম। ওইটা তখন icpc ছিল না। ছিল এমনি কোথায় জানি ... আচ্ছা মনে পরছে, ওইটা ছিল AUST-NCPC কন্টেষ্টের সময়কার ঘটনা। তো যেহেতু আমাকে নেওয়ার মত কেউ ছিল না(অনেকেই তখন সমানে ভাব নিছে ... পরে মনে রাখি নাই। মনে রাখলে জবাব দেওয়ার মত পজিশান আমিও এক সময় পাইছিলাম) আমি অনেকটা নিজেই একটা দল করলাম। এখানে একটা ব্যাপার, যেটা আমি এই পরিস্থিতি তে শিখছি ... নিজে ভাল হলে, আপনাই সবাই তাকে দলে নিবে। কিন্তু ভাল দল পেতে হলে, নিজেকে শুধু ভাল হলেই চলবে না ... নিজের স্বভাব ভাল করতে হবে। ( =)) =)) =)) অনেক গম্ভীর কথা কয়ে ফেললাম :P)। তো তখনকার মত একটা সমাধান পেলাম, শুভ। শুভর পরিচয় আমি এভাবে দিতে পছন্দ করি "আমার বন্ধু শুভ"। আসলেই তাই। আমার যে খুব কম কিছু ট্রু ফ্রেইন্ড আছে - শুভ তাদের একজন। ওকে নিয়ে পরে লিখব। তো যেটা হল, আমাদের ক্লাশের থেকে কয়েকটা টিম আসল। রিদোয়ান-সাকিন-যোবায়ের মিলে একটা টিম। সামাউন জানি কাকে নিয়ে একটা টিম করছিল(এই ছেলে এত বেশী টিমের মেম্বার ছিল যে কখন কোনে টিমে ছিল বলা মুশকিল)। সাদ-তামিম-মিশু একটা টিম ছিল। আশরাফ-মারুফ-তুহিন মে বি একটা টিমে ছিল। মুন্না মনে হয় সামাউনের সাথে ছিল তখন। আর আমি-শুভ ছিলাম একটা টিম। তো আমার মনে আছে ফার্ষ্ট টিম কন্টেষ্টে আমরা একটাও সলভ করতে পারি নাই। আশরাফরা জানি কেমনে কেমনে একটা করে ফেলছিল(পরে আশরাফের থেকে ওই সলভের জন্য কয়েকদিন ভাব সাব দেখতে হইছিল মনে আছে :P)।

AUST কন্টেষ্টের পরে পানি অনেক বইছে। আশরাফও ওর টিম থেকে বের হয়ে আসছে, শুভও কি কারনে জানি কন্টেষ্ট ছেড়ে দিছিল, যোবায়ের গেল একটা টিমে। আসিফ আসল রিদোয়ানদের টিমে। এই তখন অবস্থা। তো এমন সময় আমি আবার আবিষ্কার করলাম আমার কোন টিম নাই। আমার মেম্বার সার্সিং। শেষমেষ কাউরে না পাইয়া ম্যাডকে নিয়ে একটা টিম করলাম। এখানে একটা মজার ঘটনা আছে। আমি আর ম্যাড কন্টেষ্ট করতে ঢুকব কন্টেষ্ট রুমে, তখন ম্যাড আমাকে বলে, ওই আমার তো খালি লজ্জা লাগছে। মানুষের কন্টেষ্ট রুমে ঢুকতে ভয় করতে পারে, মানুষ নার্ভাস হইতে পারে, আনইজি ফিল করতে পারে ... কিন্তু লজ্জা কেমনে পায় আল্লাহই জানেন। তো ওকে নিয়ে ফার্ষ্ট কন্টেষ্টে আমার মনে আছে আমরা একটা প্রোব্লেম সলভ করছিলাম। ওইটা আমার মনে আছে ইউভার ৪০০/৪০১ নাম্বার প্রোব্লেম ছিল। ওইটা আমার কমন প্রোব্লেম ছিল।(মুশাকে করছিলাম) তো ওইটা করলাম। রিদোয়ানরা তখন আমাদের ডিপার্টমেন্টের উজ্জ্বল ভবিষৎ খেতাব প্রাপ্ত টিম ছিল। ওরাও ওইটা করছিল, কিন্তু আমাদের পরে। আর ওদের ওইটায় মনে হয় পেনাল্টি ছিল। ওরা আর করতে পারে নাই ওইদিন। ফলাফল, আমরা ওদের থেকে উপরে ছিলাম ওইদিন(:D :D)। পরে আমাদের সাথে মামনি(বাংলার ঠোঙ্গার রানী খ্যাত নায়লা) একদিন করছিল। পরে আমাদের পার্মানেন্ট মেম্বার হিসেবে আসল সাকিব। হ্যা হ্যা এই সেই সাকিব, যে কিনা এখন ম্যাড সাকিব হয়ে গেছে (:P :P)। তো আমাদের লাইন আপ শেষমেষ দাড়ালো আমি-ম্যাড-সাকিব এইটাইপের। 

এর মধ্যে শুভ আবার ব্যাক করল। নরমাললি টিম হয় তিন জনের। তো আমরা ভাবলাম আমরা তো ছোট, চার জনে করলে কিছু হবে না। সেই মত আমরা করতে থাকলাম। আমাদের মধ্যে সলভিং এরকম ছিল যে, শুভ ম্যাথ/জিওমেট্রি দেখত, ম্যাড-সাকিব(আই মিন ম্যাড আর সাকিব) দেখত সিমুলেশান, আমি বাকি সব(মানে ঘোড়ার ডিম :P আসলে সব কিছুই ট্রাই করতাম, যদিও পারতাম না কিছু)। এর মধ্যে অনেক ঘটনা ঘটে যায়। আশরাফ আমাদের টিমে আসে। ফলাফল, আমাদের টিমটা মুটামুটি ৫ জনের একটা আড্ডাবাজি গ্রুপ হয়ে যায়। খালা-মামনি একসাথে করত তখন। তো যেটা তখন হত, খালা-মামনিও কন্টেষ্ট শুরু হওয়ার দেড়-দুই ঘন্টা পরে চলে আসত। আর আমরা সবাই মিলে কন্টেষ্ট ফেলে আড্ডা মারতাম। অবশ্য, তখন ওই টিমের মামনি আর আমাদের টিমের ম্যাড কোন প্রোব্লেম হয়ত একসাথে ট্রাই করত। আর আমরাও এই আশায় বসে থাকতাম যে, ওরা যদি পেরেই যায় তাইলে তো ২টিমেরই হইল (:D :D :D)। আমরা এইরকম আড্ডাবাজী করে শেষে ইফতারি করে(তখন প্রতিদিন কন্টেষ্টের শেষে ইফতারি করাইত আমাদের ডিপার্টমেন্টে :D :D :D) বাসায় চলে জাইতাম আরকি। এই অবস্থা অবশ্য বেশী দিন ছিল না। পরে আমরা আবার সিরিয়াসলী কন্টেষ্টে ব্যাক করছি সেকেন্ড ইয়ারের শুরুতে। তখনকার লাইনআপ আমি-শুভ-আশরাফ।


এ সবই ছিল আমার কন্টেষ্টের শুরুর দিকের কথা। অনেক কথা বাদ পরছে ডেফিনেটলি। সব কিছুতো আর পুরা মনে নাই। সব ঘটনা এখানে বলাও সম্ভব না আসলে। অনেক বড় হয়ে যাবে। আমি জাষ্ট আর দুইটা ঘটনা বলব।

একদিন দেখি আশরাফ খালাকে ফ্লাডফিল দেখাচ্ছে। তো আমিও ওইটা ওর থেকে দেখে নিলাম। তো ওইদিনের কন্টেষ্টে একটা ফ্লাডফিল প্রব্লেম ছিল পানি-ভাত টাইপের। তো অনেক কষ্টে হইলেও ওইটা করছিলাম আমি আর সাকিব মিলে সেদিন। খুব মজা পাইছিলাম ওইটা অ্যাকসেপ্ট পেয়ে সেদিন। আরেকটা ঘটনা, তখন আমাদের ক্লাশের খালা-খালু জুটি হয়ে গেছে অথবা হবে হবে করছিল আরকি। আশরাফ তখন আমার সাথে কন্টেষ্ট করে। ওর সাথে সামাউনের একটা ব্যাপারে ঝামেলা হইছিল। তো হুট করে দেখি সামাউন তার নিউ টিম নিয়ে আসল। তার টিমমেম্বার খালা-মামনি। আমাদের আশরাফের দিকে তখন তাকানো যাচ্ছিল না। আহারে ... বেচারা !!!


এই লেখা এখনি শেষ করা দরকার। অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। ভাবছিলাম শুধু কন্টেষ্টের শুরুর দিককার কিছু স্মৃতি রোমন্থন করব কিছু। কিন্তু লিখে ফেললাম অনেক কিছু। কেউ যদি পড়ে, তাইলে বিরক্ত হতে পারে এই ভেবে এখানে শেষ করে দিলাম। শেষ করার আগে বলব, শুরুর দিককার দিনগুলোয় পায়েল, আশরাফ, সামাউন ... অনেক অনেক হেল্প করছে। অনেক সময়ই অনেক কোড দেখে দিছে। অনেক ধন্যবাদ তাদের। মনোয়ার স্যার অনেক উৎসাহ দিতেন। জান ভাইও অনেক উৎসাহজনক কথাবার্তা বলছেন। জামি ভাই, শিপলু ভাই, আনা আপু ... এরাও অনেক হেল্প করছেন। উনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

ভাল থাকবেন।